স্টাফ রিপোর্টার
মহাসপ্তমীর পর্ব শেষ করে মহাষ্টমীর আনন্দ সাগরে অবগাহন। চারিদিকে এখন উৎসবের ভরা জোয়ার। মা এসেছেন বছর ঘুরে নাকি ঘরের মেয়ে ফিরেছে ঘরে। কত রূপে কত রঙে যে দেবীকে ঘরের মেয়ের মতো আপন করে ভাবনায় ধরা হয়েছে, তা বলে শেষ হওয়ার নয়। সেই আনন্দেই এখন ভাসছে বিশ্বচরাচর।
মহাসপ্তমীর সকালে সর্বপ্রথম চক্ষুদানের মধ্যদিয়ে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মাধ্যমে শুরু হয় পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। পুরাণ মতে, মহাসপ্তমীতে ভক্তদের কল্যাণ ও শান্তির আশীর্বাদ নিয়ে হিমালয় নন্দিনী দেবী দুর্গা পূজার পিঁড়িতে বসেন। শারদীয় দেবী দুর্গার নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন করা হয়। এরপর ষোড়শ উপাচারে (ষোল উপাদানে) দেবীর পূজা সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও মহাসপ্তমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। দেহ শুদ্ধি, অঙ্গ শুদ্ধি সেরে শুরু হয় পূজা-অর্চনা। মন্দির আর পূজামন্ডপ মুখরিত হয়ে উঠে ঢাকের বোল, মন্ত্র ও চন্ডীপাঠ, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে। আজ বুধবার মহাষ্টমী থেকেই মন্দির ও মন্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীর ঢল নামবে। সকালে চন্ডীপাঠ, পূজা অর্চনা, ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ দেবী-দর্শন, ও রাতে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে আগামীকাল বৃহস্পতিবার মহানবমী এবং শুক্রবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী শুক্রবার মা ‘উমা’ ফিরবেন কৈলাশে।
উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গত সোমবার ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে সূচনা হয় শারদোৎসবের। ম-পে ম-পে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ আর উলুধ্বনির শব্দ দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের কথা জানান দিচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশে পূজাম-পগুলোতে বাড়তি সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দুর্গোৎসব আয়োজনের সিদ্ধান্ত ছিল। এ সিদ্ধান্তের আলোকে আলোকসজ্জা ও উৎসব-সংশ্নিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।