সু.খবর ডেস্ক
সুনামগঞ্জ প্রসেনিয়াম থিয়েটার ও বন্ধন থিয়েটারের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক ‘রাধারমণ’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের ‘নতুন নাটকের উৎসবে’ আগামী ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রণোদনায় নির্মিত ‘রাধারমণ’ নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন দেশের তরুণ নাট্যকার ও নির্দেশক শামীম সাগর। নতুন এই নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করবেন দেবাশীষ তালুকদার শুভ্র, সাদিকুর রহমান খান রুবেল, সামির পল্লব, অমিত বর্মন, মাহফুজ আলম, আলাউর রহমান, আশীষ বর্মন, তূর্য দাশ, রাজীব রায়, তন্ময় চৌধুরী পার্থ, মেহেদী হাসান হৃদয়, শুভ তালুকদার, আমজাদ হোসেন, শিপা আক্তার, ঝর্ণা বেগম, আফতর আলী, ফারদিন আহমদ, আনোয়ার হোসেন, আশরাফুল ইসলাম আদর, ফয়সাল আহমেদ, মো. সৈয়দ, আহমেদ, নদী দে মোহনা, মাহবুবা আক্তার রিয়া, মো. শরীফ আহমদ, আব্দুল মোতালিব, অরিজিৎ ঘোষ চৌধুরী, মো. নাসির আহমদ, ইয়াসিন, সজীব সামন্ত, সৈয়দ নাঈম আহমদ, সুইটি দাস, দৃষ্টি রানী দাস, অদিত ঘোষ চৌধুরী, মাহদী মোহাম্মদ।
নাটকে সঙ্গীতের দায়িত্বে অমিত বর্মন, চিনু চক্রবর্তী, সুষেণ চন্দ, ঢোলে অরিজিৎ ঘোষ চৌধুরী, দোতারায় সাধন সরকার, বাঁশিতে শরীফ আহমদ, আমজাদ হোসেন, বিজন দাস হারমোনিয়ামে মাকসুদুর রহমান দীপু থাকবেন। সহ নির্দেশনা দিবেন দেবাশীষ তালুকদার শুভ্র, আলোক পরিকল্পনায় বাবর খাদেমী, সহযোগী আশরাফুল ইসলাম আদর, পোশাক পরিকল্পনা এনাম তারা সাকী, সহযোগী রাজীব রায়, তন্ময়, মঞ্চ প্রপস ও কোরিওগ্রাফি পরিকল্পনা শামীম সাগর, মঞ্চ ও প্রপস সহযোগী সাদিকুর রহমান রুবেল, তূর্য দাস, আমজাদ হোসেন, আফতর আলী, কোরিওগ্রাফি সহযোগী : দেবাশীষ তালুকদার শুভ্র, সামির পল্লব, সুর সংযোজন দেবদাস চৌধুরী রঞ্জন, সঙ্গীত সমীর পল্লব, অমিত বর্মণ, নৃত্য তুলিকা ঘোষ চৌধুরী, শ্রাবন্তী পুরকায়স্থ, মঞ্চ ব্যবস্থাপনা ফয়সাল আহমেদ, ফারদিন আহমদ, সার্বিক সহযোগিতা দ্বীপময় চৌধুরী ডিউক, সাদেকুর রহমান সনি, আবিদ খান হৃদয়, জুবাইর খান, প্রযোজনা সমন্বয়কারী সাদিকুর রহমান রুবেল।
নাটকের গল্পে তুলে ধরা হয়েছে রাধাকেশব, সাত বছরের বালক। জনারণ্যে থেকেও সে যেন বিচ্ছিন্ন এক সত্তা, যাদুকাটা নদীর জাদু তাকে জলের নিকটে টেনে নিয়ে যায়। পদস্পর্শে শান্ত জলে ঢেউ ওঠে, সেই ঢেউয়ের ছন্দে দূর থেকে যেন ভেসে আসে বাঁশির সুর, সেই সুর রাধাকেশবকে রাধা রাধা বলে ডাকে। আতঙ্কের হিম ¯্রােত মেরুদন্ড বেয়ে নেমে যায়। রাধা কেশব বাবার আশ্রয় খোঁজে আতঙ্কিত চাপা স্বরে। বাবা রাধামাধব রাধাকেশবের শিক্ষাগুরু। পূর্বসূরি কাহ্নপা, মহাকবি সঞ্জয়, সৈয়দ শাহ নূর, শিতলাং শাহের মতো মহাজনদের বাণী আর বাবার দেয়া শিক্ষায় রাধাকেশবের মন আর মনন গড়ে উঠতে থাকে। হঠাৎ করে বাবার মৃত্যু রাধাকেশবকে দিশেহারা করে দেয়। পিতাকে হারিয়ে সত্যি সত্যিই বৈঠা ছাড়া নৌকার মতো ভাসতে থাকে সে। আকাশ, বাতাসের সঙ্গে একমনে কথা চলে তার। পিতার সঙ্গ খুঁজে ফেরে সবখানে। রাধাকেশব বোঝে, বাবা রাধামাধব তার মনে নিজেকে জানার চেনার যে পথের সন্ধান দিয়ে গিয়েছে, সেই পথ এবার খুঁজতে হবে নিজেকেই। যুবক রাধাকেশব নানান পথ আর মতের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সেই পথের সন্ধান করতে থাকে। কিন্তু শৈব্য দর্শন আর শাক্ত দর্শন তার মনের পিপাসা মেটাতে পারে না, সন্ধান দিতে পারে না তার খুঁজে যাওয়া পথের। রাধাকেশবের ঠিকানা হয়ে ওঠে হাওড় পাড়। সেই হাওড় পাড়ে রাধা রাধা ডাক তাকে আবার উতলা করে তোলে।
