- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম, সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন, সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত সহ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন।
পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভা শেষে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ।
এদিকে সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট’র পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এসময় জেলা পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত জেলার একমাত্র ইংলিশ ভার্সন স্কুল বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল সুনামগঞ্জ এর পক্ষ থেকে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) তামিম আর ইয়ামীন, স্কুলের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল হাসান, সহকারী শিক্ষক নাজিরা জাহান চৌধুরী, দিপায়ন চৌধুরী, রুমা চক্রবর্তী, ফারজানা আক্তার, নিটু রানী দাস, আমিনা খাতুন, শুভ্র চক্রবর্তী, স্নিগ্ধা রায়, অভিজিৎ রায়, মো. আব্দুল মালেক।
সুনামগঞ্জ পৌর কলেজে অধ্যক্ষ মো. শেরগুল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক কাঞ্চন বৈদ্যের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক মো আবু নাসের, সহকারী অধ্যাপক শুভংকর তালুকদার, সহকারী অধ্যাপক রামানুজ রায়, প্রভাষক শেখ ফারজানা সুমা, প্রভাষক তাসলিমা আক্তার শান্তা, প্রভাষক কাঞ্চন বৈদ্য, প্রভাষক কামাল হোসাইন, প্রভাষক ওসমান গনী, প্রভাষক পূন্য রানী দাস প্রভাষক মো আফাজ উদ্দিন সহ. গ্রন্থাগারিক স্বপন রায়।
এছাড়াও জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে।
এছাড়াও দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সকাল ১০টায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চিত্রাংকন ও উপস্থিত রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ পি.টি.আই বধ্যভূমিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা করা হয়।
প্রসঙ্গত, ৫০ বছর আগে এই দিনে দেশের স্বাধীনতার চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের স্থানীয় সহযোগী রাজাকার, আলবদর এবং আল-শামসের সহায়তায় দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। ১৯৭১ সালের ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বর চোখ বেঁধে নিজ নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয় অধ্যাপক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিল্পী, প্রকৌশলী ও লেখকসহ মাটির দুই শতাধিক কৃতী সন্তানকে। প্রথমে তাদের চোখ বেঁধে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে টর্চার সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীকালে, নতুন উদীয়মান বাংলাদেশকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পঙ্গু করার জন্য তাদের বিভিন্ন বধ্যভূমিতে নিয়ে, বিশেষ করে রায়েরবাজার এবং মিরপুরে হত্যা করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর যারা খুনিদের রোষানলে পড়েন তাদের মধ্যে ছিলেন ডা. আলিম চৌধুরী এবং ডা. ফজলে রাব্বি, সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজুদ্দিন হোসেন, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এসএ মান্নান, সেলিনা পারভীন এবং সাহিত্যিক মুনীর চৌধুরী সহ আরো অনেকে। এরপর থেকে দিনটি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

  • [১]