ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
অবশেষে নতুন করে পাকাকরণ করা হচ্ছে শান্তিগঞ্জের পাগলা-বীরগাঁও-এর ব্যস্ততম সড়কটি। তবে সড়কের নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইটভাঙা, মাটি মিশ্রিত পাথর ও নিম্নমানের ভিটমাটি ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন প্রতীক্ষার পর সড়কটির প্রশস্তকরণ ও নতুন করে কাজ শুরু হলেও কাজে অনিয়ম ও গাফিলতি হচ্ছে।
স্থানীয় গণমান্যরা জানান, সড়কের কাজে অনিয়ম হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা জানান, কাজে ব্যবহারের জন্য কান্দিগাঁও কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের সামনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সালেহ এন্ড ব্রাদার্সের পক্ষ থেকে যে ইটভাঙা এনে রাখা হয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের। পাথরের স্তুপেও দেখা যাচ্ছে মাটি আর মাটি। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একাধিক ব্যক্তি বেশ কয়েকবার ঢালাইয়ের কাজে মাটিসহ পাথর ব্যবহার করতে নিষেধও করেছেন। এছাড়াও সড়ক প্রশস্ত করতে মাটি খুঁড়ে যে অংশে বালি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা বালি নাকি ভিটমাটি তা বোঝার উপায় নেই। ঢালাইয়ের কাজে সিমেন্টের সঙ্গে অনুপাতের তুলনায় বালির বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
জানা যায, সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাগলা বাজার অংশ থেকে বীরগাঁও বাজার পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার পাগলা-বীরগাঁও সংযোগ সড়ক। সড়কটির পাগলা বাজার অংশের শুরু থেকে ১শ ৭০ মিটার দু’পাশেই প্রশস্ত করা হবে। বাজারের প্রথম অংশে ৭.০৩ মিটার বা ২১.৯ ফুট প্রায় প্রশস্ত হবে। বাকী অংশে পাকা অংশ বাড়ানো হবে না, তবে মাটির অংশ প্রশস্ত করা হবে। উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অফিসের দায়িত্বশীলরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
পাগলা বাজারের বীরগাঁও রোডের মুখ থেকে ৭ কিলোমিটার অংশের কাজের জন্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় ভাগে বীরগাঁও খালপাড় থেকে গুইড়াখালের ব্রিজ হয়ে বীরগাঁও বাজার পর্যন্ত কাজ হবে। এখানেও একই পরিমাণ বরাদ্দ রয়েছে।
দ্বিতীয় ভাগে এখন চলছে মাটি ভরাটের কাজ। মাটি ভরাটের কাজেও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন অনেকে। বীরগাঁও খালপাড় অংশে পাখিমারা হাওরের ঢেউ ঠেকানোর জন্য পাথরের যে ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে, সেই ব্লক না উঠিয়ে ব্লকের উপরে মাটি ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, যদি ব্লকের উপর মাটি ফেলা হয়, বৃষ্টি এবং বন্যার সময় এই মাটি সরে যাবে।
কান্দিগাঁও গ্রামের মো. কামাল হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন বললেন, গত কয়দিন আগে কান্দিগাঁও কেন্দ্রিয় মসজিদের সামনে সড়কের উপর নি¤œমানের ইটভাঙা রাখা হয়েছে। পাথরের স্তপে কেবল মাটি দেখা যায়। ভিটমাটি না বালির ব্যবহার করা হচ্ছে তা বুঝার উপায় নেই। ঢালাইয়ের কাজে যে পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে, সে তুলনায় বালির ব্যবহার হচ্ছে বেশি।
পাগলা-বীরগাঁও সড়কের প্রথম অংশের কাজ করছে ফরিদপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সালেহ্ এন্ড ব্রাদার্স। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. সালেহ্ আহমদ বললেন, আমার প্রতিষ্ঠানের কোনো অনিয়মের অতীত রেকর্ড নেই। আমি এরকম ছোট কাজ করিও না। সড়কে রাখা ইটভাঙার ব্যপারে যারা অভিযোগ করেছেন, তাদের ইট সম্পর্কে হয়তো ধারণা কম। এখানে দুই নাম্বার কোনো ইট ব্যবহার করা হয়নি। পাথরে মাটি থাকতে পারে। আমি কথা বলবো, আমার স্টাফ ও ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। পাথর ধুয়ে ব্যবহারের কথা বলে দেব। বালি ও ভিটমাটির ব্যপারের এক্ষুনি কথা বলে ব্যবস্থা নেব।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আল নূর তারেক বললেন, আমি ইট, বালি, ভিটমাটিসহ সব কিছু দেখবো। কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেবো। ইট-পাথর যদি ভাল না হয়, তাহলে এগুলো দিয়ে কাজ করতে দেওয়া হবে না।