‘রাধারমণ’ নাটক প্রসঙ্গে নির্দেশক শামীম সাগর বলেন, সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির আমন্ত্রণে একটি নাট্য কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেয়ার আমার সৌভাগ্য হয়েছিল। তখন বিশেষভাবে লক্ষ্য করেছিলাম যে, রাধারমণ-হাসনরাজা-দুরবিন শাহ, শাহ আব্দুল করিমকে সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক কর্মী এবং মানুষেরা যেভাবে হৃদয়ে ধারণ করে রেখেছেন সেটা অনন্য। নাট্যকর্মশালা চলাকালীন মহাজন রাধারমণ এবং তার গান নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে আমাকে, এর পূর্বে রাধারমণ সম্পর্কে জানা-শোনার পরিধি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পর্যায়ের ছিল, তাকে জানার তৃষ্ণাই তার সম্পর্কে আমাকে জানতে-পড়তে-অনুসন্ধানে বাধ্য করে। অনুজপ্রতিম দেবাশীষ তালুকদার শুভ্র এবং সামির পল্লব; মূলত এই দু’জনই সুনামগঞ্জের সঙ্গে আমার আত্মিক বন্ধন ঘটাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সুনামগঞ্জের সুযোগ্য সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল আবেদিন ভাই অনুরোধ করেছিলেন যে, আমি যেন সুনামগঞ্জে একটি থিয়েটার প্রযোজনা তৈরিতে সহযোগিতা করি। ঠিক এ সময়েই নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের পঞ্চাশ বৎসর পূর্তি উপলক্ষে তরুণ নাট্যনির্দেশকদের নাট্য প্রযোজনা নির্মাণে প্রণোদনা প্রদানের সুযোগটিও মিলে যায়।
এ সবগুলো সূত্র একত্রে মিলিত হয়ে যে নাট্য কর্মযজ্ঞের সৃষ্টি হচ্ছে তার শিরোনাম ‘রাধারমণ’। রাধারমণ প্রযোজনাটিতে মহাজন রাধারমণকে উপজীব্য করে একটি জনপদের গল্প বলার চেষ্টা করা হয়েছে, যে জনপদকে বংশ পরম্পরায় নয়, ভাব আর দর্শন ধারণের পরম্পরায় একের পর এক মহাজন তাদের ভাব, সুর আর দর্শনে সমৃদ্ধ করেছেন। ধর্ম-বর্ণের উর্ধে উঠে এই জনপদের মানুষেরা আজও এই মহাজনদের ধারণ করে রেখেছেন হৃদয়ে, দৈনন্দিন জীবনাচারে। রাধারমণের জীবন ও দর্শন, তার জীবনের বাঁকগুলো, যে বাঁক তাকে কৃষ্ণপ্রেমিক একজন হয়ে বৈষ্ণব মতবাদের সাধনায় নিজেকে নিবেদিত করতে সাহায্য করেছিল; পাশাপাশি একজন রাধারমণ কিভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনাচারের অংশ হয়ে উঠলেন। একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার অঞ্চল কেমন করে তার জল হাওয়া মাটি দিয়ে এমন একজন মহাজনকে গঠন করল। সে সবেরই প্রতিফলন এই প্রযোজনাটিতে ঘটেছে। প্রযোজক দল হিসেবে সুনামগঞ্জ প্রসেনিয়াম এবং বন্ধন থিয়েটার সুনামগঞ্জ এই নাট্য নির্মাণে এগিয়ে এসেছে। তারুণ্যনির্ভর সংগঠন দু’টির একঝাঁক নবীন এবং তরুণ নাট্যকর্মী তাদের সদিচ্ছা এবং প্রচেষ্টায় নতুন এক সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতেছে। সুনামগঞ্জে রাধারমণ নিয়ে চর্চা করেন এমন প্রবীণেরাও পা-ুলিপি পাঠ থেকে শুরু করে নাট্য নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য ও বুদ্ধিগত সহযোগিতা করেছেন। পোশাক পরিকল্পনায় এনাম তারা সাকি এবং আলোক পরিকল্পনায় বাবর খাদেমী এই প্রযোজনার মান একধাপ করে এগিয়ে নিয়েছেন তাদের পরিকল্পনা আর প্রয়োগে।
সূত্র : জনকন্ঠ