- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শান্তিগঞ্জে ভুভুজেলায় অতিষ্ঠ প্রার্থী-ভোটাররা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
পল্লীচিকিৎস সঞ্জিত কুমার পাল মলয়। শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজরের মূল পয়েন্টেই তাঁর ঔষধের দোকান। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রতীক আনতে তার দোকানের সামনে দিয়ে প্রার্থী-সমর্থকেরা সকাল থেকেই মিছিলে নিয়ে যাচ্ছে উপজেলার নির্বাচন কার্যালয়ে। অধিকাংশ প্রার্থীর সমর্থকরাই মিছিলে শ্লোগান দেওয়ার পরিবর্তে বাজাচ্ছেন শব্দদূষণ সৃষ্টিকারী ভুভুজেলা বাঁশি। এতে খ্বু বিরক্ত হচ্ছিলেন প্রবীণ এ পল্লী চিকিৎসক। এ প্রতিবেদককে দেখে মলয় পাল বলেন, কী একটা বাজে অবস্থা? এরকম অপসংস্কৃতি আমদানি হয়েছে। কোন প্রার্থী, আর প্রতীক কী তা কোনোভাবেই বুঝার উপায় নেই বাঁশির ভুঁ ভুঁ শব্দে। শিশুদের তো চরম ক্ষতি হচ্ছেই, পাশাপাশি বড় মানুষদেরও কানের খুব অসুবিধা হচ্ছে। শুধু মলয় পাল নন, ভুভুজেলার শব্দে অতিষ্ঠ উপজেলার সব ভোটার-সাধারণ মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনে মিছিল হবে এটি একটি চলমান অলিখিত প্রক্রিয়ার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি সত্যিই উদ্বেগ প্রকাশ করার মতো বিষয়। ভুভুজেলার শব্দ বিশেষ করে শিশু এমনকি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, ৪৫ থেকে ৬০ ডেসিবল শব্দ একজন মানুষ গ্রহণ করতে পারেন। এর বেশি শব্দ হলে মানুষের জন্য তা খুবই ক্ষতির কারণ হবে। তবে, ৮ থেকে ১০ টা ভুভুজেলা বাঁশি যদি একসাথে বাজে তাহলে ৯০ থেকে ১০০ ডেসিবল কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি শব্দ তৈরি করতে পারে। যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এ বাঁশির মাত্রাতিরিক্ত শব্দে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চরক্ত চাপ বৃদ্ধি, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া, কানের পর্দা ফেটে যাওয়া ও মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। এমন কি শিশুদের স্থায়ীভাবে বধির করেও দিতে পারে।
এ ব্যপারে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের আবাসিক সার্জন ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) সুনামগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ভুভুজেলা উচ্চস্বরে বাঁজলে রক্তচাপ, কন্ঠনালীর প্রদাহ, আলসার, মস্তিষ্কের রোগ, কাজ করার ক্ষমতা হ্রাস, বদমেজাজ বা খিটখিটে মেজাজ, ক্রোধ প্রবণতা ¯œায়ুবিক দুর্বলতা, রক্তনালীর সংকোচন এবং হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ৬০ ডেসিবেল মাত্রার শব্দ মানুষকে অস্থায়ী বধির এবং ১০০ ডেসিবেল মাত্রার শব্দ মানুষকে স্থায়ীভাবে বধির করে দেয়। সেই ক্ষেত্রে এক সঙ্গে অনেকগুলো ভুভুজেলার বাজলে শব্দের মাত্রা ১০০ ডেসিবল ছাড়াবে। এতে করে নির্বাচনে বিজয়ের আনন্দ নিরানন্দ হয়ে দেখা দিতে পারে কারো কারো জীবনে শুধু মাত্র এই ভুভুজেলার জন্য। সুতরাং নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা থেকে ভুভুজেলাকে নিষিদ্ধ করা খুবই জরুরী।
প্রবীণ ভোটার উস্তার আলী বলেন, আমি আইয়ুব খানের আমল থেকে নির্বাচন দেখে আসছি। আমার জীবনে এমন বিশ্রী বাঁশির আওয়াজ কখনো শুনিনি। এসব বন্ধ হওয়া দরকার।
পশ্চিম পাগলায় নৌকা সমর্থক মাহমুদুল ইসলাম লালন বলেন, যে বাঁশির কারণে আমাদের নিজের, শিশুদেরসহ অন্যদের ক্ষতি হচ্ছে সে বাঁশি না বাজানোই উত্তম।
পশ্চিম পাগলা ইউপিতে চেয়ারম্যার প্রার্থী মো. নূরুল হক, পূর্ব পাগলার আক্কাস খান অপু ও দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহমুদুল হাসান দোলন বলেন, নির্বাচনে শব্দ দূষণ করা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন। আমরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের এমন বাঁশি না বাজানোর জন্য কড়া নিষেধ করেছি। মানুষকে কষ্ট দিয়ে ক্ষতিকর এমন বাঁশি বাজানোর কোনো মানে হয় না। এসব অপসংস্কৃতি। সবাইকে অনুরোধ করবো এমন বাঁশি না বাজাতে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, আমরা এ বাঁশি নিষিদ্ধ করেছি। আজ (শুক্রবার) সকালে কোনো কোনো প্রার্থীর সমর্থকেরা বাঁশি নিয়ে উপজেলা চত্বরে প্রবেশ করলে পুলিশ তাদের তাড়িয়ে দিয়েছে। এটা নিশ্চিতভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ বিষয়ে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।

  • [১]