সোহেল তালুকদার, দ. সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জয়কলস ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা শান্তিগঞ্জ-আস্তমার সাড়ে ৭কি.মি। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা হওয়ায় এর গুরুত্বও অনেক বেশি। ১৫-২০ বছর আগে রাস্তাটি প্রায় ৬ কি.মি নির্মাণ করা হয়। মাঝে-মাঝে সংস্কারও করা হয়েছে। কিন্তু অস¤পূর্ণ রয়েছে প্রায় ২ কি.মি. রাস্তা। এলাকার আসামপুর, আস্তমা, কামরূপদলং, কামরূপদং কান্দি, তালুকগাঁও, পারবর্তীপুর ও সুলতানপুরের জনগণের তেমন কোন কাজে আসছে না রাস্তাটি। যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এ এলাকায় শিক্ষার হার কম এবং ঝরে পড়ার হার বেশি। হেমন্তে ছেলে-মেয়েরা বিদ্যালয়ে যেতে পারলেও বর্ষা কালে বিদ্যালয়ে যেতে পারে না প্রায় ৭০% শিক্ষার্থী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শান্তিগঞ্জ-আস্তমার সাড়ে ৭ কি.মি. সড়কের শেষ প্রান্ত আস্তমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে পঞ্চগ্রাম এমদাদুল ঊলুম কামরূপদং মাদ্রাসার সামনা হয়ে কামরূপদং ব্রিজ পর্যন্ত ১ কি.মি. রাস্তা একেবারেই ব্যবহার অনুপযোগী। বিশাল-বিশাল গর্ত ও দীর্ঘদিন ধরে কোন সংস্কার না হওয়ায় মাটির রাস্তাটি বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে একেবারেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তা দিয়ে হেমন্তকালেও চলাচল করতে পারছেন না জনগণ। এদিকে কামরূপদং কান্দির রাস্তা হয়ে পারবর্তীপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার গয়াছ মিয়ার বাড়ির সামনে পর্যন্ত আধা কি.মি. রাস্তাও ব্যবহার অনুপযোগী।
আস্তমা গ্রামের বড়বাড়ির ৩য় শ্রেণীতে পড়–য়া এজাজুল ইসলাম সোহান, ৪র্থ শ্রেণীতে পড়–য়া নাহিয়ান সহ শিক্ষার্থীরা বলে, ‘আমরা পানির সময় (বর্ষাকালে) বিদ্যালয়ে যেতে পারি না। স্কুলে গেলে আঁচার (হুঁচট) খেতে হয় অনেক জায়গায়।’
আস্তমা গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ তারেক বলেন, ‘আমরার ছেলে-মেয়েরা স্কুলে ও মাদ্রাসায় যেতে পারে না। বয়স্করাও এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন না। বর্ষা ও হেমন্তে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে রাস্তাটি।’
জয়কলস ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ‘রাস্তার জন্য মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আবেদন করেছি, তিনি বলেছেন, এ রাস্তার কাজ দ্রুত স¤পন্ন হবে।’
জয়কলস ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফ আলী বলেন, ‘শান্তিগঞ্জ-আস্তমা রাস্তা এ এলাকার একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ সহজ হয়ে যাবে। মন্ত্রী মহোদয় গত ১৬ অক্টোবর পঞ্চগ্রাম এমদাদুল ঊলুম কামরূপদলং মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় রাস্তার কাজ করে দিবেন বলে এলাকার জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন।’
জয়কলস ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়া বলেন, ‘আমরা নতুন করে এ রাস্তাটি নির্মাণ করতে উদ্যোগ নিয়েছি।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. রুবাইয়াত জামান বলেন, ‘শান্তিগঞ্জ-আস্তমার সাড়ে ৭ কি.মি. রাস্তাটি এস্টিমেট করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছি। বাজেট আসলেই দরপত্র আহ্বান করে টেন্ডারের মাধ্যমে আমরা কাজ শুরু করব।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ সড়কের কাজ যেন দ্রুত স¤পন্ন করা হয় সেজন্য উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে আলাপ আলোচনা করেছি।’