- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

লক্ষ্যমাত্রা পুরণ করতে পারলো না!- ধান চাল কেনার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ

বিশেষ প্রতিনিধি
ধান-চাল ক্রয়ের সময় সীমা শেষ। লক্ষ্যমাত্রা মোতাবেক ধান-চাল সংগ্রহ করতে পারে নি সুনামগঞ্জ খাদ্য বিভাগ। আতব চাল কিছুটা সংগ্রহ করলেও সিদ্ধ চালের সংগ্রহের পরিমান একেবারেই কম। কৃষক ও কৃষক সংগঠকরা বলেছেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি আস্থাহীনতা, ধান কেনার পদ্ধতি ও কর্মকর্তাদের গাফিলতিই এজন্য দায়ী। দায়িত্বশীলরা অবশ্য বলেছেন, রোহিঙ্গাদের খাদ্য চাহিদার ধান মিলাররা এখান থেকে কেনায় তাদের কিনতে সমস্যা হয়েছে।
হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে এবার প্রায় ১৩ লাখ টন বোরো ধান হয়েছে। সরকার ধান কেনার কথা ছিল মাত্র ৩২ হাজার ৬৬৪ টন। চাল আতব ১৪ হাজার ২৮ এবং সিদ্ধ ১৪ হাজার ৬৮৭ টন কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। জেলায় এমন বাম্পার উৎপাদনের পরও খাদ্য বিভাগ ২৯ এপ্রিল থেকে কেনার শেষ দিন ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১৬ হাজার ৬৭৮ টন ধান এবং চাল সিদ্ধ ৩৮৭০ এবং আতব ১০০২২ টন কিনেছে। ধান কিনতে গিয়ে সরকার সাড়ে তিন লাখ কৃষকের মধ্যে লটারী করে ১২ হাজার কৃষক বাছাই করেছিল। কৃষকরা বলেছেন সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে মৌসুমের শুরুতে ধান কেনায় নানা প্রতিবন্ধকতার জন্য কিছু কম দামেই, অপেক্ষাকৃত কম হয়রানিতে তারা ধানের আড়ৎদার ও ব্যাপারির কাছে বাড়িতে রেখেই ধান বিক্রি করেছেন।
সুনামগঞ্জের কৃষক নেতারা বলেছেন, লটারীতে ভাগ্যবন্দি এবং সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে কোন কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি- অনিয়ম, সর্বোপরি খাদ্য বিভাগের প্রতি আস্থাহীনতার কারণেই সরকারের ধান চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা এ জেলায় পূর্ণ হয় নি।
জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার বললেন, সাড়ে ৩ লাখ কৃষক রয়েছেন জেলায়। এরমধ্যে ১২ হাজার কৃষককে লটারী’র মাধ্যমে বাছাই করতে হবে কেন? যারা ক্রয় কেন্দ্রের নীতিমালা অনুযায়ী ধান দিতে পারবে, তাদের ধানই কিনতে হবে। এছাড়া খাদ্য বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থার অভাব রয়েছে, সেটিও দূর করতে হবে। এখনো কৃষকদের কাছে ধান আছে, এখন যারা ধান দেবেন, তারা আগামী মৌসুমে ধান সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে দেবার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবেন, এমন ঘোষণা দিলে অবশ্যই ধান কিনতে পারবে খাদ্য বিভাগ।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বললেন, ধানের দাম বাজারে যখন বেড়েছে, তখন আসলে প্রান্তিক কৃষকের ধান বিক্রি শেষ। লাভবান হচ্ছে ফড়িয়া, আড়ৎদার ও মিল মালিকরা। মৌসুমের শুরুতেই ধান কেনা জরুরি ছিল। একই মন্তব্য করলেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কার্যকরি সভাপতি আবু সুফিয়ানও।
সুনামগঞ্জ চালকল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম বললেন, এবার ধান চাল কেনার শুরুতেই বাজারে ধান-চালের দাম বৃদ্ধি পায়। লোকসান দিয়েই মিলাররা সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে চাল দেন। পরবর্তীতে বাজারে চালের দাম সরকারি ক্রয় মূল্যের চেয়েও বেড়ে যাওয়ায় চুক্তি অনুযায়ী চাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন মিলাররা। এখন চাল দিতে হলে আরও সময় বাড়ানো লাগবে। না হয় যে পরিমানে চাল সরবরাহ করা হয়েছে, সেখানেই ক্রয় সমাপ্তি করতে হবে। আগামী বছরে মৌসুম শুরু’র সময়েই অর্থাৎ বৈশাক মাসেই সরকারি ধান-চাল ক্রয় শেষ করার পরামর্শ দেন তিনি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল আলম সিদ্দিকী বললেন, রোহিঙ্গাদের খাদ্য চাহিদা মেঠাতে এবার চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রামের মিলাররা সুনামগঞ্জ থেকে ধান চাল কিনেছেন। এ কারণে বাজারে ধান-চালের দাম বেশি ছিল। চেষ্টা থাকলেও সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান-চাল লক্ষ্যমাত্রা মোতাবেক কেনা যায় নি।
মঙ্গলবার বিকালে জেলা খাদ্য অফিস থেকে জানানো হয়, ধান কেনার সময় আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে।

  • [১]