আকরাম উদ্দিন
করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুরত্ব এবং বিধি নিষেধ পালন করতে সুনামগঞ্জ শহরের জেলরোডসহ বিভিন্ন এলাকার সবজির ব্যবসায়ীদের জুবিলীর মাঠে নেয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন। কিন্তু সবজি ব্যবসায়ীদের দাবি এর আগের লকডাউনে ওখানে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন তারা। সবজি ব্যবসায়ীদের দাবি, মাছ বাজার এবং সবজির বাজার পাশাপাশি রাখতে হবে, কেবল সবজি সরিয়ে নিলে পথে বসবে সবজি ব্যবসায়ীরা।
বাজারে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, মাছ বাজারের পাশাপাশি সবজি বাজার না থাকলে তাদের ভোগান্তি হয় বেশি। মাছ কিনবে এখানে, সবজি কিনবে দুরে গিয়ে। এটা কখনও হয় না। সবজি বাজারে এসে মানুষ ঘষাঘষি করে না। বরঞ্চ মাছ বাজারে গায়ে গায়ে লেগে মাছ কিনেন ক্রেতারা।
জেলরোড এলাকায় সবজি বাজারের ব্যবসায়ীরা সবজি টাটকা ও তাজা রাখতে প্রতিনিয়ত নদী ও পুকুরের পানি হাতের নাগালে পাচ্ছেন। দোকানের উপর গাছের ছায়া পাচ্ছেন। চাষীরা সহজে সবজি নিয়ে এসে বিক্রি করতে পারছেন। ক্রেতারাও মাছ কিনে ফেরার সময় সবজি কিনে নিতে পারছেন।
সবজি বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, গত বছর করোনাকালীন সময়ে সবজি বাজার শহরের জুবিলীর মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ওই স্থানে কয়েক মাস ব্যবসা করার কারণে প্রত্যেক ব্যবসায়ী লোকসান দিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়েছিলেন। এই ঋণ এখনও পরিশোধ করতে পারেননি তাঁরা।
তাঁরা জানান, জুবিলীর খোলা মাঠে রোদের প্রখরতায় সবজি বেশি সময় টিকে থাকে না। সবজিতে দেওয়ার মতো পানি পাওয়া যায় না। তাড়াতাড়ি পঁচে যায় সবজি। গত বছর এই সময়ে প্রচন্ড গরমে নানা অসুখ বিসুখে আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক সবজি ব্যবসায়ী। এছাড়া প্রশ্রাব ও পায়খানা করার সুবিধা নেই জুবিলীর মাঠে।
তাঁরা আরও জানান, মাছের সাথে সবজির সম্পর্ক। কিন্তু মাছ বাজার স্বস্থানে রেখে সবজির দোকান অনেক দুরে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কঠিন। এই বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি সশ্লিষ্ট সকলের।
সবজির ব্যবসায়ীরা জানান, লকডাউনের ১০ দিনের ব্যবধানে সবজির বাজার ক্রেতা শূণ্য হয়ে পড়েছে। গ্রামের সবজি ব্যবসায়ীরাও এখন আর শহরে আসছে না সবজি নিয়ে।
বাজারে আসা ভাদেরটেকের সবজির ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, আমি প্রতিদিন বাজারে আসি সবজি নিয়ে। এসে বসার জায়গা পাই না। আমরাতো বাজার ছাড়া সবজি বিক্রি করি না। লকডাউনে বাজারে আসা বাদ দেওয়ার চিন্তা করছি।
সবজি বাজারে আসা ইব্রাহীমপুরের আসাদ মিয়া বলেন, প্রতিবছর করোনার সময় সবজি বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে এমন আচরণ কেন হয়, কারো বোধগম্য নয়। সবজি বাজারে না আসলে গ্রামের মানুষের চিন্তা নেই। সব চিন্তা শহরবাসীর।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে রাষ্ট্রের আইন মেনে শহরের জুবিলীর মাঠে আসা উচিৎ ছিল সবজি ব্যবসায়ীদের। কিন্তু তারা জুবিলীর মাঠে না আসায় আমি কিছুই করতে পারছি না তাদের জন্য। সবজি ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, বিগত লকডাউনে জুবিলীর মাঠে আসায় অনেক লোকসান হয়েছে তাদের। নির্দেশনা মানলে সরকার তাদের প্রণোদনা দিতো। আমিও তাদের জন্য চেষ্টা করতাম। নিজে বাঁচতে এবং অন্যকে বাঁচাতে করোনা সক্রমণ প্রতিরোধে যা যা করণীয় সকলেরই করা উচিৎ।