আকরাম উদ্দিন
হাওরের ফসল ঘরে তোলার আশায় এখন গরম রোদও সহ্য হচ্ছে মানুষের। সোমবার রাত থেকে গরমের প্রথম ধাপের সূচনা হলেও মঙ্গলবার দিন থেকে সর্বত্র গরম ও রোদের তীব্রতা বেড়ে চলেছে। এখন বাদলা রোদের গরমে উষ্ণতা বাড়ছে। সকল শ্রেণী পেশার মানুষেরা সৃষ্টিকর্তার নিকট মনের গভীর থেকে ফসল তোলার দোয়া জানাচ্ছেন। হাওরের ফসল ঘরে তোলার আশায় কৃষকদের মনে আনন্দের উঁকি দিচ্ছে।
খোলা আকাশের নিচে কিছুক্ষণ চলাফেরা করলেই মানুষকে অস্থির করে তোলে গরমে। তবুও ফসলের জন্য মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। এখন সকল শ্রেণী পেশার মানুষ গরম রোদকেও স্বাগত জানাচ্ছেন। হাসিমুখে বরণ করে নিচ্ছেন গরমের অসহ্য যন্ত্রনাকে।
গরম নিয়ে মানুষের মাঝে কথা বলাবলি শুরু হয়েছে। গরমের তীব্রতা কেউই সহ্য করতে পারেন না, গরম নিয়ে হতাশা, গরমের কারণে শারীরিক ও মানসিক অশান্তির কথা মুখে মুখে বলাবলি করেন অনেকেই। কিন্তু যখন ফসলের কথা মনে পড়ে! তৎক্ষণাৎ কথাটি শুধরে নিয়ে বলেন, নাহ্ এই সময়ে গরম রোদের প্রয়োজন আছে। গরম না হলে ধান পাকা হবে না। ধান পাকা না হলে কাটা যাবে না। রোদ না হলে ধান শুকানো যাবে না। এক কথায় রোদ ছাড়া মানুষের জীবনের কোনো কাজ সম্পন্ন হয় না বলেও অভিমত ব্যক্ত করেছেন অনেকে।
মঙ্গলবার দুপুরে গরমের তীব্রতা নিয়ে কথা বলি অনেকের সাথে। এসময় লালারচর গ্রামের বাসিন্দা বিজয় পাল বলেন, ‘ধান এখনও পাকেনি, তাই ধান কাটার ধুম পড়েনি। পানি ঢুকে যাবার ভয়ে অনেকে কাঁচা ধান কাটা শুরু করেছেন। যদি রোদ ও গরমের তীব্রতা বাড়তে থাকে, তাহলে ধান পাকা হবে তাড়াতাড়ি। রোদ হলে পানি কমবে। কৃষকরা ধান কেটে শুকাতে পারবে।’
মঙ্গলকাটা বাজারের ব্যবসায়ী
আব্দুর রব বলেন, ‘রোদ হবে, গরম বাড়বে, এটার অপেক্ষায় ছিলাম। কারণ রোদে ধান শুকায় এবং গরমে ধান পাকায়। তাছাড়া জমির জলাবদ্ধতা দিনে দিনে কমে যাবে। বৃষ্টি হবে না। পাহাড়ি ঢলও আসবে না। শংকামুক্ত থাকবে কৃষকেরা।’
বাহাদুরপুরের রিক্সা চালক বশির উদ্দিন বলেন, ‘খুবই গরম। কিন্তু বৃষ্টি হউক এমন দোয়া করবো না। কারণ জমিতে ধান। আমাদের সবার রিযিক।’
বড়ঘাটের আমিনুল হক বলেন, ‘তীব্র গরম। রোদ গরম দুটিই প্রয়োজন। বৈরি আবহাওয়া যাতে না হয়। কৃষকরা যাতে ঘরে ফসল তোলতে পারে, মহান আল্লাহতা’লার কাছে এমন দোয়া জানাই।’
শহরের জেল রোডের সোলায়মান বলেন, ‘বেশ কয়দিন পরে এখন সামান্য রোদও আছে, গরমও আছে। ফসল তোলতে প্রয়োজন এমন দিনের।’
শহরের হাছননগরের আফজাল হোসেন বলেন, ‘বৈরি আবহাওয়ার কারণে ফসল নিয়ে খুবই শংকিত ছিলাম, এখনও আছি। যদি এভাবেই দিনটি আল্লাহ রাখেন তবুও হাওরের ধান তোলা সম্ভব হবে।’