- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শাল্লার মহিলাদের জাগরণের বার্তা দিয়েছিলেন তিনি

স্টাফ রিপোর্টার
শাল্লার আনন্দপুরের রেনুবালা চক্রবর্তী জানালেন, শাল্লার মহিলাদের জাগরণের বার্তা দিয়েছিলেন ফজলে হাসান আবেদ।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বললেন,‘দেশ স্বাধীনের ৩ বছর পর, ২৭ বছর বয়স তখন আমার। ঘরের বউদের বাইরে যাবার সাহস নেই। গ্রামে ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কেন্দ্র খোলা হলো। ডা. মাসুদ নামের একজন বাড়িতে জানিয়ে গেলেন, তিন সের ধান দেবেন, সারা বছর ওষুধ ফ্রি খাবেন। মাথাপিছু তিন সের করে ধান দিলেন বেশিরভাগ মানুষই। কয়েকদিন পর এলাকায় কলেরা দেখা দিলো, মারাও গেলেন কেউ কেউ। এসময় ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এক চিমটি লবণ, আধাসের জল ও একমুষ্টি গুড় দিয়ে কীভাবে স্যালাইন বানানো যায় তা শেখালেন। এই স্যালাইন খেয়ে উপকারিতা পেলেন গ্রামের মানুষ।
দিন তারিখ মনে নেই, একদিন ফজলে হাসান আবেদ এলেন। জানালেন, মহিলাদের নিয়ে বসবেন, অনুষ্ঠান করবেন। আমাকেসহ ৫৩ জনকে ডা. মাসুদসহ অন্যরা অনুরোধ করে নিলেন। ওখানে আমরা যারা কিছু পড়াশুনা জানতাম, তাদেরকে বক্তব্য দেবার জন্য একটি কাগজে নানা কথা লিখে দেওয়া হলো, আমরা বক্তব্য দিলাম। আবেদ সাহেব সভায় ছিলেন। এই সভার পর আমাদের লজ্জা কিছুটা কমলো। পরে আমাকে সভাপতি ও কল্যাণী রায়কে সম্পাদক করে কমিটি করে দেওয়া হলো। ওই কমিটিতে যারা ছিলেন, এরমধ্যে সুবর্ণা বিশ^াস, আমিনা বেগম এখনো জীবিত আছেন। অন্যরা বেঁচে নেই।
সিদ্দিক নামের একজনকে তখন আনন্দপুর ব্র্যাক অফিসের ম্যানেজার করা হয়েছিল, আমাদের সমিতির সভায় ব্র্যাকের কর্মীরা এসে নারী স্বাস্থ্য বিষয়ে পরামর্শ দিতেন। সভায় ক্রমশ. মহিলার সংখ্যা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে আমাদের সমিতিকে ৬০ টাকা ঋণ দেওয়া হলো। সিদ্ধান্ত হলো ৫ টাকা দিয়ে বাঁশ কেনার এবং বাকী টাকা দিয়ে আমরা নিজেরা পতিত জমিতে আলু’র চাষ করবো। সেই অনুযায়ী ৫ টাকার বাঁশ দিয়ে টুকরি, ডালা, চালইন বানিয়ে বিক্রি করে ১৫০ টাকা আয় হলো। আলু’র চাষ করলাম আমরা। আলু বিক্রি করে ব্র্যাকের ঋণের টাকাও পরিশোধ হলো, আরও কিছু আয়ও হলো। সকলে খাওয়ার জন্য আলুও নিলেন। এরপর অনেক সমিতি হয়েছে। মহিলারা আয় রোজগার শিখেছে। নিজেদের লজ্জা শরমও কমে গেছে। আমি বলবো, শাল্লার নারী জাগরণের পথ দেখিয়েছেন ফজলে হাসান আবেদ। শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছি।

  • [১]