- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শহীদ জগৎজ্যোতিকে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠা করায় অভিনন্দন

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগার থেকে অবশেষে ‘পাবলিক লাইব্রেরি’র ভুত নামানো হলো। শুধু তাই নয় প্রতিষ্ঠানটির খোলা চত্ত্বরে এই অমিতবিক্রম শহীদের ভাস্কর্য স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট। মঙ্গলবার পাঠাগারের বার্ষিক সাধারণ সভায় অন্যান্য বিষয়ের সাথে এই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পাওয়া গিয়েছে। সংগত কারণেই শহর ও জেলার প্রগতিশীল মহল এতে দারুণ উৎফুল্ল। এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় ফেসবুক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁরা পাঠাগারের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।  গত তিন বছর ধরে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর এই দাবি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে পাঠাগার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছিল। অবশেষে এই দাবিটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় আমরা শহীদ জগৎজ্যোতি পাঠাগারের নবনির্বাচিত কমিটির সকলকে এবং অবশ্যই জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানাই। আমরা আশা করছি গৃহিত সিদ্ধান্ত দুইটি অবিলম্বে কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মঙ্গলবার পাঠাগারের বার্ষিক সাধারণ সভা উপলক্ষে যে কার্যবিবরণী সরবরাহ করা হয়েছিল তার তথ্য অনুসারে পাঠাগারের পাঠক সংখ্যার একটি হতাশাজনক চিত্র দেখা যায়। পাঠাগার হলো জাতির মননশীলতা তৈরির জায়গা। এখানে যত বেশি লোকজন আসবেন তত প্রতিষ্ঠানটি জাতি গঠনে অনবদ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। পাঠাগারে যদি পাঠকই না আসেন কিংবা বই নিয়ে না পড়েন তাহলে আমরা একটি মননশীল ও জ্ঞাননির্ভর প্রজন্ম পাব কোথায়? পাঠাগারের নবনির্বাচিত কমিটি এই বিষয়টি যথার্থভাবে চিহ্নিত করে পাঠক বাড়ানোর অভিপ্রায়কে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বলে কার্যবিবরণীসূত্রে জানা গেল, এইটি সকলের জন্য স্বস্তিকর।
মুক্তিযোদ্ধারা জাতির অহংকার। তাঁরা দেশের স্বাধীনতার এক একটি স্তম্ভ। এদের অবজ্ঞা-অস্বীকার করার অর্থ হলো নিজেকে অস্বীকার। বলাবাহুল্য স্বাধীনতার পর এই অস্বীকারের পালাটি বেশ দীর্ঘই ছিল বলা চলে। ফল হয়েছে আজ তরুণ প্রজন্ম জানে না শহীদ জগৎজ্যোতি, তালেব, ওয়াছিদ আলী, আবুল হোসেন এরা কে ছিলেন। কিছু প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সংযুক্ত করা হয়েছিল কিন্তু পচাত্তরের পর সেগুলো একে একে লুপ্ত হতে থাকে। এক পর্যায়ে যাও বা শহীদ জগৎজ্যোতির নামটি পাঠাগারের নামে ফিরে এসেছিলো তাও ব্র্যাকেটে রেখে দেয়া হয়েছিল পরিত্যাজ্য নামটিও। এবার চূড়ান্তভাবে লেজ খসে পড়ায় জগৎজ্যোতি নামের প্রবাদপ্রতীম বীরপুরুষটি স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সুযোগ পেলেন। আমাদের দাবি এই অঞ্চলের অমর শহীদদের নাম কোন না কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত করা এবং বীর শহীদানের পরিচয়পর্ব সকলের সামনে তুলে ধরা হোক। এই বিষয়টি স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিশীল ধারায় দেশকে পরিচালিত করতে সহায়তা করবে। নতুন প্রজন্ম এই ধারায় গড়ে উঠবে।
খুব তাড়াতাড়ি পাঠাগার চত্ত্বরে শহীদ জগৎজ্যোতির ভাস্কর্য দেখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে আবারও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ।   

  • [১]