- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

রুবেল চন্দ্র তালুকদার

আকরাম উদ্দিন
রুবেল চন্দ্র তালুকদ্রা শাল্লার নাইন্দা গ্রামে জন্মগ্রহণ করে এখন ফলিত পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণায় ব্রতী হয়ে সুনামগঞ্জ তথা বাংলাদেশের সুনাম উজ্জ্বল করছেন। রুবেল সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৪ সনে এসএসসি পাস করার পর সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এপ্লায়েড ফিজিক্স, ইলেকট্রিক এন্ড টেলি কমিউনিকেশন বিষয়ে মাস্টার্স করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার পর কানাডা সরকারের বৃত্তি নিয়ে রুবেল ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোভা, কানাডায় ইলেকটিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পুনরায় এমএসসি করেন। এমএসসি শেষ করার পর একই বিষয়ে পিএইচডি করার জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক জর্নাল অপটিকস লেটারসে তার একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তার অপর একটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জর্নালে প্রকাশের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। রুবেল ছাত্র জীবনের শুরু থেকেই প্রখর মেধার পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। প্রাইমারি বৃত্তি, জুনিয়র বৃত্তি লাভসহ এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। রুবেলের পিতা রবীন্দ্র চন্দ্র তালুকদার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক হিসাবে সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মরত আছেন।
আন্তর্জাতিক জর্নালে প্রকাশিত তার গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বাংলা ভাষায় সংক্ষিপ্তভাবে লিখে দিতে বললে রুবেল ই-মেইলে নিচের লেখাটি পাঠিয়েছেন।
গবেষণাপত্র বিষয়ে রুবেল

