- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

রমজান মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়

আকরাম উদ্দিন
মেশকাত শরীফে উল্লেখ রয়েছে, হযরত আবু হোরায়রা (রা:) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, যখন রমজান মাস আসে, তখন আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করা হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। অপর এক বর্ণনায় আছে, রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়।Ñবুখারী ও মুসলিম শরীফ।
হযরত সাহল ইবনে সাদ (রা:) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে। তম্মধ্যে একটি দরজার নাম রায়্যান। রোজাদার ব্যক্তি ছাড়া ওই দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। Ñবুখারী ও মুসলিম শরীফ।
হযরত আবু হোরায়রা (রা:) বলেন, রাসুলুুল্লাহ (সা:) বলেছেন, যে ঈমানের সাথে ও পুণ্যের নিয়তে রমজানের রোজা রাখবে, তাহলে তার পূর্বের (সগীরা) গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে এবং যে ঈমানের সাথে ও পুণ্যের নিয়তে রমজানের রাত্রি ইবাদতে কাটাবে, তাহলে তার পূর্বের গুণাহসমূহ ক্ষমা করা হবে আর যে  
ঈমানের সাথে ও পুণ্যের নিয়তে ক্বদরের রাতে ইবাদতে কাটাবে তার পূর্বকৃত পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে। Ñবুখারী ও মুসলিম শরীফ।
হযরত আবু হোরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একবার রাসুলুলল্লাহ (সা:) বললেন, তোমাদের নিকট রমজান মাস বরকতময় মাস এসেছে। এর রোজা আল্লাহতা’লা তোমাদের ওপর ফরজ করেছেন। তাতে আসমানের দরজাসমূহ খোলা হয় এবং জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করা হয়। অবাধ্য সকল শয়তানকে শৃংখলিত করা হয়। আল্লাহর বিশেষ রহমতের জন্য তাতে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাস (৮৩ বছর ৪ মাস) অপেক্ষাও উত্তম। যে তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সে সকল প্রকার মঙ্গল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। (আহমদ ও নাসায়ী)।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, রোজা এবং কোরআন কিয়ামতে আল্লাহর নিকট বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে প্রভু, আমি দিনে তার খানা ও প্রবৃত্তি থেকে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতে নিদ্রা যেতে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতএব, উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে। (বায়হাকী শোয়াবুল ঈমান)
হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, যখন রমজান মাস উপস্থিত হতো, রাসুলুল্লাহ (সা:) সমস্ত কয়েদীকে মুক্তি দিতেন এবং প্রত্যেক ভিক্ষুককে দান করতেন।
হযরত ইবনে ওমর (রা:) হতে বর্ণিত, নবী করিম (সা:) বলেছেন, রমজানের জন্য জান্নাত সাজানো হয়ে থাকে বছরের প্রথম হতে পরবর্তী বছর পর্যন্ত। তিনি বলেন, যখন রমজানের প্রথম দিন উপস্থিত হয়, জান্নাতের গাছের পাতা থেকে আকাশের নিচে বড় বড় চক্ষুধারিনী হুরদের প্রতি হাওয়া প্রবাহিত হয়। তখন তারা বলেন, হে প্রভু, আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে আমাদের জন্য এমন স্বামী নির্দিষ্ট করুন, যাদের দেখে আমাদের চোখ জুড়াবে এবং আমাদের দেখে তাদের চোখ জুড়াবে। (আর রোজাদারদেরকেই করা হবে তাদের স্বামী)। উক্ত হাদিস তিনটি বায়হাকী সোয়াবুল ঈমানে বর্ণনা করেছেন।) তথ্য সূত্র: মেশকাত শরীফ।
লেখক সাংবাদিক ও গল্পকার, সুনামগঞ্জ।

  • [১]