আকরাম উদ্দিন
শহরতলীর বিভিন্ন গ্রামে সুরমা নদীর ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদী ভাংগনের কবলে পড়ে অনেকের ঘর, বাড়ি ও গাছপালা বিলীন হয়ে গেছে। নি:স্ব হয়ে পড়েছে এলাকার অনেক পরিবার। দীর্ঘদিনের চলমান এই নদী ভাঙ্গন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে সরকারী উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে জানান এলাকার মানুষ। এই বিষয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার আবেদন জানিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্ট অফিসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর নদী ভাংগনের কবলে পড়ে ভিটে মাটি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছেন অনেক পরিবার। বর্ষাকালীন সময়ে শহরতলীর মইনপুর, জগন্নাথপুর, পূর্বইব্রাহীমপুরে ভয়াবহ আকারে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সুরমা ইউনিয়নের মইনপুর গ্রামের পুরো এলাকায় দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত এই নদী ভাংগন শুরু হয়েছে। নদী ভাংগনের ফলে অসংখ্য ঘর-বাড়ি ও গাছ-পালা নদীতে বিলীন হয়েছে। নদী ভাংগন বৃদ্ধি পেয়ে গ্রামের চিত্র পাল্টে গেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা মাও. মুজিবুর রহমান ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাই। এই গ্রামের ভাংগন প্রতিরোধে সরকারীভাবে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলেও জানান তাঁরা।
অনুরূপ জগন্নাথপুর গ্রামেও নদী ভাংগন দেখা
দিয়েছে। দীর্ঘ দিনের ভাংগনে এলাকার অনেক ঘরবাড়ি ও গাছ-পালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গ্রামবাসীরা বিভিন্ন সময়ে অফিস আদালতে আবেদন নিবেদন করেছেন। নদী ভাংগন থেকে বাঁচার জন্য তারা মানববন্ধনও করেছেন বলে জানান এলাকার বাসিন্দা শুধাংশু পাল ও নুরুল হক। তারা আরও জানান, আমরা এই নদী ভাংগন রোধের জন্য মন্ত্রীকেও বিষয়টি অবগত করেছি। আমাদের গ্রামের এই ভাংগন প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত কোনো কাজ হচ্ছে না।
পূর্বইব্রাহীমপুর গ্রামে ২০০৭ সালের ৩ আগষ্ট থেকে নদী ভাংগন শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত অসংখ্য ঘর-বাড়ি ও গাছ-পালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পরে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ভাংগনের কিছু অংশে ব্লক স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এই ব্লকগুলো ভাংগন প্রতিরোধে কোন কাজে আসেনি। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ঘর-বাড়ি, গাছপালা ও যাতায়াতের রাস্তা বিলীন হয়েছে নদীতে।
এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হানিফ বলেন, ‘আমরা নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। শতাধিক বাড়ি-ঘর, গাছ-পালা এবং চলাচলের রাস্তাও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমাদের এমনই অবস্থা হয়েছে যে, মাথাগুজার ঠাঁই নেই বললেই চলে। ঘর বাড়ি ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রতিবছর ঘর তৈরি করতে হয় আমাদের। কয়েকদিন আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ৩ হাজার খালি বস্তা পেয়েছি, এখন প্রয়োজন বালু। বালু দিয়ে বস্তা ভরে ভাঙ্গনে ফেলতে লাগে অনেক টাকা। এই টাকা পাবো কোথায়। এই ভাঙ্গন রোধের জন্য আমি এমপি সাহেবের কাছে, ডিসি সাহেবের কাছে, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে এবং সদর উপজেলা ইউএনও সাহেবের কাছে গত সপ্তাহে আবেদন দিয়েছি। আমার এলাকার ভাংগন প্রতিরোধের জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।’
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দীপক দাস বলেন,‘আমরা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি। ভাঙ্গন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’