গতকাল অপটিক্যাল সোসাইটি অফ আমেরিকা (OSA) হতে প্রকাশিত প্রখ্যাত জার্নাল অপটিক্স লেটারসে (Optics Letters) আমার প্রথম জার্নাল পেপার প্রকাশিত হয়েছে।
পেপার টাইটেলঃ Multi-Watt Continuous Wave Nd:KGW Laser With Hot Band Diode Pumping.
এই পেপারের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা আমি এখানে উল্লেখ করছি। প্রথমেই বলে নেয়া ভাল এই কাজটি মূলত LASER নিয়ে। Light Amplification by Stimulated Emission of Radiation এর সংক্ষিপ্ত রূপ ই হল LASER।১৯৬০ সালে প্রথম LASER তৈরি করেন বিজ্ঞানী Theodore H. Maiman।এরপর গত পঞ্চাশ বছরের ও বেশি সময়ে LASER এর অভাবনীয় উন্নয়নের ফলে বর্তমানে তা আধুনিক সমাজের একটি অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়েছে।আমাদের চারপাশে LASER এর ব্যবহার সর্বত্র, যেমন- কম্পিঊটারের সিডি ড্রাইভ পড়তে বা লিখতে, লেজার পয়েন্টারে, চোখ অস্ত্রোপচারে, সূক্ষ ধাতু কর্তনে যা মোটর গাড়ি তৈরিতে ব্যবহ্রত হয়, ফাইবার অপ্টিক কমিঊনিকেশনে, স্যটেলাইট কমিঊনিকেশনে, মানুষের রোগ নির্ণয়ে, এমনকি আলট্রাফাস্ট রসায়নে এবং আরো অনেক কাজে।আমাদের চারপাশে যে সূর্যের আলো তার সাথে LASER এর মূল পার্থক্য হল সূর্যের আলো অনেক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর সমষ্টি এবং চারপাশে ছড়িয়ে যায় আর LASER এ শুধুমাত্র একটি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো থাকে এবং চারপাশে ছড়ায় না।
LASER মূলত দুই ধরনের  হয়। এক- Continuous Wave (CW) LASER, দুই- Pulsed LASER. উপরে উল্লেখিত গবেষণাটি Continuous Wave LASER নিয়ে। একটি ছবির সাহায্যে সেটা ব্যাখ্যা করা যাক।
গতকাল অপটিক্যাল সোসাইটি অফ আমেরিকা (OSA) হতে প্রকাশিত প্রখ্যাত জার্নাল অপটিক্স লেটারসে (Optics Letters) আমার প্রথম জার্নাল পেপার প্রকাশিত হয়েছে।
পেপার টাইটেলঃ Multi-Watt Continuous Wave Nd:KGW Laser With Hot Band Diode Pumping.
এই পেপারের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা আমি এখানে উল্লেখ করছি। প্রথমেই বলে নেয়া ভাল এই কাজটি মূলত LASER নিয়ে। Light Amplification by Stimulated Emission of Radiation এর সংক্ষিপ্ত রূপ ই হল LASER।১৯৬০ সালে প্রথম LASER তৈরি করেন বিজ্ঞানী Theodore H. Maiman।এরপর গত পঞ্চাশ বছরের ও বেশি সময়ে LASER এর অভাবনীয় উন্নয়নের ফলে বর্তমানে তা আধুনিক সমাজের একটি অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়েছে।আমাদের চারপাশে LASER এর ব্যবহার সর্বত্র, যেমন- কম্পিঊটারের সিডি ড্রাইভ পড়তে বা লিখতে, লেজার পয়েন্টারে, চোখ অস্ত্রোপচারে, সূক্ষ ধাতু কর্তনে যা মোটর গাড়ি তৈরিতে ব্যবহ্রত হয়, ফাইবার অপ্টিক কমিঊনিকেশনে, স্যটেলাইট কমিঊনিকেশনে, মানুষের রোগ নির্ণয়ে, এমনকি আলট্রাফাস্ট রসায়নে এবং আরো অনেক কাজে।আমাদের চারপাশে যে সূর্যের আলো তার সাথে LASER এর মূল পার্থক্য হল সূর্যের আলো অনেক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর সমষ্টি এবং চারপাশে ছড়িয়ে যায় আর LASER এ শুধুমাত্র একটি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো থাকে এবং চারপাশে ছড়ায় না।
LASER মূলত দুই ধরনের  হয়। এক- Continuous Wave (CW) LASER, দুই- Pulsed LASER. উপরে উল্লেখিত গবেষণাটি Continuous Wave LASER নিয়ে। একটি ছবির সাহায্যে সেটা ব্যাখ্যা করা যাক।
বিষয়ের তিনটি অংশ নিম্নরুপঃ
১। Pump Source- এটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো নির্গত করে যদিও বাস্তবে আরও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো থাকে। তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর আলোর রঙ নির্ভর করে। যেমন- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবুজ কিংবা নীল আলোর চেয়ে ভিন্ন। আমাদের গবেষণায় অবলোহিত আলো পাম্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।Pump LASER এর শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
২। Amplifier- অবলোহিত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকে আম্পলি অন্য তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোতে পরিণত করে।Amplifier হিসেবে আমরা Nd:KGW crystal ব্যবহার করি। একইসাথে আম্পলি মিররগুলোর সাহায্যে আলোকে বিশুদ্ধ আর সূক্ষ করে তোলে। বিশুদ্ধ মানে হল একটি এবং শুধুমাত্র একটি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো থাকবে আর সূক্ষ মানে এটি চারপাশে ছড়াবে না ও সরলরেখা বরাবর চলবে। Amplifier আর Mirror নিয়ে গঠিত অংশটুকু LASER Cavity নামে পরিচিত। এখানে ব্যবহ্রত মিরর গুলো কিছু আলো যেতে দেয় আর কিছু আলো প্রতিফলিত করে; আমাদের বাসায় ব্যবহ্রত আয়নার মত না। আমাদের কাজের সবচেয়ে গুরুত্তপূর্ণ বিষয় হল আমরা পাম্প হিসেবে সম্পূর্ণ নতূন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ব্যবহার করি এই crystal এর সাথে যা আগে কেউ করে দেখায় নি। এই নতূন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো আগের চাইতে অধিক পাওয়ারফুল লেজার তৈরিতে করতে সাহায্য করবে।
৩। LASER- এটি হল পুরো সিস্টেমের আউটপুট। LASER Cavity র শেষ মিরর থেকে বেরিয়ে আসা এই বিশুদ্ধ আর সূক্ষ আলো এখন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
উল্লেখ্যঃ গবেষণায় আমার সাথে আরও দুইজন সহকর্মী ছিলেন যারা প্রকাশিত জার্নাল পেপারের কো-অথার এবং সার্বিক তত্তাবধায়নে ছিলেন আমার প্রফেসর।
গতকাল অপটিক্যাল সোসাইটি অফ আমেরিকা (OSA) হতে প্রকাশিত প্রখ্যাত জার্নাল অপটিক্স লেটারসে (Optics Letters) আমার প্রথম জার্নাল পেপার প্রকাশিত হয়েছে।

পেপার টাইটেলঃ Multi-Watt Continuous Wave Nd:KGW Laser With Hot Band Diode Pumping.

এই পেপারের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা আমি এখানে উল্লেখ করছি। প্রথমেই বলে নেয়া ভাল এই কাজটি মূলত LASER নিয়ে। Light Amplification by Stimulated Emission of Radiation এর সংক্ষিপ্ত রূপ ই হল LASER।১৯৬০ সালে প্রথম LASER তৈরি করেন বিজ্ঞানী Theodore H. Maiman।এরপর গত পঞ্চাশ বছরের ও বেশি সময়ে LASER এর অভাবনীয় উন্নয়নের ফলে বর্তমানে তা আধুনিক সমাজের একটি অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়েছে।আমাদের চারপাশে LASER এর ব্যবহার সর্বত্র, যেমন- কম্পিঊটারের সিডি ড্রাইভ পড়তে বা লিখতে, লেজার পয়েন্টারে, চোখ অস্ত্রোপচারে, সূক্ষ ধাতু কর্তনে যা মোটর গাড়ি তৈরিতে ব্যবহ্রত হয়, ফাইবার অপ্টিক কমিঊনিকেশনে, স্যটেলাইট কমিঊনিকেশনে, মানুষের রোগ নির্ণয়ে, এমনকি আলট্রাফাস্ট রসায়নে এবং আরো অনেক কাজে।আমাদের চারপাশে যে সূর্যের আলো তার সাথে LASER এর মূল পার্থক্য হল সূর্যের আলো অনেক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর সমষ্টি এবং চারপাশে ছড়িয়ে যায় আর LASER এ শুধুমাত্র একটি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো থাকে এবং চারপাশে ছড়ায় না।

