মাওলানা আব্দুল বছীর
(পূর্ব প্রকাশের পর)
ইতেকাফ
ইতেকাফের শাব্দিক অর্থ অবস্থান করা। শরিয়তের পরিভাষায় ইতেকাফ বলা হয়। পুরুষের জন্য নিয়তসহ এমন মসজিদে অবস্থান করা যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। আর মহিলাদের জন্য ইতেকাফ হল নিয়তসহ ঘরের ভেতর নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থানে অবস্থান করা।
ইতেকাফের শর্তাবলী:
নিয়ত করা, বিনা নিয়তে ইতেকাফ করলে সহীহ হবে না। এমন মসজিদে ইতেকাফ করা যেখানে নামাজের জামায়াত হয়। ইতেকাফের জন্য সর্বোচ্চ স্থান হল মসজিদুল হারাম। অত:পর মসজিদে নবী (সা.) এরপর বায়তুল মোকাদ্দাসে তারপর জামে মসজিদে এবং এরপর যে মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা বেশি হয়। ইতেকাফ করা খুবই ছোয়াবের কাজ। আম্মাজান হযরত আয়েশা (রা.) হুজুরে পাক (সা.)
এর বাণী বর্ণনা করেন যে, রমজানের শেষ দশ দিনের বিজোড় তারিখে তোমরা সবে-ক্বদরকে অনুসন্ধান কর।
লাইলাতুল ক্বদর:
ক্বদরের এক অর্থ মাহাত্ম ও সম্মান। রমজান শরীফের বিশেষ এক রাত্রে লাইলাতুল ক্বদর বলা হয়। এর মাহাত্ম ও সম্মানের কারণে একে লাইলাতুল ক্বদর বলা হয়। ক্বদরের আরেক অর্থ তাক্বদীর। এ রাতে পরবর্তী এক বছরের নির্ধারিত লিপি ব্যবস্থাপক ও ফেরেস্তাগণের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রত্যেক মানুষের হায়াত, মউত, রিযিক ইত্যাদির বিবরণ থাকে। লাইলাতুল ক্বদর খুবই ফজিলতপূর্ণ রাত। একে সন্ধান করা মুস্তাহাব। তা বছরের সর্বোত্তম রাত। এ রাত অন্য সময়ের এক হাজার মাস থেকে ও উত্তম।
রোজার ফিদইয়া:
যে ব্যক্তি বা বার্ধক্যের এই পর্যায়ে চলে গেছে যে তার রোজা রাখার ক্ষমতা নেই, কিংবা এরূপ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাহাতে আরোগ্য লাভের আশা নেই রোজা রাখারও সামর্থ্য নেই এ রূপ ব্যক্তি রোজা না রেখে প্রতিটি রোজার বিনিময়ে এক জন মিসকিনকে সাদাকায়ে ফিতরের সমান খাবার দেবে অথবা সকাল সন্ধ্যা পেট ভরে তাকে খানা খাওয়াবে। শরিয়তে একে ফিদইয়া বলা হয়। খাদ্যের বদলে এই পরিমাণ খাদ্যের মুল্য দিয়ে দেওয়া জায়েজ আছে।
সাদাকাতুল ফিতর:
মৌলিক প্রয়োজনে অতিরিক্ত নেছাব পরিমাণ সম্পদের মৌলিক তথ্যের মুসলিম নারী পুরুষের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। এ রূপ সম্পত্তি বর্ধনশীল হওয়া জরুরী নয়। গম, গমের আটা, যব, যবের আটা, এবং খেজুর ও কিসমিস দ্বারা ফিতরা আদায় করা যায়। গম বা গমের আটা দ্বারা ফিতরা আদায় করলে গম অর্ধসা (১ কেজি ৬৫০ গ্রাম) এবং যব বা যবের আটা দ্বারা কিংবা খেজুর দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করলে এক সা (৩ কেজি ৩২৫ গ্রাম) দিতে হবে। রুটি, চাল বা অন্য খাদ্য দ্রব্য দিয়ে ফিতরা দিতে হলে মূল্য হিসাবে দিতে হবে। দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্য দ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা উত্তম। আর অন্য সময় মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা উত্তম।
সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার সময় হল ইদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিক হওয়ার পর। সুবহে সাদিকের পূর্বে কেউ মারা গেলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে না। সুবহে সাদিকের পর কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করলে কিংবা কেউ মুসলমান হলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে। অনুরূপ কোনো দরিদ্র ব্যক্তি সুবহে সাদিকের পূর্বে ধনী হয়ে গেলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে। ধনী ব্যক্তি এর পূর্বে দরিদ্র হয়ে গেলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে না। ঈদ-উল ফিতরের দিনের পূর্বে ফিতরা আদায় করা জায়েজ। ঈদ উল ফিতরের দিন আদায় না করলেও পরে তা আদায় করতে হবে। ঈদ উল ফিতরের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হবার পূর্বে ফিতরা আদায় করা মোস্তাহাব। নিজের এবং নিজের নাবালিক সন্তানদের পক্ষ হতে সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।
লেখক মুহতামিম জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মদনীয়া, সুনামগঞ্জ।