- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শনাক্তের হার বেশী সদর উপজেলায়

স্টাফ রিপোর্টার
নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার সবচেয়ে বেশী সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায়। প্রায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। ২য় ছাতক উপজেলা। শনাক্তের হার প্রায় ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার কম দিরাই উপজেলায়। ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তবে এ উপজেলার করোনা শনাক্ত সকলেই আরোগ্য লাভ করেছেন।
করোনা পরিস্থিতি বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, করোনা শনাক্তে সুনামগঞ্জ জেলার ১১ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশী নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ছাতক উপজেলা থেকে। ৮৯৭ জনের। তবে বেশী নমুনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার। ৭৭৬ জনের। তাহিরপুর উপজেলা থেকে সবচেয়ে কম ২৪৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আর সবচেয়ে কম নমুনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে শাল্লা উপজেলার ২০৫ জনের।
গত ১৯ মে থেকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় নমুনা পরীক্ষার পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। এদিকে করোনা প্রতিরোধের জন্য অপরিহার্য সামাজিক দূরত্ব মানছেন না অনেকেই। এতে ঝুঁকি বাড়ছে। আক্রান্তও বাড়ছে। গত ১জুন, ৫ জুন ও ৬ জুন ৩দিনে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ছাতক উপজেলার ৩ জন। সংক্রমণের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ১২ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলায় প্রথম একজনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ৪৩ তম দিনে অর্থাৎ গত ২৫ মে আক্রান্ত দাঁড়ায় ১০৭ জনে। ৯ জুন অর্থাৎ করোনা সংক্রমণের ৫৮ তম দিন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫০ জন। শেষ মাত্র ১৫ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪৩ জন।
বুধবার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলায় বুধবার পর্যন্ত ৪ হাজার ৯শত ৫১ জনের নমুনার মধ্যে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে ৪ হাজার ১শত ৯২ জনের নমুনা। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার প্রায় ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। প্রতিদিনই নতুন আক্রান্তের সাথে বাড়ছে শনাক্তের হার।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৮১০ জনের নমুনার মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৭৭৬ জনের। করোনা পজেটিভ হয়েছেন ১০২ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার প্রায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ২৮৯ জনের নমুনার মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ২৩৩ জনের। করোনা পজেটিভ হয়েছেন ২০ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার প্রায় ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
দিরাই উপজেলায় ২৯৫ জনের নমুনার মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ২৬৪ জনের। করোনা পজেটিভ হয়েছেন ৭ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার প্রায় ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
শাল্লা উপজেলায় ২৬০ জনের নমুনার মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ২০৫ জনের। করোনা পজেটিভ হয়েছেন ১১ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার প্রায় ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ৪১১ জনের নমুনার মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৩৭৬ জনের। করোনা পজেটিভ হয়েছেন ১৬ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার প্রায় ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।
তাহিরপুর উপজেলায় ২৪৬ জনের নমুনার মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ২২৩ জনের। করোনা পজেটিভ হয়েছেন ১৭ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার প্রায় ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ।
জামালগঞ্জ উপজেলায় ৪৪৫ জনের নমুনার মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ২৬৫ জনের। করোনা পজেটিভ হয়েছেন ১৩ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার প্রায় ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ।
ধর্মপাশা উপজেলায় ৩০৬ জনের নমুনার মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ২৯৮ জনের। করোনা পজেটিভ হয়েছেন ১৮ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার প্রায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৫৭২ জনের নমুনার মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৪৬১ জনের। করোনা পজেটিভ হয়েছেন ২৭ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার প্রায় ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
ছাতক উপজেলায় ৮৯৭ জনের নমুনার মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৭৪৬ জনের। করোনা পজেটিভ হয়েছেন ৯৪ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার প্রায় ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ।
জগন্নাথপুর উপজেলায় ৪২০ জনের নমুনার মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৩৪৫ জনের। করোনা পজেটিভ হয়েছেন ২৫ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার প্রায় ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ।
এদিকে মঙ্গলবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৭ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৩ জন, ধর্মপাশা উপজেলার ১ জন এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৫ জন। সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার কোভিড ১৯ পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়-সুনামগঞ্জে নতুন করে আরোগ্য লাভ করেছেন ৬ জন। নতুন করে সুস্থ হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন তাহিরপুর উপজেলার ৪ জন এবং ছাতক উপজেলার ২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৮৭ জন। আইসোলেসনে নেয়া হয়েছে ২১ জনকে। বর্তমানে আইসোলেসনে আছেন ৩৫০ জন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়-সুনামগঞ্জে নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ৩৩ জন। কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮ জন। মোট কোয়ারেন্টিনে এসেছেন ৫৫৭১ জন। পাশাপাশি কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করেছেন ৫২২৫ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩৪৬ জন। বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩৩ জন। গত ১ মার্চ থেকে বিদেশ থেকে জেলায় এসেছেন ২৫৮৫ জন।

  • [১]