ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ছাতক উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করল। জেলার প্রথম নির্বাচনটি মোটামোটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কোন আপত্তি উত্থাপন করেননি। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের সরব উপস্থিতি ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা গেছে। ছাতকের ১৩ ইউনিয়নেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎসবের আবহ বিরাজমান ছিল বলে জানিয়েছেন অনেকে। এই নির্বাচন নিয়ে বেশ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছিল সব মহলে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের আধিক্য থাকায় এই আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। আওয়ামী লীগের ভিতরে ছাতকে সমান্তরাল দুইটি ধারা প্রবহমান রয়েছে বরাবরই। এর একটি ধারার নেতৃত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক অন্য ধারাটির নেতৃত্বে পৌর মেয়র আবুল কালাম। উভয়ের অবস্থান ও শক্তিসামর্থ একই রকমের হওয়ার কারণে বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘর্ষ ও অন্যবিধ বিড়ম্বনার আশঙ্কা থাকাটা ছিল তাই স্বাভাবিক। কিন্তু সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার মতো তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি ছাতকে। বিচ্ছিন্নভাবে উত্তর খুরমা ও দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নে যে দু’টি ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে তা মূলত সদস্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ছাতকের নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসন আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল উপযুক্ত প্রকারে। ছাতকের ১৩ ইউনিয়নে স্বস্তিদায়ক নির্বাচন উপহার দেওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, নির্বাচনী কর্মকর্তা, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ সকলেই সমান কৃতিত্বের দাবিদার। আমরা এজন্য সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানাই। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা আশা করব ছাতকের স্বস্তিদায়ক নির্বাচনী পরিবেশের মতো ওইসব নির্বাচনও নিরুদ্বেগ ও ভাল হবে।
যেকোন নির্বাচন সর্বাঙ্গ সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হয় প্রতিদ্বন্দ্বিতামুখর অংশগ্রহণ, ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি, যেকোন ধরনের কারচুপির অনুপস্থিতি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার উপর। এর যেকোন একটির ব্যত্যয় ঘটলেই নির্বাচনের গায়ে কলঙ্ক আরোপিত হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন নিয়ে ব্যাপকমাত্রার অভিযোগ রয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির। আশার কথা হলো ছাতক উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ তুলেনি। এটি সরকারি দল ও নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অবদান। ছাতকের পর আরও যেসব উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেগুলোতেও বিএনপি ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করছে। সরকারি দলের উচিৎ সর্বত্রই তাদেরকে অবাধে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে সহায়তা প্রদান করা। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এই জায়গাতেই। খালি মাঠে গোল দেয়ার মাঝে যেরূপ আনন্দ নেই তেমনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও কোন সুখ নেই। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন বিজয়ে নিজের কোন কৃতিত্ব থাকে না। আর জানা কথাই, রাজনৈতিক প্রতীকে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে সরকারি দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপি। যদিও ছাতকের নির্বাচনে বিএনপি সেইভাবে ভাল ফলাফল করতে পারেনি তবে তার পিছনেও রয়েছে নানা কারণ। এর প্রধান কারণ হলো ইউপি নির্বাচন আমাদের দেশে এখনও ঠিক দলকেন্দ্রীক হয়ে উঠতে পারেনি। অন্তর্দ্বন্দ্ব, সীমিত প্রচারণা, হতাশা এমন সব বিষয় তো রয়েছেই।
যাই হোক নামের মাহত্মের মতোই সুনামগঞ্জ অবশিষ্ট ১০ উপজেলায় নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুন্দর রাখার এই সুনাম বজায় থাকুক আমাদের একান্ত প্রত্যাশা সেটিই। নির্বাচনে যেই বিজয়ী হোন, পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে তাতে গণতন্ত্রেরই বিজয় ঘটে। এই গণতন্ত্রের জন্যই তো সকলের এতো আকুতি।