- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শাল্লায় অনিয়মের তদন্তই শেষ করেন নি দায়িত্বপ্রাপ্তরা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যাচাই-বাছাই শেষে সুনামগঞ্জের করোনাকালের সংকটাপন্ন কোন কোন মানুষের মানবিক সহায়তা বিতরণ শুরু হয়েছে। অথচ. জেলার শাল্লা উপজেলার শাল্লা ইউনিয়নের মনুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য সাজু মিয়া তার ভাগ্নে ও দুই ভাইসহ ১৩ আত্মীয় স্বজনকে তালিকায় ঢুকানোর অভিযোগের তদন্তই এখনো শেষ হয়নি। দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলেছেন, ঈদের ছুটির একদিন আগে তারা কেবল চিঠি পেয়েছেন, এজন্য ঈদের আগে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া শেষ হয় নি।
জানা যায়, শাল্লা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজু মিয়া’র প্রস্তাব করা মানবিক সহায়তার তালিকার ২০ ও ২৬ নম্বর ক্রমিকে তার দুই ভাই দেলোয়ার ও ওহাবুলের নাম ছিল। ২৫ নম্বর তালিকায় ছিল ভাগ্নে নয়ন মিয়ার নাম। যার বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার বিরাট গ্রামে। আত্মীয় শ্যামল হাসান তালিকায় ৩ নম্বরে, শ্যামলের ভাই আবুল কাশেম ৩২ নম্বরে। এরা গ্রামের বিত্তশালী মানুষ। তালিকার ৭ নম্বরে একরামুল, ৩১ নম্বরে একরামুলের ভাই কামরুল ইউপি সদস্যের ঘনিষ্ট আত্মীয় এবং ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বরের তাবুর, ওবায়দুর ও বিলাস মিয়া ৩ সহোদর। এরা ইউপি সদস্যের আত্মীয়। এছাড়া তালিকায় গ্রামের মাহফুজুর রহমান চৌধুরী, সাজেদা চৌধুরী ও সামিয়া চৌধুরীও বিত্তশালী মানুষ।
এই গ্রামের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলার সীমা কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় কান্তি দাস তালুকদার ঐসময় জানিয়েছিলেন, মনোয়া গ্রামের তালিকার অনেক আইডি ও মোবাইল নম্বর ভুল ছিল, সংশোধন করা হয়েছে। তালিকায় বিত্তশালী কেউ নেই।


গ্রামের এক তরুণ জানান, এই তালিকার বিষয়টি জেনে পুরো গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হন। অভিযোগ জানানো হয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’এর অনলাইনসহ কয়েকটি অনলাইনে এই সংবাদ ছাপা হয়।
পরে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আলমগীর কবির খান, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমীক সুপার ভাইজার কালী পদ দাসকে দিয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এই কমিটিকে ঈদের আগেই তদন্ত প্রতিবেদন দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত এরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন নি।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আলমগীর কবির খান বলেন, চিঠিতে ঈদের আগে তদন্ত প্রতিবেদন দেবার কথা উল্লেখ থাকলেও আমি চিঠি পেয়েছি, ঈদের ছুটির আগের দিন। এজন্য তদন্ত করা সম্ভব হয় নি। ঈদের ছুটির পর এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
মানবিক সহায়তার তালিকায় তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজারেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছিল তাহিরপুরে শিক্ষকরা যাচাই বাছাই করার সময় তালিকা সংশোধন করেছেন। দোয়ারাবাজারে দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের নিকট আত্মীয় ছাত্রলীগ নেতার নামের মুঠোফোনে মানবিক সহায়তার ২৫০০ টাকা এসেছিল। তিনি সেটি ফেরৎ দিয়েছেন।
জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা রাহুল চন্দ জানিয়েছেন, ঈদের আগেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মানবিক সহায়তার তালিকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যাচাই বাছাই শেষে সহায়তার টাকা পাঠানো হচ্ছে। এ সংক্রান্ত কোন তথ্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেই।

  • [১]