- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শনির হাওর ডুবে যাচ্ছে

আমিনুল ইসলাম ও আকবর আলী, শনির হাওর ঘুরে এসে
জেলার দ্বিতীয় বৃহৎ হাওর শনি ডুবে যাচ্ছে। এই হাওর ডুবলে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর বোরো ফসল ডুববে। একই সঙ্গে ঢলের পানিতে জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ছোট বড় অন্তত ১০ টি হাওরের ২৫ হাজার হেক্টর জমি ডুবে যাবে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় শনির হাওরের ছোট অংশ জামালগঞ্জের শনি রৌয়ার ঝালোখালি বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় তিন উপজেলায় আতংক দেখা দিয়েছে।
এদিকে সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় শনির হাওরের আলীপুর গ্রামের বগিয়ানী স্লুইস গেইটের কাছে নান্টুখালী বাঁধ ভেঙ্গে প্রবল বেগে হাওরে পানি ঢুকছিল বলে খবর পাওয়া গেছে।
শনির হাওর পাড়ের নোয়ানগর গ্রামের স্কুল শিক্ষক মুবাশ্বির আলী একজন কৃষকও। শনির হাওরেই জমি বেশী তার।
মুবাশ্বির বললেন, ‘বৌলাই নদীর পাড় উপচে জামালগঞ্জ উপজেলার রাধানগরের দক্ষিণে এবং বদরপুরের উত্তর সাইডের ঝালোখালি বাঁধ ভেঙে শনি রৌয়া হাওর ডুবে গেছে। দেখতে দেখতে বাঁধের ভাঙন বড় হচ্ছে। এই বাঁধ ঠেকানো না গেলে বৃহৎ শনির হাওরসহ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ও শক্তিয়ারখলা পর্যন্ত ছোট ছোট সকল হাওর ডুবে যাবে’।
ঝালোখালি বাঁধের পাশের বদরপুর গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া বলেন,‘বাঁধের কাজ সঠিকভাবে করেনি। লুটাপাট করেছে তারা। এখন মরেছি আমরা, বাঁধে সকলের জীবন দিয়ে দিলেও ফসল আটকানো যাবে   
না’।
বদরপুরের রফিক মিয়া বলেন,‘শনির হাওরের রাধানগর জাঙালে এবার মাটি ফেলা হয়নি। এ কারণে শনি রৌয়ার পর শনিডুবা, কুটিজোড়া ডুবে রাধানগর জাঙাল দিয়ে শনির হাওরে ঢুকবে পানি’।
হাওর পাড়ের মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম বলেন,‘বাঁধের কাজ খুব খারাপ হয়েছে। মাটি দিছে নামে মাত্র, ¯োপ একেবারেই হয়নি। এখন বাঁধ আটকানো যাবে বলে মনে হচ্ছে না আমার’।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন,‘আমরা বার বার বলেছি, রাধানগর হতে বইগ্যাানী ¯ুইস গেইট পর্যন্ত কম্পার্টমেন্টাল বাঁধ দেবার জন্য, কেউ আমলে নেয়নি, এখন পাউবো’র কর্মকর্তারা ফোনও ধরছে না’।
জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ বলেন,‘শনির হাওর আটকানো যাবে না, বাঁশ, বস্তা, চাটাই কোন কিছুই নাই, কৃষকরা কোন ভাবে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে তুলতে ব্যস্ত, মেম্বাররা পাউবো অফিসে গিয়ে টাকার জন্য ঘুরছে। চেয়ারম্যানরা দলীয় মনোনয়নের জন্য ঢাকায় ঘুরছে, বাঁধ দেখার মানুষ কম’।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন,‘ঝালোখালি বাঁধের ভাঙন দেখতে দেখতে বড় হয়ে যাচ্ছে, চেষ্টা করছি আমরা, তবে ঠেকানো কঠিন। ঠেকানো না গেলে ১৫-২০ হাজার হেক্টর জমি ডুবে যাবে’।

  • [১]