স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন গণহত্যায় শহীদগণের পরিবারের সদস্য হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার আবেদন করেছেন।
গত ২৮ নভেম্বরের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দপ্তরে তিনি এই আবেদন জমা দেন তিনি।
অমল কান্তি কর প্রধানমন্ত্রীর নিকট করা আবেদনে উল্লেখ করেন, তাঁর পূর্ব পুরুষেরা ময়মনসিং জেলার গৌরীপুর থানার শালীহর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট পাকবাহিনী শালীহর গ্রাম ঘেরাও করে তাঁর পূর্বপুরুষদের বাড়ীঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খাড় করে দেয়। ঐ সময় তাঁর দাদা (বাবার বাবা) জ্ঞানেন্দ্র মোহন কর ও তাঁর ভাই মোহিনী মোহন কর এবং তাঁদের কাকাতো ভাই তারিনী মোহন কর, কামিনী মোহন কর, রায় মোহন করসহ ১৩ জনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। এরপর তাঁর পল্লী চিকিৎসক বাবা বাদল কান্তি কর নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে তাহিরপুরের টেকেরঘাট সাবসেক্টরের বড়ছড়া শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং টেকেরঘাট সাব সেক্টরে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা কাজে অংশ নেন। দেশ স্বাধীনের পর পরিবারসহ তার বাবা তাহিরপুরে বসতি স্থাপন করেন। এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।
লিখিত আবেদনে আওয়ামী লীগ নেতা অমল কর শালীহর গণহত্যায় শহীদ পরিবারের সদস্য হিসাবে তাঁদেরকে স্বীকৃতি দেবার আবেদন জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে করা আবেদনে অমল কান্তি কর উল্লেখ করেন, শালীহর গ্রামের গণহত্যায় তার পিতামহসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হলেও অদ্যবধি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পান নি। মুক্তিযুদ্ধের ২৪ বছর পর ১৯৯৫ সালে শালীহর বধ্যভূমিতে শহীদ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয় এবং এখন প্রতিবছর শালীহর গণহত্যা দিবস পালিত হচ্ছে।
এছাড়া অমল কান্তি কর প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদনে জানান, ২০০৪ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের সময় তাহিরপুরে তাদের বাড়ি-ঘর অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট করা হয়। তাহিরপুরের বাজারে তাদের মালিকানাধীন ফার্মেসী ভাংচুর ও লুটপাট করে চারদলীয় জোটের সন্ত্রাসীরা। এরপর ২০১৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্যাতন ও কারাভোগ করেন তিনি।