ইয়াকুব শাহরিয়ার ও শহীদনূর আহমদ
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জেলা ইজতেমা ময়দানে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির অংশগ্রহণে ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে আদায় হয়েছে জুমার নামাজ। ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার হওয়ায় তাবলিগ জামাতের মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাজ আদায় করতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লক্ষাধিক মুসল্লিদের ঢল নামে সুরমা নদীর পাড়ের ইজতেমা ময়দানে। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে জুমার নামাজের খুৎবা শুরু হয় এবং জামাত শুরু হয় ১টা ৩৭ মিনিটে। খুৎবা ও জুমার নামাজের ইমামতি করেন ঢাকাস্থ কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ জামাতের অন্যতম মুরব্বি হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জোবায়ের।
এদিকে, জুমার নামাজ আদায় করতে শুক্রবার ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকাসহ শহরতলীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে সাধারণ মুসল্লিদের ঢল নামে ইজতেমা ময়দানে। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমার মাঠ উপচে আশেপাশের খোলা জায়গাসহ সব স্থান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা আব্দুজ জহুর সেতু থেকে শুরু করে বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কসহ আশপাশের গ্রামের খালি স্থানে, যে যেখানে পেরেছেন জায়নামাজ, হুগলা পাটি, চটের বস্তা, খবরের কাগজ ও পলিথিন বিছিয়ে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করেন। ফলে বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কে বেশ কিছুক্ষণ সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ ছিলো। পরে একজন পুরুষ ও একজন মহিলা ব্যক্তির জানাযার নামাজ শেষে তাবলিগ জামাতের আমবয়ান শুরু হয়।
ফজরের নামাজের ঈমান ও আমলের ওপর তাবলিগ জামাতের বিশিষ্ট মুরব্বি মাওলানা আবদুল মতিন সাহেবের আম বয়ানের মাধ্যমে জেলা ইজতেমার দ্বিতীয় দিনের কাজ শুরু হয়। জুমার নামাজের আগ পর্যন্ত জামাতবন্দিদের তাবলিগের আদবের ওপর নছিহত পেশ করেন সুনামগঞ্জ জেলা ইজতেমার প্রবীণ মুরব্বি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন। জুমার নামাজের পর কুরআন-হাদিস, আমল-আখলাকের উপর আম বয়ান করেন কুয়েতের শেখ। তাঁর বয়ানের বাংলায় অনুবাদ করেন কাকরাইল মসজিদের মাওলানা দেলোয়ার হোসেন। বাদ আছর বয়ান করেন কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ জামাতের বিশিষ্ট আলিমেদ্বীন, বাদ মাগরিব তাবলিগ জামাতের আদব ও ফায়দার উপরে বয়ান করেন হাফিজ মাওলানা জোবায়ের।
লাখ লাখ মুসল্লিদের সাথে জুমার নামাজ আদায় করতে আসা দোয়ারা উপজেলার মো. মইনুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন ধর্মপ্রাণ মুসল্লি বলেন- ‘প্রতি বছর টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু দূরত্ব ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বেশির ভাগ মানুষ ইজতেমায় অংশ নিতে পারেন না। নিজ জেলায় হওয়ায় মানুষ খুব সহজে আসতে পারছেন।’
দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আছকির আলী বলেন- ‘এটা আমাদের সৌভাগ্য যে, এতো বড় জামাতের সাথে জুমার নামাজসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারছি। সাথী ভাইদের সাথে অবস্থান করে নিজের আমল ও আখলাকের শুদ্ধিকরণের চেষ্টা করছি।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের প্রায় ৭০বছর বয়সী মো. সিদ্দিকুর রহমান, নামের এক বৃদ্ধ বলেন- ‘আল্øাহকে রাজি খুশি করা ও দাওয়াতে তাবলিগের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা ইজতেমা ময়দানে একত্রিত হই।’ ইমদাদ হোসেন, শাহিন মিয়া বলেন- ‘এখানে এসে খুব ভাল লাগছে। জেলা ভিত্তিক হওয়ায় আমরা সহজে অংশগ্রহণ করতে পারছি।’
স্থানীয় এলাকার গৌরারং ইউনিয়নের শাফেলা গ্রামের বাসিন্দা আরব আলী বলেন- ‘আমাদের এরকম একটি ইজতেমা হওয়ায় আমরা নিজেদের খুব সৌভাগ্যবান মনে করছি। আশা করছি এর ধারাবাহিকতা আগামীতে অব্যাহত থাকবে।’
সুনামগঞ্জ ইজতেমা ময়দানে উপজেলা অনুসারে ১১টি খিত্তা হয়ে অবস্থান করেন জামাতবন্দিরা। আজ শনিবার দুপুর ১২টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে সুনামগঞ্জ জেলা ইজতেমা।