- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শহরে বখাটের যন্ত্রণায় কিশোরীর আত্মহননের চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নবীনগরে প্রতিবেশি বখাটে নেশাগ্রস্ত যুবকের যন্ত্রণায় অতীষ্ট হয়ে বিষখেয়ে আত্মহননের চেষ্টা করেছিল ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরী। তাৎক্ষণিক সঠিক চিকিৎসায় মেয়েটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
গত ৫ জুন শুক্রবার দুপুর ১২ টায় নিজের বসতঘরে আত্মহননের চেষ্টা করে কিশোরী। এঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত অভিযুক্ত বখাটে মো. আসপিয়া (২০) কে আটক করতে পারেনি পুলিশ। আছপিয়া পৌর শহরের ১ নং ওয়ার্ডের নবীনগরের ধন মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার বিকালে প্রতিবেশি মেয়েটিকে উত্যক্ত করেছিল নবীনগরের মো. আছপিয়া। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় লোক লজ্জায় পরদিন শুক্রবার দুপুরে ইদুর মারার বিষ খেয়ে আত্মহননের চেষ্টা করে ওই কিশোরী। তাৎক্ষণিক পরিবারের লোকজন সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক কিশোরীর পেট থেকে বিষ বের করেন। দুইদন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরে কিশোরী। এঘটনায় অভিযুক্ত মো. আসপিয়ার বিরুদ্ধে গত ৭ জুন রবিবার ওই কিশোরীর মা লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ তাকে আটক করতে পারেনি।
থানায় দায়ের করা কিশোরী মায়ের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রতিবেশী হওয়ায় আসপিয়া বেশকিছু দিন ধরে ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাবসহ নানাভাবে উত্যক্ত করে আসছিল। ইতোপূর্বে এঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়। তখন আসপিয়ার ও তার মা আফিয়া বেগম অঙ্গীকার করেন ভবিষ্যতে এমন কাজ আর হবে না। কিন্তু গত ৪ জুন বিকালে প্রতিবেশী এক মহিলার বসতঘরে ওই কিশোরীকে উত্যক্ত ও টানা হেঁছড়া করে আসপিয়া। কিশোরীর মা আসপিয়ার মাকে বিষয়টি জানালে উল্টো গালিগালাজ করে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে লোকলজ্জার ভয়ে ঘটনার পরদিন ৫ জুন দুপুরে ইদুর মারার বিষ খেয়ে ফেলে কিশোরী। পরিবারের লোকজন সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকগণ তার পেট থেকে বিষ বের করেন। এবং এঘটনায় গত ৭ জুন অভিযুক্ত মো. আসপিয়ার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন কিশোরীর মা। কিন্তু গত দুইদিনেও পুলিশ তাকে আটক করতে পারেনি।
নবীনগরের বাসিন্দা আইনজীবী নূরে আলম সিদ্দিক উজ্জ্বল বলেন,‘ ওই কিশোরীকে উত্যক্ত ও পরে আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনাটি সঠিক। স্থানীয়রা সালিশ করেও ছেলেটিকে সংশোধন করতে পারেন নি। মেয়েটিকে বাঁচাতে পুলিশের কঠোর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।’
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্য মো. সহিদুর রহমান বলেন,‘ একজন মহিলার কাছ থেকে এমন একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরত্বসহকারে বিষয়টি দেখার জন্য একজন অফিসারকে দায়িত্বপ্রদান করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • [১]