- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

রাজপথে সোচ্চার মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
দিরাইয়ে যাত্রীবাহী বাসে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার প্রতিবাদে এবং ঘটনার সাথে জড়িত বাস চালক, কন্ট্রাকটর ও হেলপারকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সুনামগঞ্জ নারী নির্যাতন ও সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটি।
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শহরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বক্তারা কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার সাথে জড়িত বাসের চালক, হেলপারসহ সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পাঞ্চালী চৌধুরী, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, প্রথম আলো’র নিজস্ব প্রতিনিধি অ্যাড. খলিল রহমান, তাহের আলী, আইনজীবী এ,আর জুয়েল, জেলা যুব ইউনিয়ন সভাপতি মো. আবু তাহের মিয়া, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আসাদ মনি প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদ-ের বিধান রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করেছে সরকার। গত ১৩ অক্টোবর থেকে আইনটি কার্যকর হয়েছে। কার্যকর হওয়ার পরের দেখা গেছে ধর্ষণের পরিমাণ কমেনি। বরং পরের মাসে ৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সরকারকে ধর্ষণ বন্ধ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মানববন্ধনে সারাদেশে নারী শিশু ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন ও ধর্ষকের আশ্রয়দাতাদের বিচার করা, বিচার বিভাগীয় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ধর্ষণের তদন্ত করা, মামলার শুনানিকালে জেরার নামে ধর্ষিতাকে পুনরায় নির্যাতন বন্ধ করা, ধর্ষণের প্রমাণের জন্য ডিএনএ টেস্ট এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা, ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিলে নারীর প্রতি কটুক্তি ও অশ্লীল মন্তব্য নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইন করার দাবি জানান বক্তারা।
প্রসঙ্গত, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় সিলেটের লামাকাজী থেকে দিরাইয়ে আসার পথে দিরাই পৌরসভার সুজানগর গ্রামের পাশে যাত্রীবাহী বাসে একা পেয়ে ড্রাইভার, কন্টাক্টর ও হেলপার ওই কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় ওই ছাত্রী চলন্ত বাস থেকেই লাফিয়ে পড়ে। আহত অবস্থায় তাকে দিরাই হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় নির্যাতিতার স্বজনসহ স্থানীয়রা রাতে দিরাই থানার সামনে বিক্ষোভ করে। পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে। তবে ড্রাইভার, কন্ট্রাক্টর (ভাড়া আদায়কারী) ও হেল্পার পলাতক রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত বাস চালকের নাম শহীদ মিয়া (২৭)। সে সিলেটের জালালাবাদ থানার মোগলগাঁও ইউনিয়নের মোল্লারগাঁও গ্রামের মাইন্না মিয়ার ছেলে। শহীদ মিয়া বিবাহিত ও দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে তার। তার ভাইও বাসের চালক। তবে অন্য দুই অভিযুক্তের নাম-ঠিকানা নিশ্চিত করতে করতে পারেনি কেউ।
শনিবার রাতেই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বাসের ড্রাইভার, কন্টাক্টর (ভাড়া আদায়কারী) ও হেল্পারকে আসামী করে দিরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। তবে রবিবার দুপুর পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ। নির্যাতিতা ছাত্রীর বাড়ি দিরাই পৌর শহরের মজলিশপুর গ্রামে। সে দিরাই ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, নির্যাতিতার বাবা বাদী হয়ে বাসের ড্রাইভার, কন্টাক্টর (ভাড়া আদায়কারী) ও হেল্পারকে আসামী করে দিরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত সকল আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • [১]