সু.খবর ডেস্ক
একে তো নেই তাসকিন-সানি উপরন্তু মরার উপর ঘা হয়ে দেখা দিল তামিমের জ্বর আর পেটের পীড়া। ব্যাটিংয়ে মাহমুদউল্লাহ-সাকিবরা ভালো করলেও বাকিরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেনি। ফিল্ডিংয়ে বেশ কটি চার আর ওয়াটসনের ক্যাচ মিস। অভিষিক্ত সাকলাইন সজীব বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার কাজটা সহজ করে দিয়েছেন। আর তাই ফলাফলটাও অনুমেয়। টি২০ ক্রিকেটের সুপার টেনের দ্বিতীয় ম্যাচেও হেরেছে বাংলাদেশ। অজিদের বিপক্ষে টাইগারদের হারটা ৩ উইকেটে।
তবে হারলেও তামিম-তাসকিনবিহীন বাংলাদেশ দারুণ লড়াই করেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। প্রথমে ব্যাটিং করে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ৯ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে অজিরা। আগামী ২৩ মার্চ একই মাঠে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে মাশরাফি ব্রিগেড।
ব্যাঙ্গালুরুতে ওয়াটসন-খাজার শুরটা হয়েছিল অসাধারণ। ৬ ওভারেই দলীয় পঞ্চাশ রান পার করেন দুই ওপেনার। ওয়াটসন রয়েসয়ে খেললেও উসমান খাজা খেলেছেন নিজের মতোই। তবে দলীয় ৫১ রানে ফিরতে পারতেন ওয়াটসন। মুম্তাফিজের বলে ওয়াটসনের ক্যাচ ছেড়ে দেন মোহাম্মদ মিথুন। তবে বেশিক্ষণ আফসোস করতে হয়নি টাইগারদের। দলীয় ৬১ রানে রান আউটের ফাঁড়ায় পড়ে বিদায় নেন এই অজি ওপেনার। আউট হবার আগে ২ চার ও এক ছয়ে ১৫ বলে ২১ রান করেন ওয়াটসন।
এরপর দলীয় ৯৫ রানে অজি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। ব্যক্তিগত ১৪ রানে মুস্তাফিজের বলে বোল্ড হন স্মিথ। তবে অপরপ্রান্তে অবিচল থাকেন উসমান খাজা। এর মধ্যে টি২০ নিজের প্রথম অর্ধশতক পূর্ণ করেন খাজা। তবে ১১৫ রানে খাজাকে ফিরিজে দিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরান আল আমিন। আউট হবার আগে ৪৫ বলে ৭ চার ও এক ছয়ে ৫৬ রান করেন খাজা। খাজা আউট হবার খানিক বাদেই আউট হয়ে ফিরে আসেন ডেভিড ওয়ার্নার।
দলীয় ১৩৫ রানে মিচেল মার্শকে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজ। তবে বাংলাদেশের পথের কাটা হয়ে উইকেটে ছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। শেষের দিক সাকিবের বলে ম্যাক্সওয়েল আউট হলেও বাকি কাজটুকু ভালোভাবেই সারেন ফকনার ও হেস্টিংস। ১৫ বলে ২৬ রান করেন ম্যাক্সওয়েল।
টাইগারদের হয়ে সাকিব ৩টি এবং মুস্তাফিজ ২ উইকেট নেন।
এর আগে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা একদমই ভালো হয়নি। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়াটসনের বলে আউট হয়ে ফিরে আসেন সৌম্য সরকার। সাব্বির যখন আউট হয়ে ফিরে আসেন দলের রান তখন ২৫। এরপর মোহাম্মদ মিথুনের সাথে জুটি বাধেন সাকিব অাল হাসান।
এই দুজন মিলে মাত্র ২৫ বলে স্কোরবোর্ডে ৩৭ রান যোগ করেন। দলীয় ৬২ রানে ধৈর্য্য হারিয়ে বসেন মিথুন। অ্যাডাম জাম্পার বলে ওয়াটসনকে ক্যাচ দেন এই ওপেনার। আউট হবার আগে ২২ বলে ২৩ রান করেন মিথুন। আরাফাত সানির জায়গায় মূল একাদশে আসেন শুভাগত হোম। উইকেটে এসে ভালো খেলছিলেন তিনি। তবে সাব্বির-মিথুনের মতো তিনিও ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলেন। অ্যাডাম জাম্পার আগের দুই বলে ১০ রান নেবার পর তৃতীয় বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন শুভাগত। আউট হবার আগে এক চার ও এক ছয়ে ১০ বলে ১৩ রান করেন তিনি।
তবে ইডেনের পর ব্যাঙ্গালুরুতেও দারুণ ছন্দে ছিলেন সাকিব আল হাসান। অজি বোলারদের দারুণভাবে মোকাবেলা করছিলেন তিনি। তবে তিনিও মেজাজটা ধরে রাখতে পারেননি। অ্যাডাম জাম্পার বলে তিনিও উইকেট বিলিয়ে আসেন। দলের রান তখন ১০৫, সাকিবের ২৫ বলে ৩৩। তবে টাইগারদের স্কোরবোর্ডটা সচল রাখেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মাত্র ২৯ বলে ৪৯ রান করেন রিয়াদ। মুশফিকের সাথে মাত্র ২৮ বলে ৫১ রানের জুটি বেধে দলের রানটাকে ১৫৬ তে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্বটা রিয়াদের।
৭ চার ও এক ছক্কায় এই রান করেন রিয়াদ। অপরপ্রান্তে ১১ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন মুশফিকুর রহিম। অজিদের হয়ে অ্যাডাম জাম্পা ৩টি ও ওয়াটসন ২টি উইকেট নেন।
বাংলাদেশ দল: মোহাম্মদ মিথুন, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, শুভাগত হোম, সাকলায়েন সজীব, মুস্তাফিজুর রহমান, আল-আমিন হোসেন
অস্ট্রেলিয়া দল : উসমান খাজা, শেন ওয়াটসন, স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মিচেল মার্শ, জেমস ফকনার, পিটার নেভির, জন হেস্টিংস, কোল্টার নাইল, অ্যাডাম জাম্পা।