- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শত শত মণ ধান বিক্রেতা কৃষকরাও ওএমএস লাইনে

বিশেষ প্রতিনিধি
‘৮ টা গরু আছিল, ২ টা বেইচ্চা (বিক্রি করে) ৮০ হাজার টেকা (টাকা) পাইছি, ঔ টেকা দিয়া ন্যায্য মূল্যের চাউল কিইন্না খায়রাম। ১২ জন মানুষের সংসার ৫ কেজি চাউল (চাল) কিনলে একদিনও যায় না। কোন দিন চিন্তাও করছি না, লাইনো উবাইয়া (দাঁড়িয়ে) চাউল কিনা লাগবো। লাইনো উবাইলে মাইনসে চায়। কিতা করমু (কী করবো) শরম রাখলে (লজ্জা করলে) বাইচ্চা-কাইচ্চারে (ছেলে-মেয়েদের) বাঁচানি যাইতো নায়। গতবারও সাড়ে ৩ হাল জমিন (জমি) কইরা চাইর’শ মন ধান পাইছলাম (পেয়েছিলাম), ইবারও (এবারও) নিজের আড়াই হালের লগে আরো ৬ কেয়ার করছিলাম। একটা ধানও পাইছি না, ধান পাইতাম কিতা খেরও (খর) পাইছি না।’ কথাগুলো বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওর পাড়ের রাধানগর গ্রামের কৃষক মছদ্দর আলী’র।
মছদ্দর আলী জানালেন,‘কেবল তিনি একা নয়। রাধানগর গ্রামের জালাল মিয়া, আব্দুল আজিজ এরা প্রতি বছরই ৩-৪’শ মন ধান পায়। এরাও ওএমএস’র চাল নেবার জন্য মঙ্গলবারও লাইনে দাঁড়িয়েছে। ঘণ্টা- দেড়-ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ৫ কেজি চাল নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। অথচ. গত বছরও মছদ্দর, জালাল ও আব্দুল আজিজ ২০০ মন ধান বিক্রি করেছেন। এই কৃষকদের অন্য কোন উপার্জন নেই।     বোরো ধান বিক্রি করেই সংসার, ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা বিয়ে-সাদীসহ সব ধরণের খরচ চলে।
হাওর-বাওরের উপজেলা তাহিরপুরের রতনশ্রী গ্রামের আব্দুল মান্নান প্রতিবছরই ৩ থেকে সাড়ে ৩’শ মন ধান পান। মঙ্গলবার বিকালে এ প্রতিবেদককে বললনে, ‘লজ্জা ছেড়ে সোমবার ওএমএস’র চাল নেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরেছি। অথচ. এই সময়ে গত বছরও ফকির- ফখরায় (বিক্ষুকরা) চাইলেই ২-৩ কেজি ধান দিলাইছি’।
এই চিত্র কেবল বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর নয়, সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে। যারা এই সময়ে শত শত মন ধান ফড়িয়াদের কাছে বা আড়তে বিক্রি করেছেন বা সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে বিক্রয়ের জন্য ধান প্রস্তুত করে রেখেছেন, তারা ব্যাগ (থলে) হাতে নিয়ে ওএমএস’র ক্রয় কেন্দ্রে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে হয় ৫ কেজি চাল নিয়ে ফিরছেন। না হয় শূন্য ব্যাগ নিয়ে ফিরছেন।
কৃষকরা জানালেন, ওএমএস’র বিক্রয় কেন্দ্র কম হওয়ায় আরো বেশি বিপদে পড়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, জেলার ৪ পৌরসভায় ৯ টি করে ৩৬ টি এবং ১১ উপজেলায় ৩ টি করে ৩৩ টি ন্যায্য মূল্যের পয়েন্টে চাল-আটা বিক্রয় হচ্ছে।
সোমবার রাতে রাষ্ট্রপতি’র উপস্থিতিতে মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, ড. জয়া সেন গুপ্তা এমপি, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ এমপি, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক এমপি, সুনামগঞ্জ- মৌলভীবাজারের নারী সংসদ সদস্য অ্যাড. শামছুন নাহার বেগম শাহানাসহ সুনামগঞ্জে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা কৃষকদের বাঁচাতে ইউনিয়ন অথবা প্রতিটি বাজারে বাজারে ওএমএস’র চালের বিক্রয় কেন্দ্র করার দাবি জানান।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ওএমএস’র চাল বিক্রয় প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘১০ টাকার চালের ব্যবস্থা আগামী ফসল তোলার মৌসুম পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে। ওএমএস’র চাল বিক্রয় ইউনিয়ন পর্যন্ত নিয়ে যাবার চিন্তাও করা হচ্ছে।’

  • [১]