LASER মূলত দুই ধরনের  হয়। এক- Continuous Wave (CW) LASER, দুই- Pulsed LASER. উপরে উল্লেখিত গবেষণাটি Continuous Wave LASER নিয়ে। একটি ছবির সাহায্যে সেটা ব্যাখ্যা করা যাক।

তিনটি অংশ নিম্নরুপঃ

১। Pump Source- এটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো নির্গত করে যদিও বাস্তবে আরও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো থাকে। তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর আলোর রঙ নির্ভর করে। যেমন- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবুজ কিংবা নীল আলোর চেয়ে ভিন্ন। আমাদের গবেষণায় অবলোহিত আলো পাম্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।Pump LASER এর শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।

২। Amplifier- অবলোহিত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকে আম্পলি অন্য তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোতে পরিণত করে।Amplifier হিসেবে আমরা Nd:KGW crystal ব্যবহার করি। একইসাথে আম্পলি মিররগুলোর সাহায্যে আলোকে বিশুদ্ধ আর সূক্ষ করে তোলে। বিশুদ্ধ মানে হল একটি এবং শুধুমাত্র একটি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো থাকবে আর সূক্ষ মানে এটি চারপাশে ছড়াবে না ও সরলরেখা বরাবর চলবে। Amplifier আর Mirror নিয়ে গঠিত অংশটুকু LASER Cavity নামে পরিচিত। এখানে ব্যবহ্রত মিরর গুলো কিছু আলো যেতে দেয় আর কিছু আলো প্রতিফলিত করে; আমাদের বাসায় ব্যবহ্রত আয়নার মত না। আমাদের কাজের সবচেয়ে গুরুত্তপূর্ণ বিষয় হল আমরা পাম্প হিসেবে সম্পূর্ণ নতূন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ব্যবহার করি এই crystal এর সাথে যা আগে কেউ করে দেখায় নি। এই নতূন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো আগের চাইতে অধিক পাওয়ারফুল লেজার তৈরিতে করতে সাহায্য করবে।

৩। LASER- এটি হল পুরো সিস্টেমের আউটপুট। LASER Cavity র শেষ মিরর থেকে বেরিয়ে আসা এই বিশুদ্ধ আর সূক্ষ আলো এখন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।

উল্লেখ্যঃ গবেষণায় আমার সাথে আরও দুইজন সহকর্মী ছিলেন যারা প্রকাশিত জার্নাল পেপারের কো-অথার এবং সার্বিক তত্তাবধায়নে ছিলেন আমার প্রফেসর।  নিম্নরুপঃ
১। Pump Source- এটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো নির্গত করে যদিও বাস্তবে আরও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো থাকে। তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর আলোর রঙ নির্ভর করে। যেমন- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবুজ কিংবা নীল আলোর চেয়ে ভিন্ন। আমাদের গবেষণায় অবলোহিত আলো পাম্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।Pump LASER এর শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
২। Amplifier- অবলোহিত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকে আম্পলি অন্য তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোতে পরিণত করে।Amplifier হিসেবে আমরা Nd:KGW crystal ব্যবহার করি। একইসাথে আম্পলি মিররগুলোর সাহায্যে আলোকে বিশুদ্ধ আর সূক্ষ করে তোলে। বিশুদ্ধ মানে হল একটি এবং শুধুমাত্র একটি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো থাকবে আর সূক্ষ মানে এটি চারপাশে ছড়াবে না ও সরলরেখা বরাবর চলবে। Amplifier আর Mirror নিয়ে গঠিত অংশটুকু LASER Cavity নামে পরিচিত। এখানে ব্যবহ্রত মিরর গুলো কিছু আলো যেতে দেয় আর কিছু আলো প্রতিফলিত করে; আমাদের বাসায় ব্যবহ্রত আয়নার মত না। আমাদের কাজের সবচেয়ে গুরুত্তপূর্ণ বিষয় হল আমরা পাম্প হিসেবে সম্পূর্ণ নতূন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ব্যবহার করি এই crystal এর সাথে যা আগে কেউ করে দেখায় নি। এই নতূন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো আগের চাইতে অধিক পাওয়ারফুল লেজার তৈরিতে করতে সাহায্য করবে।
৩। LASER- এটি হল পুরো সিস্টেমের আউটপুট। LASER Cavity র শেষ মিরর থেকে বেরিয়ে আসা এই বিশুদ্ধ আর সূক্ষ আলো এখন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
উল্লেখ্যঃ গবেষণায় আমার সাথে আরও দুইজন সহকর্মী ছিলেন যারা প্রকাশিত জার্নাল পেপারের কো-অথার এবং সার্বিক তত্তাবধায়নে ছিলেন আমার প্রফেসর।

  • [১]