- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন আজ

স্টাফ রিপোর্টার
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠপুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন আজ। ১৯৬৪ সালের এই দিনে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে তার জন্ম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদেরও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের মর্মান্তিক এই হত্যাযজ্ঞে পাষ- খুনিদের হাত থেকে রেহাই পায়নি নারী ও শিশুরাও। সেদিন মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত হত্যাকা- হিসেবে চিহ্নিত।
ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শেখ রাসেল যখন শহীদ হন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। অথচ নিষ্পাপ, নিরপরাধ অতটুকু শিশুকে হত্যা করতেও সেদিন খুনিচক্রের বুক কাঁপেনি।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে সংঘটিত নৃশংস এই হত্যাকা-ের প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বেরিয়ে এসেছে ওই ভয়াল রাতের বর্বরোচিত ঘটনার ভয়াবহ চিত্র। তাদের বিবরণ থেকে জানা গেছে, শিশু রাসেল সেদিন দোতলায় বঙ্গবন্ধুর শোবার ঘরে ঘুমিয়েছিলেন বাবা শেখ মুজিবুর রহমান এবং মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের সঙ্গে। ভোর ৫টার দিকে খুনি ঘাতকচক্র ওই বাড়িতে আক্রমণ চালিয়ে অন্যদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। এই সময় বেগম মুজিব জীবন বাঁচাতে শেখ রাসেলসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে দোতলার শোবার ঘরে দরজা লাগিয়ে দিয়েছিলেন। একপর্যায়ে খুনিদের একজন মেজর আজিজ পাশা তার ফোর্সসহ দোতলায় উঠে আসে। তারা বঙ্গবন্ধুর কক্ষের দরজা ধাক্কাধাক্কি করে সেটি খোলার জন্য বললেও বেগম মুজিব প্রথমে তা করেননি। ঘাতক সেনারা দরজায় গুলি করতে শুরু করলে দরজা খুলে দিতে বাধ্য হন তিনি।
এরপর ঘাতকরা বেগম মুজিব, শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ আবু নাসের এবং অন্য এক পরিচারককে নিচে নামিয়ে আনে। বেগম মুজিব সিঁড়ির নিচে শেখ মুজিবের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ওই সময় বেগম মুজিবকে বঙ্গবন্ধুর শোবার ঘরের সামনে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে কক্ষের ভেতরে শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামাল ও তার স্ত্রী রোজী জামালকে হত্যা করা হয়।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী এবং বঙ্গবন্ধুর রেসিডেন্ট পিএ কাম রিসিপশনিস্ট আ ফ ম মুহিতুল ইসলামের সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, ওপরে যখন এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চলছিল, তখন নিচে থাকা শেখ রাসেল মায়ের কাছে যাবেন বলে কান্নাকাটি করছিলেন। একই সঙ্গে সেখানে থাকা মুহিতুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে বলছিলেন, ‘ভাই আমাকে মারবে না তো?’ এই সময় ঘাতকরা মুহিতুল ইসলামকে রাইফেলের বাঁট দিয়ে আঘাত করে শেখ রাসেলকে নিয়ে পুলিশ বক্সে আটকায়। এই সময়ও মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করতে থাকলে মেজর আজিজ পাশা ল্যান্সারের একজন হাবিলদারকে রাসেলকে তার মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার হুকুম দেয়। ওই হাবিলদার শেখ রাসেলকে হাত ধরে ‘চল তোমার মায়ের কাছে নিয়ে যাই’ বলে দোতলায় নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর ওপর থেকে গুলির আওয়াজ এবং কান্নাকাটি ও চিৎকার শোনা যায়। পরে ওই হাবিলদার নিচে নেমে গেটের কাছে এসে মেজর আজিজ পাশাকে বলে, ‘স্যার, সব শেষ’।
শেখ রাসেলের লাশ বঙ্গবন্ধুর শোবার ঘরে তার দুই ভাবি সুলতানা কামাল এবং রোজী জামালের মরদেহের মাঝখানে একটি লুঙ্গিতে মোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। তার পরনে ছিল হাফ প্যান্ট। গুলিতে মাথা উড়ে গিয়েছিল। ১৬ আগস্ট পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে রাসেলকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আজ সকাল ৭টায় সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে শেখ রাসেল দিবসের কেন্দ্রীয় মূল অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার, সকাল সাড়ে ১০টায় ‘শেখ রাসেল: দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’ শীর্ষক সেমিনার, প্রেজেন্টেশন, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সরকারি শিশু পরিবারে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে দোয়া মাহফিল ও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বিকালে সুনামগঞ্জ লোক সংস্কৃতি সংগ্রহশালায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের আয়োজনে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা এবং শেখ রাসেলের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

  • [১]