আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
হাওর পাড়ের কৃষকদের শেষ ভরসা ‘শনির হাওর’। তাই বাঁধ রক্ষায় প্রাণপণ দিনভর বাঁধে কাজ করে যাচ্ছেন হাজারো কৃষক। দিনের শেষে সন্ধ্যা হলেই প্রতিটি বাঁধে রাত জেগে বাঁধ রক্ষায় পাহাড়া দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই উপজেলা সদর বাজারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর পক্ষ থেকে মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হয় আগামীকাল দুপুরের খাবারসহ সকল কৃষককে বাঁধে যাওয়ার জন্য । বৃহস্পতিবার জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ সহ তিন উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ২ সহ¯্রাধিক শ্রমিক স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেন শনির হাওরের সাহেবনগর, বগিয়ানী, লালুরগোয়ালা, ঝালখালি, নান্টুখালি ও ইক্রামপুর বাঁধে। এ নিয়ে টানা ৭ দিন স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁেধ কাজ করে যাচ্ছেন তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের চিকসা, বীরনগর, জয়নগর, উজান তাহিরপুর, মধ্য তাহিরপুর, ভাটিতাহিরপুর, গোবিন্দ্রশ্রী, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর, মাড়ালা, বালিজুরী ইউনিয়নের আনোয়ারপুর, দক্ষিণকুল, লোহাচুরা, বারুঙ্কা, পাতারি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ই্উনিয়নের ধাওয়া, বাগুয়া, বসন্তপুর, রাজেন্দ্রপুর, খিদ্দরপুর জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের মশলঘাট, রাধানগর, ইসলামপুর সহ অর্ধশতাধিক
গ্রামের ৩ সহ¯্রাধিক কৃষক ও শ্রমিক। সকল কৃষকেরই আশা তাদের শেষ সম্বল শনির হাওরটি রক্ষা করা।
ইতিমধ্যে পাহাড়ি ঢলের পানি তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক হাওর।
উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের পাতারী গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, একমাত্র শনির হাওরটি রক্ষা হলে ধানের পাশাপাশি গরুর খাবারও সংগ্রহ করা যাবে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের কৃষক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শনির হাওরটি রক্ষা করার জন্য হাজার হাজার কৃষক সপ্তাহ খানেক ধরে রাত-দিন পরিশ্রম করে বাঁেধ কাজ করছে।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম, মহিবুর রহমান ,উজান তাহিরপুর গ্রামের শামীম আহমদ সহ একাধিক কৃষক জানান, হাওরের বাঁধগুলো যখন থেকে হুমকির মুখে পড়ে তখন থেকেই পিআইসিরা গা ঢাকা দিয়েছে। বর্তমানে হাওরপারের কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধে কাজ করছে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও শনি হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন বলেন, সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে বৃহৎ বোরো ফসলি ধানের হাওর শনি এখনো টিকে রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ হাওরটি রক্ষার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, এক সপ্তাহ ধরে শনির হাওরে তিন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ বাঁেধ কাজ করছে।
সুনামগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, সুনামগঞ্জ জেলার বৃহৎ বোর ফসলী হাওর শনির হাওরটির বাঁধ রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় যা কিছু প্রয়োজন আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।