- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শহিদ মিনার সংক্রান্ত সংবাদের বিষয়ে পৌর মেয়রের প্রতিবাদ

গত ১৮ আগস্টের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ‘জুবিলীর মাঠের শহীদ মিনারের ফলক ভেঙে ফেলা হয়েছে’ শীর্ষক খবরের একটি অংশের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ূব বখত জগলুল একটি বিবৃতি পাঠিযেছেন। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেছেন,  উক্ত সংবাদে জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এনামুল কবির ইমনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে,‘জেলা প্রশাসক, পৌরসভার মেয়র সহ সংশ্লিষ্ট কমিটি সরকারি জুবিলীর মাঠে শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।’ পৌর মেয়র জেলা পরিষদ প্রশাসকের এই বক্তব্যকে সত্যের অপলাপ, বিভ্রান্তিমূলক এবং হীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত উল্লেখ করে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছেন তা নি¤œরূপÑ
জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের স্থান    নির্ধারণের জন্য গত বছর আমাকে আহবায়ক করে একটি ‘সাইট সিলেকশন কমিটি’ গঠন করা হয়। এই কমিটি যে কয়টি স্থান নির্বাচন করে সেগুলোর মধ্যে জুবিলীর খেলার মাঠও ছিল। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী পুরনো শহীদ মিনার অন্যত্র সরানো এবং জুবিলী স্কুলের একমাত্র খেলার মাঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের বিষয়ে জনমনে মতানৈত্য দেখা দেয়ায় ৩ এপ্রিল, ২০১৫খ্রি. তারিখে সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ পাক হানাদার মুক্ত হওয়ার সঙ্গে মঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ হাতে গড়া শহীদ মিনারটি অন্যত্র সরানোর তীব্র বিরোধিতা করেন উক্ত সভায় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাগণ, সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ফলে জুবিলী স্কুলের খেলার মাঠে জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ না করে ঐতিহ্যবাহী শহীদ মিনারটিকে সম্প্রসারিত করার বিষয়ে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সভার পরদিন অর্থাৎ ৪ এপ্রিল, ২০১৫ খ্রি. তারিখে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় আমার সভাপতিত্বে উপরিউক্ত বিষয়ে আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জনাব এমএ মান্নান এমপি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব ড. মোহাম্মদ সাদিকসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের  নেতৃবৃন্দ। এই সভায়ও জুবিলী স্কুলের খেলার মাঠে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ না করে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটিকে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে সম্প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। কাজেই জুবিলী স্কুলের খেলার মাঠে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ নির্মাণের সিদ্ধান্তটি সেদিনই পুরোপুরি বাতিল হয়ে যায়।
সম্প্রতি কাউকে কিছু না জানিয়ে, এমনকি শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য গঠিত উক্ত সাইট সিলেকশন কমিটিকেও অবগত না করে এবং উপরিউক্ত দুটি সভার সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এনামুল কবির ইমন একক সিদ্ধান্তে জুবিলী স্কুলের খেলার মাঠে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এতে বিক্ষুদ্ধ হয়ে স্কুলের ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে। তাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন জানান জুবিলীর প্রাক্তন ছাত্র, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ সমাজের সচেতন নাগরিকবৃন্দ। এ কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে পরিচালিত করার হীন উদ্দেশ্যে বারবার বলা হচ্ছে যে, জুবিলী স্কুলের খেলার মাঠে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট সাইট সিলেকশন কমিটি তথা সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র, যা সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট, বিভ্রান্তিমূলক এবং রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

  • [১]