- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্লাস্টিক পুড়ায় কারা

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়া ও বাঁধনপাড়া’র সংযোগ সড়কে ভাঙারি পুড়ানোর ধোয়ায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসি। প্লাস্টিক পুড়ানোর আগুনের বিষাক্ত বায়ুতে দুষিত হচ্ছে পরিবেশ।
সরজমিনে দেখা যায়, উত্তর নতুনপাড়ার ২টি পুরাতন ঘরে ভাঙারি ব্যবসায়ীরা ভাড়া করে থাকছে। এই দুই ঘরে প্রতিদিন ২৫- ৩০টি ভ্যানগাড়ি করে প্লাস্টিকের বোতল, বাচ্চাদের খেলনাসহ বিভিন্ন রকমের ভাঙারি দ্রুব্য এনে রাখা হয়।
এলাকাবাসি বলছেন, জেলার বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লা থেকে পুরোনো প্লাস্টিকের জিনিসপত্র সংগ্রহ করে এখানে এনে রাখে ভাঙারি ব্যবসায়ীরা। বাছাই করা প্লাস্টিক ভৈরবে পাঠায় এরা। যেগুলো পাঠানো সম্ভব নয় সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। একারণে আশপাশের বায়ূ দূষণে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছেন।
এলাকার সংস্কৃতিকর্মী সাদিকুর রহমান রুবেল বললেন, ভাঙারি ব্যবসায়ীরা প্লাস্টিক আগুনে পুড়ানোয় এলাকার শিশু থেকে বয়স্ক ব্যক্তিদের শ^াসকষ্ট হচ্ছে। এলাকাবাসী বাধা দেওয়ায় কিছু ভাঙারি এখান থেকে সরেছে। এখনও কয়েকজন রয়ে গেছে।
ভাঙারি ব্যবসায়ীদের ঘরগুলোতে রাতে মাদক সেবিদের আড্ডা বসে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, মাদকসেবিরা রাতে এখানে আড্ডা দেয়। তাদেরকে আশ্রয় দেয় এই ভাঙারি ব্যবসায়ীরা। ভাঙারি ব্যবসায়ীদের ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকা থেকে স্থানান্তর করার দাবি জানান তিনি।
নতুনপাড়ার বাসিন্দা অভিজিৎ রায় বললেন, আমরা ভাঙারি ব্যবসায়ীদেরকে প্লাস্টিকে এখানে আগুন না দেওয়ার জন্য বার বার বলে আসছি। এখন দিনে প্লাস্টিক পুড়ায় না, সন্ধ্যা হলেই অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্লাস্টিকের আগুনের ধোয়ার জন্য বাসায় থাকা যায় না।
অভিজিৎ বললেন, কয়েকদিন আগে মাঝ রাতে পুড়া গন্ধে অনেকেই ঘুম থেকে ওঠে সড়কে আসেন। পরে দেখা যায় প্লাস্টিক জড়ো করে আগুন জ¦ালিয়েছে এরা।
ভাঙারি ব্যবসায়ী সাইদুল মিয়া বললেন, প্লাস্টিকে আর আগুন দেবো না। এই বিষয়টির জন্য আমরা লজ্জিত। ভবিষতে প্লাস্টিকে আগুন দিলে এলাকাবাসী যা শাস্তি দিবে তাই মেনে নেব।
ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. অরুণ মিয়া বলেন, আমরা কোনো মাদকসেবিকে আশ্রয় দেই না। যারা এই অভিযোগ করেছেন, সেটি সঠিক নয়।
তিনি বলেন, প্লাস্টিক পুড়ালে এলাকার পরিবেশের ক্ষতি হয়। আবাসিক এলাকায় এতোদিন প্লাস্টিক পুড়িয়ে ভুল করেছি। আর পুড়াব না।
পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম সাবেরীন সাবু বললেন, আমিও ওদের বলেছি এভাবে প্লাস্টিক পুড়ালে এই এলাকা ছাড়তে হবে তাদের। তারা বলেছে, এরকম আর পুড়াবে না।

  • [১]