- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

রুপাবালী সরকারি প্রাইমারী স্কুল- জিন্নাহ’র নাম মুছার জোরালো দাবি

বিন্দু তালুকদার
জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের রুপাবালী গ্রামের ‘জিন্নাহ মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ থেকে পাকিস্তানি নেতা জিন্নাহ’র নাম দ্রুত মুছে ফেলার দাবি জানিয়েছেন জেলার মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দ্রুত জিন্নাহ’র নাম মুছে ফেলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, অথবা তার কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা রুপাবালী গ্রামের নামে বিদ্যালয়টি নামকরণের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।  
জামালগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক রুপাবালী গ্রামের বাসিন্দা মনসুর আলম বলেন,‘ পাকিস্তান আমলে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালে এটি পাকিস্তানের নেতা জিন্নাহ’র নামে নামকরণ হয়ে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই আমরা এই নামটি নিয়ে লজ্জাজনক অবস্থায় আছি। আমরা চাই দ্রুত জিন্নাহ’র নাম মুছে ফেলা হোক। ২০০৫ সাল থেকে আমরা নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান মহোদয়কে অবগত করেছি। ’
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদে চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীনের ৪৫ বছরও সরকারি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পাকিস্তানী নেতার নামে চলবে এটা আমরা মানব না। এবং এই নাম আমরা রাখতে দিব না। যত দ্রুত সম্ভব      জামালগঞ্জের রুপাবালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জিন্নাহ’র নাম মুছে ফেলতে হবে। জিন্নাহ’র নাম মুছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  নামে নামকরণ করা হোক। সব ধরনের উদ্যোগের সাথে থাকবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সুনামগঞ্জ জেলা শাখা।’
জামালগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার অ্যাড. আসাদ উল্লাহ সরকার বলেন,‘ প্রথমে আমরা মনে করতাম এটা হয়তো গ্রামের কারো নামে। কিন্তু পরে জানা যায় এটা পাকিস্তানের নেতা জিন্নাহর নামে। তাই জিন্নাহ’র নাম কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দ্রুত এই নাম মুছে ফেলতে হবে, শুধু ভবন থেকেই নয়, কাগজে-কলমে জিন্নাহ’র নাম পরিবর্তন করতে হবে। ’
তিনি আরো বলেন,‘দেশ স্বাধীনের আগে আমি ঢাকার কায়েদে আজম কলেজে পড়তাম। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর সেই কলেজের নাম পরিবর্তন করে শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ নামে নামকরণ করা হয়। তাহলে রুপাবালী গ্রামের বিদ্যালয়টির নাম কেন পরিবর্তন করা যাবে না। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে অবশ্যই জিন্নাহ’র নাম পরিবর্তন করা সম্ভব।’
মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষা কেন্দ্র সুনামগঞ্জ এর আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেন,‘ ৪৫ বছর ধরে রুপাবালী গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জিন্নাহ’র নাম বহাল থাকায় আমরা বিষ্ময় প্রকাশ করছি। এই ব্যর্থতার দায়ভার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের পাশাপাশি আমাদেরও। আগামী বিজয় দিবেসই জিন্নাহ’র নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু বা কোন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা অথবা রুপাবালী গ্রামের নামেই বিদ্যালয়ের নামকরণের উদ্যোগ নেয়া হবে।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন,‘ জামালগঞ্জে গত ৪৫ বছর ধরে পাকিস্তানের জিন্নাহ’র নামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে এই বিষয়টি কেউ কোনদিন বলেন নি। বিদ্যালয়ে জিন্নাহ’র নাম কোনভাবেই রাখা যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব নাম পরিবর্তনের জন্য আমি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব। ’
উল্লেখ্য, বাঙালি জাতির চিরশত্রু পাকিস্তানের নেতা জিন্নাহ’র নামে রুপাবালী গ্রামে ‘জিন্নাহ মেমোরিয়েল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ অবস্থিত। জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের রুপাবালী আর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দাগাঁও গ্রামবাসীর উদ্যোগে বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়েছিল।
শুরুতেই বিদ্যালয়ের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে জটিলতা দেখা দেয়। রুপাবালী গ্রামের ভুমি দাতা আব্দুর রাজ্জাক তৎকালীন সময়ে পাকিস্তানের তথাকথিত লৌহমানবকে খুশী করতে তার নামে বিদ্যালয়ের নাম রাখেন ‘জিন্নাহ মেমোরিয়েল প্রাথমিক বিদ্যালয়’। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর সরকারি এই বিদ্যালয় থেকে জিন্না’র নাম মুছার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এলাকার কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর এই উদ্যোগ আর কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করলে প্রশাসনের নজর কাড়ে। সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। নামকরণ বদলানোর জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও অনুরোধ জানিয়েছে পত্র লিখেন। উপজেলা শিক্ষা অফিস একটি তদন্ত প্রতিবেদনও পাঠায়।

  • [১]