- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু আজ থেকে- সকলের জীবনে সুখ ও শান্তি বর্ষিত হোক

মহা ষষ্ঠীর বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা। আগামী শনিবার দশমী তিথিতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫ দিন ব্যাপী এই পুজোৎসব। শরৎকালে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয় বলে একে শারদীয় দুর্গোৎসব বলেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। পূরাণ মতে শ্রী শ্রী রামচন্দ্র অসুরাধিপতি রাবণকে বধ করতে দেবী দুর্গার সহায়তা লাভের জন্য শরৎকালে এই পূজা করেছিলেন। অন্য পূরাণ মতে মহিষাসুর নামক অসুর স্বর্গ দখল করে নিলে স্বর্গচ্যুত দেবকূল ত্রিদেব ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের শরণাপন্ন হলে পরাজিত দেবকূলকে হারানো স্বর্গ ফিরিয়ে দিতে তথা মহিষাসুরকে নিধন করতে সকল দেবতার শক্তির সমন্বয় করে মহা তেজস্বীলা শ্রী শ্রী দেবী দুর্গার সৃজন হয়। দেবী দুর্গা মহিষাসুর নিধন করে দেবতাদের হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধার করেন। দেবী দুর্গা মহিষাসুর ও রাবনকে বধ করেছিলেন বলে তিনি দুর্গতিনাশিনী রূপেও বন্দিতা। মহিষাসুর কিংবা রাবণ এইসব চরিত্র অশুভ শক্তির প্রতিক। এরা দেব-দেবী তথা শুভ শক্তির উপর আধিপত্য বিস্তার করলে দেবী দুর্গা পরিত্রাতারূপে আবির্ভূত হন। তাই দেবী দুর্গা অশুভনাশিনী ও শুভ শক্তির রক্ষক রূপে সমধিক পূজনীয়া। বাঙালি হিন্দুরা দেবী দুর্গার মধ্যে নিজেদের যাবতীয় শুভ শক্তির প্রকাশ দেখতে পান। তাই শরতের এই দেবীপক্ষের পূণ্য তিথিতে তাঁরা দেবী বন্দনায় নিয়োজিত হন প্রাণের সকল অর্ঘ্য সাজিয়ে।
দুর্গা পূজা বাঙালি হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগের পাশাপাশি এক ধরনের সার্বজনীন রূপও ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে। এটি এখন হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সীমানা ডিঙিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে উৎসবের রঙ ছড়িয়ে দেয়। মূলত ধর্ম যার যার উৎসব সবারÑ এই মানসকিতার সপক্ষে দুর্গা পূজা ইতোমধ্যে স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়েছে। আসলে দেবী দুর্গা তো নির্দিষ্ট কোন ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর অশুভ বিনাশ তথা শুভবোধকে সংরক্ষণের প্রয়াস নেননি। তিনি জগজ্জননী। জগৎয়ের সকল প্রাণীর মধ্য থেকে অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভবোধকে রক্ষা করার অভিপ্রায় তাঁর। সুতরাং এখানে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল বাঙালি উৎসবের রঙে রঙিন হবেন এতে আর আশ্চর্য কি।
দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন প্রশাসন। আমাদের দেশটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গঠিত একটি সম্প্রীতির চারণভূমি। এখানে আজান আর উলুধ্বনি একই সাথে শুনতে পাওয়া যায়। এখানে মন্দির-মসজিদের সহাবস্থান দীর্ঘদিনের। পারষ্পরিক ধর্মীয় উৎসবে স্বকীয়তা বজায় রেখে অংশগ্রহণ করা বাঙালির চিরায়ত লৌকিক ধর্ম। চেহারায় যেমন বাঙালি হিন্দু-মুসলিমকে পৃথক করার জু নেই, একই ধরনের বৈশিষ্টে সমুজ্জ্বল, তেমনি মননে ও চিন্তায়ও সকলে একই কাতারের। বাঙালির এই সার্বজনীন অখ-তাই আমাদের প্রধান আশার জায়গা।  এই ঐতিহ্যই উৎসবের নিরাপত্তা বিধানের প্রধান রক্ষাকবচ। আমরা  দৃঢ়চিত্তে তাই বিশ্বাস করি কেউ কারও ধর্মীয় উৎসবে বাধা তৈরি করবে না। তবুও মাঝে মধ্যে বিচ্ছিন্ন দুয়েকটি ঘটনা ঘটে। এর পেছনে কোন ধর্ম নেই, থাকে কিছু স্বার্থপ্রণোদিত উদ্দেশ্য। এই বিচ্ছিন্ন স্বার্থপরায়ণ অপতৎপরতাকে রোধ করতে প্রতিটি বাঙালি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে। সকলকে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা। সকলের জীবনে সুখ ও শান্তি বর্ষিত হোক।  
    
 

  • [১]