- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শান্তিগঞ্জে বন্যায় সড়কের ক্ষতি ২শ’ কোটি টাকা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বন্যায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডির) প্রায় ১শ’ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে তলিয়েছিলো। এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে রাস্তা—ঘাটের। কোথাও সড়কের মাঝখান ভেঙে আলাদা হয়ে যায়, কোনো সড়কের উপরের ঢালাই উঠে যায়, কোথাও আবার সড়কে তৈরি হয় বড় বড় গর্তের। এছাড়াও মাটি সরে যায় অধিকাংশ সড়কের। নতুন করে নির্মাণ করা অনেক সড়কও হয়ে পড়ে চলাচল অনুপযোগী। এতে প্রায় ২০২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে শান্তিগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি।
শান্তিগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, এবারের বন্যায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের এলজিইডির প্রায় সকল সড়কই পানিতে তলিয়ে গিয়েছিলো। এতে সড়কে থাকা মাটি ওয়াস আউট হয়েছে (ধুয়ে গেছে)। অনেক পাকা সড়ক ভেঙে গেছে। সড়কে বড় বড় গর্ত হয়েছে। ঢালাই উঠে সুড়কি বেরিয়ে পড়েছে অনেক সড়কে। উপজেলায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়ক এমন ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতি পরিমান টাকার অঙ্কে প্রায় ২০২ কোটি টাকা হবে।
সূত্র জানায়, এলজিইডির উপজেলা সদরের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী সড়ক, ইউনিয়ন পর্যায়ে তুলনামূলক বড় সড়ক, গ্রামাঞ্চলের সড়ক ধরণ এ ও ধরণ বি ক্যাটাগরির সড়ক রয়েছে। গুরুত্বের ভিত্তিতে এসব সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হবে। সড়ক সংস্কারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন আসলে সংস্কার কাজ শুরু হবে। তবে খুব দ্রুত এ কাজ শুরু হবে বলে ধারণা করছেন এলজিইডির কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ডুংরিয়া বাজার থেকে হাঁসকুড়ি—ধলমৈশা সড়ক, আক্তাপাড়া মিনাবাজার থেকে ইসলামপুরের সড়ক, ছয়হারা—মৌগাঁও পয়েন্ট থেকে লালপুর—সলফের রাস্তা, আমরিয়া গ্রামের সড়কসহ উপজেলার প্রায় সবক’টি প্রধান প্রধান সড়কের পাশ থেকে মাটি সরে গেছে। পাকা সড়ক ভেঙে গেছে। অনেক জায়গায় সড়ক থেকে পাকা স্ল্যাব সরিয়ে দিয়েছে পানির প্রচণ্ড স্রোত। বীরগাঁও’র প্রধান সড়ক থেকে মাটি সরে গেছে। বাজার থেকে উমেদনগর পর্যন্ত সড়কের পাকা স্ল্্যাব সরিয়ে দিয়েছে পানির স্রোত। বীরগাঁও যাত্রী ছাউনি থেকে স্কুল—পয়েন্ট হয়ে হাঁসকুড়ির রাস্তার বেহাল দশা। উঠে গেছে পাকা চটকা, গর্ত হয়েছে কোনো কোনো স্থানে, পাশ থেকে সরে গেছে মাটিও। সলফ—ধরমপুর সড়কের তো আরো বেহাল অবস্থা। দরগাপাশার ভমবমি বাজার থেকে ইশাখপুর—শ্রীরামপুর স্কুল হয়ে যে সড়ক গিয়েছে সে সড়কের অবস্থাও প্রায় চলাচল অনুপযোগী। আক্তাপাড়া—ইসলামপুর সড়কের ভয়াবহ অবস্থা, আমরিয়া—বাংলা বাজারের সড়কও ভেঙে গেছে। আক্তাপাড়া বাজার থেকে নূরপুর গ্রামের সড়ক এখন নেই বললেই চলে। এদিকে পূর্ব পাগলায় খাড়াই যাত্রী ছাউনি থেকে পিঠাপশী পর্যন্ত সড়ক, দামোধরতপী থেকে বেতকোনা, আলমপুর, ঘোড়াডুম্বুরের সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্যায়। পঞ্চগ্রাম—চিকারকান্দি গ্রামের নির্মাণাধীন রাস্তা থেকে সরে গেছে মাটি। একই অবস্থা গনিগঞ্জ—শিমুলবাক, নোয়াখালী বাজার—জিবদারা ও রঘুনাথপুর—স্কুল ও মসজিদে যাওযার সড়কের। পাথারিয়া বাজারের খেয়াঘাট পার হওয়ার পর নদীর পূর্ব পাড়ের সবগুলো গ্রামে চলাচলের প্রধান সড়কটিরও বেহাল দশা। আসামমুড়া থেকে জয়সিদ্ধি পর্যন্ত সড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি করেছে এবারের বন্যা। পশ্চিম পাগলার হোসেনপুর পয়েন্ট থেকে নিদনপুর হয়ে ছুনানপুর পর্যন্ত সড়কটি একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে বললেও অত্যুক্তি হবে না। স্থানীয় এলাকাবাসীরা এসব সড়ক দ্রুত সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের জোর দাবি জানান।
আসামমুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও দিরাই সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জাকারিয়া আহমদ শিপন বলেন, বন্যায় রাস্তা—ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের তো বটেই পাথারিয়া বাজারের পূর্ব পাড়ের সম্পূর্ণ রাস্তাই এখন বিপদজনক। খেয়াঘাট থেকে গ্রামে উঠার রাস্তাটির কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। খুবই খারাপ অবস্থা। রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার করা খুব জরুরি।
বেতকোনা গ্রামের বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বন্যায় রাস্তার দু’পাশ থেকে মাটি সরে গেছে। ঢালাই ভেঙে পড়ছে। পুনঃসংস্কার জরুরি। তাড়াতাড়ি রাস্তা ঠিক করার দাবি করছি।
শ্যামল বিশ্বাস নামের পশ্চিম পাগলার এক বাসিন্দার বলেন, আমাদের গ্রামের রাস্তার তল থেকে সব মাটি সরে গেছে। প্রচণ্ড ঢেউয়ের কারণে পাকা অংশ সরে গেছে। রাস্তা দ্রুত ঠিক করা হোক।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রাইজুল বলেন, আমাদের ইউনিয়য়ে প্রবেশের প্রধান সড়ক, যাত্রী ছাউনি থেকে হাঁসকুড়ি, বাজার থেকে উমেদনগর, সলফ থেকে ধরমপুরসহ সব রাস্তারই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব রাস্তার দ্রুত সংস্কার জরুরি।
শান্তিগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডির) কর্মকর্তা আল নূর তারেক বলেন, বন্যায় আমাদের উপজেলায় ১০০ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। যার নির্মাণ বা সংস্কার ব্যায় ধরা হয়েছে ২০২ কোটি টাকা। আমরা প্রকল্প প্রস্তুত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে চাহিদা পাঠিয়েছি। প্রকল্প অনুমোদন হয়ে আসলেই আমরা কাজে হাত দেবো। আশা করছি আগামী অর্থ বছরে (২০২২—২৩) এ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। গুরুত্বের ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে আমরা কাজ করবো।

  • [১]