- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

লাফিয়ে লাফিয়ে কালভার্ট পার পথচারীদের

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ভাঙা সড়কে এমনিতেই যান চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তার ওপর সড়কের একটি কালভার্টের পুরোটাই ভেঙে পড়ায় সেই দুর্ভোগের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। তিন ফুট দৈর্ঘ্যের ভাঙা কালভার্ট পথচারীরা লাফিয়ে পার হতে পারলেও বিপাকে পড়তে হয় এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী অটোরিকশা ও মোটরবাইক চালকদের। অনেকেই ভাঙা কালভার্টের ওপর দিকে রিকশা ও মোটরসাইকেল পার করতে বাড়ি থেকে সাথে করে কাঠ নিয়ে আসেন। আবার অনেক রিকশাওয়ালাকে রিকশার সিট খুলে ভাঙা কালভার্টের ওপর রেখে কালভার্ট পার হতে দেখা গেছে। ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা—নোয়াবন্দ সড়কের ঈদগা সংলগ্ন কালভার্ট ভেঙে এমন দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
২০০৪ সালে এলজিইডির অধীনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উকিলপাড়া মোড় (কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন) থেকে নোয়াবন্দ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ হয়। কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই সড়কটির পাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভেঙে যায়। বর্তমানে সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙা সড়কের কারণে যথা সময়ে হাসপাতালে পৌঁছার আগে রোগীর মৃত্যু ঘটছে। এ অঞ্চলের কৃষকদের ধান, সবজি, পোল্টি্র খামারে উৎপাদিত মোরগ পরিবহনের অভাবে স্বল্প মূল্যে স্থানীয়ভাবেই বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে লোকসান গুনছেন উৎপাদনকারীরা। ফলে নোয়াবন্দ, সোনাজানা, মহিষের বাতান, লংকাপাথারিয়া, দুর্বাকান্দা, মগুয়ারচর, মুরাদপুর, গাফরকান্দা, আবুয়ারচর ও হলিাদাকান্দা গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সপ্তাহখানেক আগে এ সড়কের ঈদগা সংলগ্ন কালর্ভাটি পুরোপুরো ভেঙে যায়। ফলে নতুন করে দুর্ভোগের মাত্রা যোগ হয়েছে। এদিকে গত কয়েক বছরে এ সড়ক সংস্কার কাজের জন্য একাধিকবার প্রাক্কলন প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে উপজেলা এলজিইডি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে প্রস্তাব পাস হয়নি। সম্প্রতি হাওরাঞ্চলে বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সমীক্ষা শেষে এ রুটে ৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য পুনরায় প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা এলজিইডি। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
আবুয়ারচর গ্রামের রিকশা চালক কাসেম বলেন, ‘ভাঙা সড়হো (সড়ক) রিকশা চালাইতে বিরাট কষ্ট অয়। অহন কালফাট (কালভার্ট) ভাইঙা বিহদ (বিপদ) বাড়ছে। রিকশার সিট দিয়া কালফাট পার অওন লাগে।’
নোয়াবন্দ গ্রামের বাসিন্দা সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভাঙা সড়কের জন্য দীর্ঘ বছর ধরে দুর্ভোগে আছি। এখন কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় আমরা আরো বিপাকে পড়েছি। এমনিতেই এ সড়কে সহজে যানবাহন চলতে পারে না। কালভার্টটি যদি দ্রুত মেরামত না করা হয় তাহরে হাওর থেকে ধান বাজারজাতকরণে কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।’
এ সড়কের প্রস্তবনা এখনও পাস হয়নি জানিয়ে ধর্মপাশা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আরিফ উল্লাহ খান বলেন, ‘কালভার্ট ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। এটি সংস্কারে দ্রুত ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • [১]