সু.খবর ডেস্ক
কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী লাকী আখান্দ আর নেই। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানান সঙ্গীতশিল্পীর মেয়ে মাম্মিন্তি। তিনি বলেন, ‘বাবা সন্ধ্যায় মারা গেছেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’ লাকী আখান্দ দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি হলে ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে তার। এরপর ঢাকা থেকে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার জন্য তখন পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। থাইল্যান্ড থেকে ফিরে তিনি ইউনাইটেড হাসপাতাল ও বারডেমে চিকিৎসা নেন। পরে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয় তাকে। দুই মাসেরও বেশি সময় সেখানে থাকার পর ৭ এপ্রিল পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নিজ বাসায় ফেরেন তিনি। শুক্রবার সেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
লাকী আখান্দের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন। তিনি একাধারে সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার এবং গীতিকারও। ১৯৮৪ সালে সারগামের ব্যানারে বের হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘লাকী আখান্দ’। ওই অ্যালবামের বেশ কয়েকটি গান ব্যাপক সাড়া ফেললেও ১৯৮৭ সালে ছোট ভাই হ্যাপী আখান্দের মৃত্যুর পর সঙ্গীতাঙ্গন থেকে অনেকটা স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান নেন এই গুণী শিল্পী।
মাঝখানে প্রায় এক দশক নীরব থেকে লাকী আখান্দ ১৯৯৮ সালে ‘পরিচয় কবে হবে’ ও ‘বিতৃষ্ণা জীবনে আমার’’
অ্যালবাম দুটি নিয়ে আবারও ফিরে আসেন শ্রোতাদের মাঝে। কুমার বিশ্বজিৎয়ের কন্ঠে ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, আইয়ুব বাচ্চুর ‘কি করে বললে তুমি’, হাসানের ‘হৃদয়ের দুর্দিনে যাচ্ছে খরা’-এর মতো কালজয়ী গানের সুরারোপ করেন তিনি।
‘লিখতে পারি না কোন গান আজ তুমি ছাড়া’-ব্যান্ডতারকা জেমসের এই বিখ্যাত গানটির সুরসংযোজনা ও সঙ্গীতপরিচালনা করেছেন লাকী আখান্দ।
‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’, ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’, ‘কে বাঁশি বাজায়রে’, ‘স্বাধীনতা তোমাকে নিয়ে’, ‘নীল নীল শাড়ি পরে’, ‘পাহাড়ি ঝর্ণা’, ‘হঠাৎ করে বাংলাদেশ’সহ অসংখ্য গানের সুরারোপ ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন বাংলাসঙ্গীতের এই কিংবদন্তি শিল্পী।
টেলিভিশনের লাইভ প্রোগ্রামেও তাকে দেখা গেছে; মেয়ে মাম্মিন্তিকেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার উত্তরসূরী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন দর্শকদের সঙ্গে।