স্টাফ রিপোর্টার
প্রবীণ শিল্পীদের দিয়ে রাধারমণের দত্তের গান রেকর্ড করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ নিলে রাধারমণের গান কিছুটা হলেও আমরা সংরক্ষণ করতে পারব। এটি থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্ম উপকৃত হতে পারবে। না হলে গানের মূল সুরটা পরবর্তিতে আমরা খুঁজে পাব না। তবে এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী খান একবার বলেছিলেন, রাধারমণ হলেন সুনামগঞ্জের রবীন্দ্রনাথ। উনার গানে কথায় বাণীতে বা সুরে এমন একটা মাধুর্য্য আছে যা অন্যদের নেই। অবশ্য প্রত্যেক লোককবির একটা আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট রয়েছে।
বুধবার বিকালে প্রথমবারের মতো বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্তের ১৮৮তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী দেবদাস চৌধুরী রঞ্জন। তিনি বলেন, অনেকে রাধারমণের গানকে নিজের বলে দাবি করছেন। কিন্তু কেউ বলছেন না কি করে নিলেন বা দাবি করলেন কিভাবে। আমি এই বিতর্কে যাব না। আমি বলবো, যাতে আমরা রাধারমণকে নিয়ে অনেক কাজ করতে পারি। এছাড়াও আমাদের হাছন রাজা, দুর্বিন শাহ, শাহ আব্দুল করিম কে নিয়েও কাজ করতে হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির ফেসবুক পেজে ভাচ্যুয়ালি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাবেল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বরেণ্য ব্যক্তিদের জন্ম-মৃত্যু সময়টাকে ধরে কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এছাড়াও সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের একটি কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। গত ২২ মে মহাপরিচালক স্যারের সাথে একটি সভায় আমাদেরকে জানানো হয়েছে, বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্ত, বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিম ও দুর্বিণ শাহ’র নামে পৃথক কমপ্লেক্স নির্মিত হবে। ফ্যাজিবিলিটি স্টাডির জন্য প্রতিনিধি দল আসবে।
এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ধামাইল গানের কিংবদন্তি শিল্পী কুমকুম চন্দ, ‘ও নয়ন বুলিয়া রইল গৌরাঙ্গ রুপে প্রাণ নিল গ নিল’, ‘আমার নিত্যি জলে যাইতে হয় জল ব্যাপার তো সহজ বাপার নয়’ ও ‘নতুন জামাই পাইছি আমরা ছাড়ব না’ গেয়ে শোনান।
এছাড়াও পূর্বা দে ‘এমন মায়ার কান্দন আর কেদোনা রাই বিনোদিনী’, ‘জলে যাইও না গো রাই, আইজ কালিয়ার জলে যাওয়ার জাতের বিচার নাই’ এবং ‘প্রাণ সখিরে…ঐ শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে’।
বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী দেবদাস চৌধুরী রঞ্জন ‘ আমারে বন্ধুয়ার মনে নাই ….জাতি যুঁথি ফুল মালতী, বিনি সুতায় মালা গাঁথি গো’, ‘আমার শ্যাম জানি কই রইলো গো শ্যামরুপে মন প্রাণ নিল’ এবং ‘ বাঁশি ধইরা মারল টান উড়াইল রাধারও প্রাণ রে—–তুমি যাইও জলে জলে আমি থাকবো কদম তলে’।
গবেষক ও সংগীত শিল্পী মোশারফ হোসেন ‘কালায় প্রাণটি নিল বাঁশিটি বাজাইয়া আমারে যে থুইয়া গেল উদাসী বানাইয়া রে’ এবং ঘরে বসে নিরবধি প্রাণবন্ধের নামটি লইও রে—-পাড় হইবো পাড় হইবো বলে আমার দিন তো গেল বইয়া’
এবং ইন্দ্রজিৎ সূত্রধর ‘আমি করি কি উপায় দোষে দোষি বানাইল কালায়..’ এবং ‘নদীর পাড়ে হবে রে মন তোমার শেষের বিয়া……..’ গান পরিবেশন করেন।
