সিলেট অফিস
অবশেষে আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের এক মাস আগেই সিলেটের শিল্পপতি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগান জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাতের আলোচিত সেই মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন)। রবিবার সিলেটের মহানগর মুখ্য হাকিম সাইফুজ্জামানা হিরোর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন পিবিআই সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহান।
যোগাযোগ করলে পিবিআইয়ের সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুই মামলার একটিতে তারাপুর চা-বাগানের বৈধ মালিক পংকজ কুমার গুপ্তকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই মামলায় রাগীব আলী, তাঁর ছেলে, মেয়ে ও মেয়ের জামাতাসহ আত্মীয় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মৃত্যুবরণ করায় রাগীব আলীর স্ত্রীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, দবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগানের জায়গায় বিধি বহির্ভূতভাবে স্থাপনা নির্মাণ করায় ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত তৎকালীন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তদন্ত করে সত্যতা পায়। পরবর্তীতে সংসদীয় উপকমিটি চা-বাগানে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার নেওয়ার সুপারিশ করে। এ সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সিলেট সদর ভূমি কমিশনার এসএম আবদুল কাদের বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় দুটো মামলা করেন। পরবর্তীতে এ মামলা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিত করা হয়। পরে পুলিশ তদন্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল।
গত ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগান পুনরুদ্ধারে রায় দেন। এতে ওই দুটো মামলা সক্রিয় করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। উচ্চ আদালতের এ নির্দেশনার বিষয়ে গত ১৬ মার্চ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) একটি আবেদনের মাধ্যমে মুখ মহানগর হাকিম আদালতকে অবহিত করেন। আদালত ওই দিন আবেদন গ্রহণ করে গত ২২ মার্চ আদালত এক আদেশে সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশকে তদন্ত করে ৭ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই দিন আদালত এক আদেশে মামলা দুটোর তদন্তভার পিবিআইকে দিয়ে ২৫ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন।
পিবিআই ২৫ এপ্রিল তদন্তে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে সময় প্রার্থনা করে। আদালত এক মাস সময় বর্ধিত করে ২৫ মে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন। ওই দিন পিবিআই আবারও সময় প্রার্থনা করলে ১৬ জুন সময় দেন। ওই দিনও সময় প্রার্থনা করলে আদালত ২৫ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ওই দিনও আদালতে চতুর্থদফায় সময় বর্ধিত করতে পিবিআই সিলেটের পক্ষ থেকে চতুর্থদফা সময় বাড়ানোর আবেদন করলে আদালত ব্যাখ্যাসহ আগামী ১০ আগষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের এ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় এক মাস আগেই রবিবার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দাখিল করা অভিযোগপত্রের ওপর আগামী ১০ আগষ্ট আদালতে শুনানি হবে বলে আদালত সূত্র জানায়।
পৃথক দুটো মামলার মধ্যে ভুমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির মামলার অভিযোগপত্রে রাগীব আলী (৭৫) ও তাঁর একমাত্র ছেলে আবদুল হাইকে (৪৫) অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাগীব আলী, তারাপুর চা-বাগানের মালিক (সেবায়েত) পংকজ কুমার গুপ্ত, রাগীবের আত্মীয় মৌলভীবাজারের রাজনগরের বাসিন্দা দেওয়ান মোস্তাক মজিদ (৫৫), রাগীবের ছেলে আবদুল হাই, রাগীবের মেয়ের জামাই আবদুল কাদির (৫৫) ও মেয়ে রুজিনা কাদিরকে (৪৮) অভিযুক্ত করা হয়। এ মামলায় আসামি রাগীবের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন ২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করায় তাঁকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে রাগীব ও তাঁর ছেলে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে জামিনে রয়েছেন এবং বাকি আসামিরা পলাতক উল্লেখ করা হয়েছে। দুই মামলায় সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক এস এম ফয়সল আলম, ১৮ জন পুলিশের উপপরিদর্শকসহ ৩৩ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে।