- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

রাষ্ট্রপতি সুনামগঞ্জে আসছেন আজ- শুনবেন কৃষকদের দুর্দশা ও দাবির কথা

বিশেষ প্রতিনিধি
মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ সোমবার বেলা আড়াইটায় সুনামগঞ্জে আসবেন। সন্ধ্যা ৭ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে তিনি হাওরের ফসল ডুবি এবং কৃষককের দুর্ভোগ নিয়ে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ বিশিষ্টজনদের সঙ্গে কথা বলবেন। রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে জেলাজুড়ে কষ্টে জর্জরিত কৃষক ও কৃষক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। শিক্ষাবিদ থেকে কৃষক নেতারা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতি নিজেও হাওরবাসী, তিনি হাওরের পুঞ্জিভুত সমস্যার কথা জানেন। হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রত্যাশা, তাদের দাবি-দাওয়ার কথা শুনবেন তিনি।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা হাওর উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন,‘মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের দাবি হচ্ছে নদী খনন করে বেড়ী বাঁধ করতে হবে এবং ঐ বেড়ী বাঁধে প্রটেকশন দেওয়াল থাকতে হবে। এখনকার বেড়ীবাঁধ প্রকারান্তরে মরণফাঁদ। বেড়ী বাঁধের ৭০ শতাংশ মাটি নদীতে চলে যায়। ৩০ শতাংশ মাটি পানিতে মিশে যায়। বাঁধের পাশের যে অংশ থেকে মাটি তোলা হয় সেখানে আরেক নদী হয়ে যায়। বাঁধ ভেঙে যাবার আশংকা থেকে যায়। এই প্রক্রিয়ায় বাঁধ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।’ তিনি বলেন,‘এবার কৃষকরা বাড়ি রক্ষার সংকটে পড়েছেন। হাওরে আগে পানি আসায় এবার চাইল্লাবন পাওয়া যাবে না। আফালের ঢেউ থেকে বাড়ি       
রক্ষার ব্যবস্থা নেই কৃষকদের। জমি পানিতে গেছে, কয়েকদিন পর বাড়ি ঢেউয়ের কবলে ভাসবে। এই আশংকায় বাড়ি ছেড়ে কাজের সন্ধানে যেতে পারছেন না কৃষকরা। অন্যদিকে, খাবারেরও ব্যবস্থা নেই। ওএমএস’র চাল অনেক দূরে পৌরসভা এলাকা থেকে গিয়ে আনতে হয়। ওখানে টাকা পয়সা খরচ করে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল পাচ্ছেন না কৃষকরা।’
জেলা সিপিবি’র সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন,‘মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের দাবি এই মুহূর্তে সুনামগঞ্জের হাওরের কৃষকদের বাঁচানোর জন্য ১০ টাকা কেজি’র চাল জনসংখ্যা অনুযায়ী বিস্তৃত করতে হবে। মানুষের অর্থ সংকট নিরসনের জন্য ভাসান পানিতে মাছ ধরার ব্যবস্থা করতে হবে। সুনামগঞ্জকে দুর্গত ঘোষণা করতে হবে। পাহাড়ী ঢল যেখান থেকে শুরু, সেখান থেকে বা নদীর উৎস্যপুঞ্জিস্থল থেকে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে নদী খননের কাজ করতে হবে।’
কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল বাশার ঠাকুর খান বলেন,‘কৃষকদের বেঁচে থাকার জন্য প্রত্যেক গ্রামে ১০ টাকা কেজি’র চাল বা রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। খাদ্যপণ্য কেনার টাকার নিশ্চয়তার জন্য ইজারাকৃত সকল হাওর-বিলের ইজারা এক বছরের জন্য বাতিল করে উন্মুক্ত করে দিতে হবে। প্রত্যেক কৃষক পরিবারকে আপৎকালীন সহজশর্তে ৫০ হাজার টাকা করে বিনা সুদে ঋণ দেবার দাবি থাকবে আমাদের। একই সঙ্গে কৃষি কার্ড প্রদানে যেন দলীয়করণ না হয় সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখার দাবি জানাবো আমরা’।
শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে বলেন,‘হাওরাঞ্চলের মানুষের এই দুর্যোগে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য মিডডে মিল চালু করা দরকার। মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোতে আগামী ফসল ওঠা পর্যন্ত ছাত্রবেতন মওকুপ কিংবা শতভাগ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা জরুরি। অন্যথায় অভাবের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হতে পারে।’
পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ্ খান রোববার বিকালে রাষ্ট্রপতির সফর কর্মসূচি নিয়ে কথা বলার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন,‘র‌্যাব, পুলিশ এবং এনএসআইয়েরই প্রায় ১ হাজার নিরাপত্তাকর্মীকে ৬ স্তরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে রাষ্ট্রপতির সফরকে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা দেবার জন্য। এছাড়া সেনাবাহিনী, এসএসএফ, বিজিবিসহ অন্য অন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীরাও কাজ করছেন।’
নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) অঞ্জন দাস জানান, মহামান্য রাষ্ট্রপতি দুপুর ১২ টায় বঙ্গভবন থেকে রওয়ানা দিয়ে বেলা আড়াইটায় পুলিশ লাইন্স মাঠে এসে নামবেন। ২০ মিনিটের মধ্যে সার্কিট হাউসে পৌঁছে দুপুরের খাবার গ্রহণ করবেন। এরপর তিনি শহরের ডিএস রোডের ‘ঐতিহ্য যাদুঘর’ পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমীর হাসনরাজা মিলনায়তনে জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিশিষ্টজনদের সঙ্গে হাওরাঞ্চলের দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করবেন। রাতে সার্কিট হাউসে যুদ্ধকালীন সময়ের সতীর্থদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

  • [১]