- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

রানীগঞ্জে ওবায়দুল কাদের- রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত দেবেন আ.লীগ তা মেনে নেবে

অমিত দেব ও আলী আহমদ (রানীগঞ্জ থেকে ফিরে)
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী যে সিন্ধান্ত দেবেন, সেটি যদি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও যায় আমরা তা মেনে নেব।’
শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি সড়কের (আবদুস সামাদ আজাদ সড়ক) রানীগঞ্জ এলাকায় কুশিয়ারা নদীর ওপর ১২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন,‘আমরা রাষ্ট্রপতিকে বলেছি, বিএনপিসহ সকল দলই নির্বাচনে আসুক আমরা চাই, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচন হবে, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন চলবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে, সরকার কেবল রুটিন ওয়ার্ক করবে, সরকার কোন কাজ করতে পারবে না, মেজর কোন সিদ্ধান্তও নিতে পারবে না’।
বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলনে-নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন নালিশ পার্টিতে পরিণত হয়েছে। শুধু নালিশ করাই তাদের কাজ। তারা উন্নয়ন দেখে না। তারা বলেছিল পদ্মা সেতু করতে পারব না। এখন ৪০ভাগ কাজ হয়ে গেছে। এখন হয়তো বিএনপি বলবে সেতুর সিমেন্ট-রড় ভালো না, এই সেতু ভেঙ্গে পড়তে পারে। তারা ভাঙা রেকর্ড বাজাচ্ছে, আওয়ামী লীগ সংবিধানের বাইরে কোন সিদ্ধান্ত নেবে না’।
আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। জনবিচ্ছিন্ন সংসদ সদস্যদের আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন      
 পাওয়া কঠিন হবে। এক শ্রেণির নেতা-কর্মী আছে, যারা মনে করে সরকারের শেষ সময়ে কিছু খেয়ে ফেলি। এই খাই খাই ভাব এখনই বন্ধ করতে হবে। তিনি নেতাদের ক্ষমতার দাপট দেখাতে নিষেধ করেন।’
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,‘দেশ যেন নেতায় ভরে গেছে। মঞ্চে নেতাদের ভিড়ে দাঁড়ানো যাচ্ছে না। আমরা নেতা তৈরির কারখানা নয়, কর্মী তৈরির কারখানা চাই। সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনীই আওয়ামী লীগের সম্পদ।’
মন্ত্রীর আগে বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সাংসদ এম এ মান্নান ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ।
এ সময় সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ শামসুন্নাহার বেগম শাহানা, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান, সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশীদ,  জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুল, জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক আহমদ, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আকমল হোসেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম, জামালগঞ্জের সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ, ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করীম রিজু, ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুন্দর আলী, জেলা পরিষদ সদস্য জহিরুল ইসলাম জহির প্রমুখ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত. ২০১৪ সালের ২৫ জুন একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী অত্যাধুনিক বক্স গার্ডার বিশিষ্ট এই সেতুর ১২৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেন। গত বছর জুন মাসে সেতুর দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রে অংশ নেয় দেশী বিদেশী তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। অবশেষে যৌথভাবে কাজ পায় চায়নিজ  কোম্পানী সিআর ২৪ বি এবং বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান এমবিইএল। ৭০২ দশমিক ৩২ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্তের অত্যাধুনিক বক্স গার্ডার সেতুটি হবে দুই লেন বিশিষ্ট। সেতুর দুই পাশে লোকজন চলাচলের জন্য থাকবে ফুটপাত। মুল সেতুর বাইরে থাকবে ২ দশমিক ৫ কিলোমিটর এপ্রোচ সড়ক। এই সেতুটি সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ সেতু। সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে যান চলাচল শুরু হলে সুনামগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার দুরত্ব ৬০ কিলোমিটার কমে যাবে।

  • [১]