- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

রোজার ফজিলত ও উপকারিতা

মাওলানা আব্দুল বছীর
রোজার ফজিলত ও উপকারিতা অনেক। হাদিসে এ সমন্ধে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। বুখারী শরীফে বর্ণিত এক হাদিসে আছে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, রোজা ঢাল স্বরূপ। সুতরাং রোজা অবস্থায় যেন অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকে এবং অজ্ঞ মুর্খের মতো যেন কোনো কাজ না করে। কেউ যদি তার সাথে ঝগড়া ফ্যাসাদ করতে চায় অথবা গালি দেয়, তবে সে যেন দুই বার বলে আমি রোজাদার ওই সত্তার কসম যার নিয়ন্ত্রণে আমার প্রাণ। অবশ্যই রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকে ঘ্রাণের চেয়েও অধিক উৎকৃষ্ট। সে আমারই জন্য পানাহার এবং কাম প্রবৃত্তি পরিত্যাগ করে। রোজা আমারই জন্য তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশ গুণ। অপর এক হাদিসে আছে, হযরত সাহল (রা.) থেকে বর্ণিত নবী করীম (সা.) বলেন, জান্নাতের মধ্যে র‌্যায়ান
 নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কেবল মাত্র কিয়ামতের দিন রোজাদার লোকেরাই প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। তাঁদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাতে এই দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে না পারে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, রোজা এবং কুরআন রোজাদার বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে হে আল্লাহ! আমি তাঁকে দিনের বেলা পানাহার ও যৌন ক্রিয়া থেকে বিরত রেখেছি। তাঁর সম্পর্কে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কুরআন বলবে আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। তার সমসম্পর্কে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন এদের সুপারিশ কবুল করা হবে। রোজার মধ্যে অনেক উপকারিতা নিহিত আছে। এগুলো সম্পর্কে মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রা.) আহকামে ইসলাম আকলকি নজরমে নামক গ্রন্থে দীর্ঘ আলোকপাত করা হয়েছে। এরমধ্যে থেকে কতিপয় বিষয় নিম্নে উল্লেখ করা হল।
১.    রোজার দ্বারা প্রবৃত্তির উপর আকলের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
২.     রোজার দ্বারা মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয়ভীতি এবং তাফয়ার গুণ সৃষ্টি হয়। এ কারণেই আল্লাহতা’লা বলেছেন, ‘লা আল্লাকুম তাত্তাকুন’ যাতে তোমরা তাকওয়ার গুণ অর্জন করতে সক্ষম হও।
৩.    রোজার দ্বারা মানুষের স্বভাবে নম্রতা ও বিনয় সৃষ্টি হয়। মানব মনে আল্লাহর আসমত ও মহানত্ত্বের ধারণা জাগ্রত হয়।
৪.     মানুষের দূরদর্শিতা আরো প্রখর হয়।
৫.    রোজার দ্বারা মানব মনে এমন এক নুরানী শক্তি সৃষ্টি হয়, যার দ্বারা মানুষ সৃষ্টির এবং বস্তুর গুঢ় রহস্য সমন্ধে অবগত হতে সক্ষম হয়।
৬.    রোজার বরকতে মানুষ ফিরিশা চরিত্রের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।
৭.    রোজার বরকতে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও মমত্ববোধ এবং পরস্পরের প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি হয়।
৮.    রোজা পালন করা আল্লাহর প্রতি গভীর মহব্বতের অন্যতম নির্দেশনা।
৯.    রোজা মানুষের জন্য ঢাল স্বরূপ তাই রোজা মানুষকে শয়তানের আক্রমণ থেকে হেফাজত করে।
১০.    রোজা দ্বারা মানুষের শারীরিক সুস্থতা হাছিল হয়। এছাড়াও রোজার মধ্যে বহু উপকারিতা রয়েছে। (চলবে)

  • [১]