স্টাফ রিপোর্টার
ধর্মপাশা উপজেলায় মধ্যনগর থানার চামরদানী ইউনিয়নের রামদিঘা গ্রামের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনসহ চার জনের মৃত্যুর ঘটনায় ৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের নিহত হওয়ার ঘটনায় একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এ রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রবিবার এ রুল জারি করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনে দায়িত্বে অবহেলা ও মানুষের জীবনরক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা-ও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ রুল জারি করা হয়।
এ বিষয়ে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সচিব, পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ), নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার ও মধ্যনগর থানার ওসিকে রুলের জবাব দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ধর্মপাশা উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের তার ছিড়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে রামদিঘা গ্রামে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৮ টায় বারান্দার কাছে উঠোনে বসে চা-মুড়ি খাচ্ছিলেন রঞ্জিত সরকার (৪৫)। একই সময় মুড়ি হাতে নিয়ে তার স্ত্রী রীতা সরকারও (৩৫) রঞ্জিতের কাছে আসছিলেন। এসময় নেত্রকোনার বারহাট্টা থেকে ধর্মপাশা-মধ্যনগর হয়ে রামদিঘা গ্রামে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের ২২০ ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন ছিড়ে রঞ্জিত সরকার ও তার স্ত্রী রীতা সরকারের উপরে পড়লে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যান। এসময় রঞ্জিত সরকারকে উদ্ধার করতে পাশেই দাঁড়ানো রঞ্জিতের বাবা জগদীশ সরকার (৭০) এগিয়ে ছেলেকে ধরতেই তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এই তিন জনের ছটফটানি দেখে পাশেই থাকা প্রতিবেশি রাকেশ দাস’র মেয়ে সোনালী দাস (১০) এগিয়ে গেলে সেও বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই এই ৪ জনের মৃত্যু ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহতদের মৃতদেহ বিদ্যুতের তারে একেবারে পেঁচিয়ে গিয়েছিল। ৪ জনের মৃত্যুই ছিল মর্মস্পর্শি।
এদিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত রঞ্জিত চন্দ্র সরকারের ছোট ভাই গত ২মে সোমবার রিপন চন্দ সরকার বাদী হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন কাজে জড়িত অজ্ঞাতনামা ঠিকাদার ও কর্মচারীদেরকে আসামি করে মধ্যনগর থানায় এই মামলা করেন। বিষয়টি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পর গত ২ মে হাইকোর্টের আইনজীবী চঞ্চল বিশ্বাস একটি রিট করেন। রবিবার চঞ্চলের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অমিত দাসগুপ্ত ও ব্যারিস্টার সৌমিত্র সরদার। শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন।