- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

র‌্যাবের হাতে ২ ছিনতাইকারী আটকের খবরটি স্বস্তিদায়ক

কিছুদিন যাবতই শহরে অভিনব কায়দায় ছিনতাইর খবর পাওয়া যাচ্ছিল। ছিনতাইর শিকার অনেকে প্রতিকার চাইতে আইনের আশ্রয় নেননি, গণমাধ্যমেও প্রকাশকুণ্ঠ ছিলেন তারা। কিন্তু এই ধরনের ছিনতাই ঘটনার উপর র‌্যাব নজর রাখছিল। এটা বুঝা গেল শুক্রবার এরকম ২ ছিনতাইকারীকে র‌্যাব আটক করতে সমর্থ হয়েছে। র‌্যাব নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে শুক্রবার ৪ ছিনতাইকারীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। র‌্যাবের অভিযানে ২ ছিনতাইকারী পালিয়ে যেতে সমর্থ হলেও বাকি ২ জন ধরা পড়েছে। ধরা পড়্ া২ ছিনতাইকারী হলÑ ছাতকের বড়কাপনের সুমন আহমদ ও শান্তিগঞ্জের দরগাপাশার দেলোয়ার হোসেন। এই ছিনতাইকারীচক্র সিএনজি নিয়ে ছিনতাইর কাজে অংশ নিত। সিএনজির চারটি আসনে তারা নিজেরা বসে থাকত। পিছনের একটি আসন খালি রাখত। শহরের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীকে তারা তুলে নিত এবং পিছনের সিটের মধ্যবর্তী জায়গায় তাকে বসাত। পরে সুবিধাজনক জায়গায় যাত্রীর নিকট থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী এরা কৌশলে ছিনিয়ে নিত। ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, এরা সাধারণত টার্গেট করে যাত্রী উঠাত। ব্যাংক থেকে কেউ টাকা তোললে সাধারণত এরা তাকে টার্গেট করত। ব্যাংক থেকে বেরোনোর পর তার কাছাকাছি যেয়ে একটি সিট ফাঁকা রয়েছে বলে তাকে তুলে নিত এবং পরে অভিনব কৌশলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে অন্যমনস্ক করে দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিত। ঘটনার শিকার যাত্রী বুঝতেই পারত না কখন তার টাকা ওরা নিয়ে গেছে। যখন বুঝতে পারত তখন আর করার কিছুই থাকে না। ততক্ষণে ছিনতাইকারীচক্র পালিয়ে যায়। র‌্যাব একটি ভাল কাজ করেছে এমন সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রকে ধরার মাধ্যমে। ধৃত ছিনতাইকারীদের মাধ্যমে এই চক্রের পুরো টিমকে সনাক্ত করা গেলে শহরবাসী কিছুটা ছিনতাই আতংক থেকে মুক্ত হতে পারতেন।
এখন অপরাধের বৈচিত্র বেড়ে গেছে। অপরাধীরা নিত্যনতুন কৌশল পাল্টাচ্ছে। অপরাধীদের কৌশল পাল্টানোর সাথে সাথে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনিরও কাজের কৌশল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মানুষের জান ও মাল রক্ষার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনির হাতে ন্যস্ত। কিন্তু কোন অপরাধ ঘটার পর যখন আমরা এর কোন প্রতিকার দেখি না তখন নিশ্চয়ই দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়। শহরে একসময় চুরির খুব বেশি উপদ্রব ছিল। মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল চুরি হত নিয়মিত। এসব অপরাধপ্রবণতার শিকার কেউ কখনও প্রতিকার পেয়েছেন বা চুরি যাওয়া মালামাল ফিরে পেয়েছেন তেমন উদাহরণ পাওয়া যায় না। এই প্রতিকারহীনতার কারণে এসব দমনের জন্য নিয়োজিত সংস্থার প্রতি এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়ে গিয়েছে নাগরিক সমাজের মনে। কারণ সাধারণ মানুষের মনে বদ্ধমূল ধারণা রয়েছে যে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি চাইলে যেকোন ধরনের অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এরকম সময়ে শুক্রবার র‌্যাবের হাতে ২ ছিনতাইকারী আটকের খবরটি কিছুটা হলেও স্বস্তির। ঘটনা হিসাবে হয়ত এটি খুব বড় কোন সফলতা নয়। কিন্তু এর মাহাত্ম্য অন্য জায়গায়। সেটি হলÑ মানুষ অন্তত বুঝতে পারবে, র‌্যাব নামক সংস্থাটি চেষ্টা করছে অপরাধ দমনের জন্য। র‌্যাবের অভিযানিক দলকে তাই আমাদের অভিনন্দন। এই ধরনের ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মাধ্যমে এই চক্রের অপরাধীদের সনাক্ত করানোর ব্যবস্থা করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সহজ হয়। তাছাড়া ইতোমধ্যে তাদের দ্বারা ছিনতাইকৃত অর্থ ও মালামাল উদ্ধারেরও একটি ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে বলে আমরা মনে করি। এজন্য র‌্যাবকে এরকম ছিনতাইর শিকার ব্্যক্তিদের আহ্বান জানাত হবে এদের সনাক্ত করার জন্য। আমরা আশা করি অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা নিয়ে র‌্যাব এই ধরনের ছিনতাইকারী চক্রকে সমুলে নির্মূল করা সহ সব ধরনের অপরাধ প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে।

  • [১]