- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শাল্লায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার তিনদিন অবস্থান

বিশেষ প্রতিনিধি
শাল্লায় বিয়ের দাবিতে প্রথমে প্রেমিকার বাড়িতে, পরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে বার বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এক কলেজ ছাত্রী। তিন দিন স্বীকৃতির জন্য একাই লড়াই করেছে মেয়েটি। মহিলা পুলিশ, আনসার দিয়ে তাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছিল। বিকালে মেয়েটিকে পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় মেয়েটিকে ‘যেখানেই থাকবো, হয় জয়ন্ত বৈষ্ণবকে বিয়ে করবো, না হয় আত্মহত্যা করবো।’ বলতে শোনা গেছে।
দিরাইয়ের বিবিয়ানা কলেজ থেকে এই বছর এইচএসসি উত্তীর্ণ (১৮) ওই শিক্ষার্থী জানায়, ভেড়াডহরের সুনীল বৈষ্ণবের ছেলে জয়ন্ত বৈষ্ণব (২২)’এর সঙ্গে ছয় মাস আগে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তার সঙ্গে একধিকবার শারিরীক সম্পর্কে জড়ায় ছেলেটি। মেয়েটি কয়েকদিন আগে জয়ন্তকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে রোববার তাকে তাদের ভেড়াডহরের বাড়িতে আসতে বলে। জয়ন্ত বৈষ্ণবের বাড়ি গিয়ে দেখে জয়ন্ত বাড়ি নেই। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর সে তাদের বাড়িতেই অবস্থান নেয়। রাত ১২ টায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ^জিৎ চৌধুরী নান্টু তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসলে সে ইউনিয়ন পরিষদেই অবস্থান নেয়। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ সকলকে সে জানিয়ে দেয়, জয়ন্ত বৈষ্ণব তাকে বিয়ে না করলে— আত্মহত্যা করবে সে, বাড়ি ফেরার জন্য এখানে আসে নি সে। পরে দুইজন মহিলা গ্রাম পুলিশ ও দুইজন গ্রাম পুলিশ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয় তাকে।
সোমবার সারাদিন সে ওখানেই ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব ও সমাজসেবা কমকর্তা বিশ^প্রতি চক্রবর্তী মেয়েটির কাছে যান।
বিশ^জিত চক্রবর্তী বললেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় আমরা মেয়েটিকে নিরাপত্তা দেবার জন্য ২ জন মহিলা আনসার, ২ জন পুলিশ ও ২ জন গ্রাম পুলিশেকে দায়িত্ব দেই। তারা সারারাত মেয়েটিকে পাহারা দিয়ে রাখেন।
শাল্লা সদর (বাহারা) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ^জিৎ চৌধুরী নান্টু বললেন, জয়ন্ত বৈষ্ণবের বাড়িতে ওই মেয়েটি বিয়ের দাবিতে অবস্থান নিয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি তাকে অনুরোধ করেন বিষয়টি সামাজিকভাবে নিস্পত্তি করার জন্য। পরে তাদের পরামর্শে তিনি মেয়েটিকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে তিনি নিজেই বিপদে পড়েছেন, কারো সহায়তাও পাচ্ছেন না। তিনি মনে করেন, মেয়েটি নির্যাতিত হয়ে থাকলে বা বঞ্চনার শিকার হলে তাকে আইনী সহায়তা দেওয়া জরুরি। এটি সামাজিক সালিসের কোন বিষয় নয়।
বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এই বিষয়ে উদ্যোগ নেন। পুলিশ সুপার জানান, তিনি শাল্লা থানার ওসিকে বলেছেন, মেয়েটিকে পুলিশের হেফাজতে এনে আইনী ব্যবস্থা নেবার জন্য।
শাল্লা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, মেয়েটি পুলিশের হেফাজতে ছিল । তার অভিভাবকরা বলেছেন, তারা মামলা করবেন না। মেয়েটিকে তারা তাদের হেফাজতে নিয়ে গেছেন।
শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলামিন চৌধুরী বললেন, তিনি মেয়ের অভিভাবকদের খবর দিয়ে এনেছেন, তাদের তিনি বলে দিয়েছেন, মেয়েটিকে তাদের হেফাজতে নেবার জন্য। মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হলে তারা যেন আইনের আশ্রয় নেন। প্রেমঘটিত বিষয়ে সমস্যা হলে, সেটিও যেন সামাজিকভাবে সুরাহা করেন।
নির্যাতিতা ওই শিক্ষার্থী বুধবার এই প্রতিবেদককে অন্য আরেকজনের মুঠোফোনে বললো, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে জয়ন্ত, একাধিকবার সে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও করেছে। জয়ন্তের কথায় সে রোববার তাদের বাড়ি গিয়েছে। কিন্তু তার বাবা তাকে (জয়ন্তকে) বাড়ি থেকে সরিয়ে দেন। এজন্য উপায় না পেয়ে সে তাদের (জয়ন্তদের) বাড়িতে বসেছিল। শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুরোধে সে ওখান থেকে ওঠে আসে। শাল্লা সদরে এসে দুইবার থানায় মামলা দিতে যায়। কিন্তু থানার ওসি মামলা নেন নি।

  • [১]