সজীব দে
ভেতরে নতুন পোশাকে অগণিত পুণ্যার্থীর উপস্থিতি। বিরামহীন ঢাকঢোল বাজছিল। আর থেমে থেমে ঘণ্টা আর কাঁসার শব্দ। নানা বয়সের নারীর ভক্তি ভরা উলুধ্বনি। পূজার শেষলগ্ন। চন্দ্রের নবমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মহানবমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। শুক্রবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী পালন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। শাস্ত্র অনুযায়ী শাপলা, শালুক আবার কোথাও বলিদানের মাধ্যমে দেবীর মহানবমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে হ্যাঁ বলিদান কেবল বক্তিগত পূজা ম-পের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য সার্বজনীন পূজা ম-পে সাধারণ বলিদান করা হয় না। আজ শনিবার মর্ত্যে ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন দুর্গতিনাশিনী দেবীদুর্গা। আর পেছনে ফেলে যাবেন ভক্তদের চার দিনের আনন্দ-উল্লাস আর বিজয়ার দিনের অশ্রু।
পুজো এখন পাঁচদিন নয়। এখন পূজা শুরু হয়ে যায় মহালয়া থেকেই। তবে পূজার সবকটা দিনই আনন্দের হলেও, নবমীর পূজা একেবারেই স্বতন্ত্র। সকাল থেকেই বিভিন্ন পুজা ম-পে থেকে অনেক বাসা-বাড়িতে নবমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অনেকে বিকেলে ঠাকুর দেখার তোড়জোড় সেরে রাখেন। নবমী তাই প্রাণের উৎসবের দিন। আর সেই নবমীতেই কিনা বৃষ্টি। আর শুধু ভ্রুকুটি হলেও না হয় হত, এ যে রক্তচক্ষুর আস্ফালন… মুষল ধারায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি।
অষ্টমীর রাত থেকেই ছিল আকাশের মুখ ভার। দমকা বাতাস থাকলেও বৃষ্টি আসেনি। তবে সংশয় ছিলই। সকাল থেকে শুরুটা ঠিকই ছিল। কিন্তু বেলা গড়াতেই যেন কিছুটা ছন্দপতন। ঘড়ির কাঁটা নবমীর সোয়া ৯টা ছুঁতেই আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করে নামল বৃষ্টি। প্রায় ৪৫ মিনিট পর বৃষ্টির বেগ কমল বটে, তবে কখনো ঝিরঝির আবার কখনো প্রবল ধারায় বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। আসলে পূজার দিনগুলোয় আকাশের আয়না হয়ে ওঠে জনতার মুখ। আকাশ থমথমে বা অঝোর ধারায় বারিবর্ষণ হলেও উৎসবমুখী ভক্তদের কাছে তা পাত্তা পায়নি। কিছুটা ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে এই যা।
আজ শনিবার দশমীর পূজার পর মহিলারা মাকে বরণ করে বিদায় জানাবেন। মায়ের সিঁথিতে ও পায়ে সিঁদুর দিয়ে বরণ শেষ হবে ঢাক, কাঁসর, শাঁখ আর উলুধ্বনির মাধ্যমে। এরপর সিঁদুর খেলা। দোলের মতো ছোটখাট একটা অনুষ্ঠান। সবশেষে বিকেলে বিসর্জন সুরমা তীরে। এর মাধ্যমেই সমাপ্তি ঘটবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের।
গত মঙ্গলবার ষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়েছিল। জেলার এবার ৩৪৩টি ম-পে অনুষ্ঠিত হয় দুর্গোৎসব। এবার মা এসেছিলেন নৌকায় আর যাবেন ঘোড়ায়।
বিদায় বেলায় মায়ের কাছে প্রার্থনা, হে দেবী ত্রিভুবনে আপনার যে সৃষ্টি স্থিতি লক্ষণ সৌম্য মূর্তি ও সংহার লক্ষণ রুদ্রমূর্তি বিরাজিত সেই সকল দ্বারা আমাদের ও সমস্ত জগৎবাসীকে রক্ষা করুন।