পুলক রাজ
শীতকাল আর পিঠা যেন একসূত্রে গাঁথা। তাই শীতকালকে পিঠার মৌসুমও বলা হয়ে থাকে। শীত এলে বোঝা যায় পিঠা বাঙালির কতটা পছন্দের। নবান্ন, পৌষ পার্বণ সব উৎসবই হয় নতুন ধানের চালের পিঠাকে কেন্দ্র করে। হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ার এ সময়টাই পিঠার। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত ও দোকানে তৈরি হচ্ছে হরেক রকমের পিঠা। এসব দোকানে গিয়ে মানুষ নিচ্ছে পিঠার স্বাদ। কেউ মাটির আবার কেউ গ্যাসের চুলা নিয়ে বসেছেন মৌসুমি পিঠা বিক্রেতারা। গরম-গরম ধোঁয়া ওঠা ভাপা ও চিতই পিঠার সঙ্গে ভর্তা। গুড় ও নারকেল দিয়ে তৈরি ভাপাও পাওয়া যায়। শীতে ফুটপাতে ভাসমান পিঠার দোকান নিয়ে বসেছেন অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। বিকেল থেকেই চলে ভাপা ও চিতই পিঠার বিক্রি।
পৌর এলাকার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাসস্ট্যান্ড, আলফাত স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্ট), পৌর বিপনী, হোসেন বখত্ চত্ত্বর, নতুনপাড়া, কাজির পয়েন্ট, পশ্চিম বাজার, মধ্যবাজার মরাটিলাসহ বিভিন্ন স্থানে পিঠার দোকান বসেছে।
পিঠা বিক্রেতা মো. হেলাল মিয়া বলেন, আমি ভাপা পিঠা ও চিতই পিঠা বিক্রি করে সংসার চালাই। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ওয়ালটনের সামনে ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়ে বসি। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০ টা বা ১১ টা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি করে থাকি। সন্ধ্যার পর বেশী বিক্রি হয়। প্রতিদিন ৪০০/৫০০ টাকা লাভ হয়। নারিকেল, খেজুরের গুড়, চাউলের গুরি দিয়ে পিঠা তৈরি করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের শুটকির ভর্তা আছে আমার এখানে।
বিক্রেতা মো. আমান উল্লাহ্ বলেন, আমার সংসারে ৪ জন সদস্য রয়েছে। আমি জামতলায় ভাড়া থাকি। খুব কষ্ট করে ঘর সংসার চালাই। তারাপরও আমি ভাপা পিঠা ও চিতই পিঠা বিক্রি করে ভালই আয় করছি। ভাপা পিঠা ১০ ও ৫ টাকা বিক্রি করি। চিতল পিঠা ৫ টাকা করে বিক্রি করি। ৭০০/৮০০ টাকার উপকরণ ক্রয় করলেই স্বল্প টাকায় ব্যবসা করা যায়। লাভও হয় ভালই।
ক্রেতা মোবারক হোসেন বলেন, আমি প্রতিদিন ভাপা পিঠা খেতে আসি ফুটপাতে। খুব মজা লাগে। শীত আসলেই ভাপা পিঠার স্বাদ নিতে পিঠার দোকানে দোকানে ঘুরি।