আকরাম উদ্দিন
করোনা পরিস্থিতে সুনামগঞ্জের চামড়া ব্যবসায়ীরা দুই বছর ধরে লোকসানে পড়েছেন। প্রতিবছর সুনামগঞ্জ থেকে হাজার হাজার পিস্ চামড়া পাইকারী দামে ঢাকার ব্যবসায়ীরা কিনে নিতেন। কিন্তু গত দুই বছর ধরে করোনা পরিস্থিতিতে পাইকারী ক্রেতারা চামড়া কিনে নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এতে চামড়া ব্যবসায় ধস্ নেমেছে।
মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক জানান, প্রতিবছর ঈদুল আজহায় পশু কুরবানীর চামড়া সংগ্রহ করতে গ্রামে গ্রামে যেতেন তাঁরা। ঈদের দিন বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্ররা এই চামড়া সংগ্রহের কাজে সহায়তা করতেন। গত দুই বছর ধরে কেউ চামড়া সংগ্রহ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। করোনা পরিস্থিতির আগে একটি গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা এবং সর্বনি¤œ ৮ শ টাকায় বিক্রি করতেন। এখন পাইকারদের কাছে ৫০ টাকা বা ৬০ টাকা বা ৮০ টাকা দরে ১টি গরুর চামড়া বিক্রি করেন তাঁরা। এই চামড়া পাইকারের হাতে তোলে দিতে যে খরচ হয়, তাও পাওয়া যায় না, এমন কথা জানান একাধিক শিক্ষক।
শহরের একাধিক চামড়া ব্যবসায়ী জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে তাঁরা প্রতিটি গরুর চামড়া কিনে নেন ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে। গত বছরও তারা কম দামে কিনে ছিলেন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার গরুর চামড়া। কিন্তু লাভ হয় নি। এবারও কিনেছেন চামড়া কম দামে। কম দামে কিনেও দীর্ঘ লকডাউনের কারণে এবার লোকসানের আশংকায় আছেন ব্যবসায়ীরা।
শহরতলী গ্রাম ইব্রাহীমপুরের সাজাউর রহমান ও শহিদুল ইসলাম জানান, এবার আমাদের কুরবানীর গরুর চামড়া একটি বিক্রি করেছি ৫০ টাকায়। মাদ্রাসার হুজুরেরা চামড়া নিতে চান নি। পরে এক লোকের কাছে এই চামড়া বিক্রি করি।
শহরের হাছননগর মাদ্রাসার শিক্ষক মাও. গোলাম মওলা মানিক জানান, আমরা এবার কিছু গরুর চামড়া পেয়েছি। মানুষ মাদ্রাসায় দান করেছেন। এই চামড়া প্রতিটি ৮০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। করোনা পরিস্থিতির আগে একটি গরুর চামড়া বিক্রি করেছি এক থেকে দুই হাজার টাকায়।
চামড়া ব্যবসায়ী লুৎফুর রহমান জানান, আমরা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিটি গরুর চামড়া কিনে রাখি ৫০-৮০ টাকা দরে। প্রতিটি চামড়ায় লবণ ও কেরিংসহ খরচ পড়ে প্রায় সাড়ে তিন শ’ টাকা। তবুও এবার কিছু চামড়া কিনেছি। এই লকডাউনের সময় ঢাকার পাইকারী ক্রেতা না পেলে পুরোটাই লোকসানে পড়তে হবে আমাদের।
চামড়া ব্যবসায়ী রুমন আহমদ জানান, তিনি দীর্ঘ ৪ বছর ধরে চামড়ার ব্যবসা করে আসছেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে লোকসানে পড়েছেন গত বছর থেকে। এবারও লোকসানের আশংকায় আছেন তিনি।
#