- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শাল্লায় ঘর পাবে ১,৫৯১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার

আসাদ মনি
শাল্লা উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ১ হাজার ৫শত’ ৯১ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ঘর নির্মাণের কাজও শুরু হয়ে গেছে।
জানা যায়, উপজেলার শাল্লা ইউনিয়নে ৪৩০ জন, আটগাঁও ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে ৩৬০ জন, বাহাড়া ইউনিয়নে ৩৩১ জন, হবিবপুর ইউনিয়নে ৩০০ জন সহ আরো ১৭০ জনের তালিকা পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে।
শাল্লা ইউনিয়নের গোবিন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা রবীন্দ্র চন্দ্র দাস। নিজের জায়গা নেই। অন্যের জমিতে ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন। তিনি বললেন, আমার জায়গা জমি নেই। গার্মেন্টসে ২ বোন চাকরি করে কিছু টাকা পাঠিয়েছে। সে টাকায় কোনোমতে একটি ঘর বানিয়ে বসবাস করছি। নিজেও দিনমজুরের কাজ করি। সরকার আমাকে থাকার জন্য ঘর দেয়ায় আমি খুশি।
হবিবপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা বীরেন্দ্র দাস। আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও দারিদ্রতার কারণে সংসারে আনন্দ ছিলো না কখনও। ৪ ছেলে মেয়ের মধ্যে অভাবের জন্য বড় ছেলেকে পড়াশুনা করাতে পারেন নি তিনি। স্কুলে যাওয়ার বয়স থেকেই কাজে লাগিয়েছেন ছেলেকে।
তিনি জানালেন, চাচা থাকার জন্য একটু জায়গা দিয়েছে। সে জায়গায় ছোট একটি ঘর বানিয়ে থাকি। নিজে অন্যের ভাড়া মটর সাইকেল চালাই। এ দিয়ে সংসার চলে না। তাই বাপ- ছেলের আয় দিয়ে পরিবার চালাতে হয়। নিজে জমি কিনে বাড়ি করার ক্ষমতা নেই আমার। সরকার মুজিব শতবর্ষে আমাকে ঘর দিচ্ছে।
আটগাঁও ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছা. গোলেনা আক্তার। দিনমজুর স্বামী ওয়াহাব উদ্দিন দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ। তার ৫ মেয়ে ও ৩ ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে সায়েমের ১২ বছর বয়স। অভাবের ১০ সদস্যের সংসার চালাতে সায়েমকেও কাজে যেতে হয়।
গোলেনা আক্তার বললেন, সবাই কাজ করি। ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে পারিনি। অসুস্থ্য বাবার সঙ্গে সায়েমও কাজে যায়। দু’জনের মজুরি দিয়ে পরিবার চলে। ভাঙা ঘরে বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। এতে রাতে কষ্ট করতে হয়। নিজের ঘর হলে আমাদের থাকার কষ্ট দূর হবে।
মুজিব শতবর্ষে নিজের বাড়ি ঘর হচ্ছে, আপনার কেমন লাগছে? প্রশ্নের উত্তে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের অভিভাবক। তিনি আছেন বলেই আমাদের ঠিকানা হচ্ছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (আল আমিন চৌধুরী) বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার অঙ্গিকার এই মুজিব শতবর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না। সে অঙ্গিকার বাস্তবায়ন করার জন্য মাঠপর্যায়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমার উপজেলায় কেউ গৃহহীন থাকবে না। সবাই ঘর পাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মুক্তাদির হোসেন বলেন, আমরা ১০ টি ঘর আগেই হস্তান্তর করেছি। আরো ১৫৮১ টি ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। আমাদের টার্গেট হলো আগামী ২৬ মার্চের ভেতর ঘরের কাজ শেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অঙ্গিকার বাস্তবায়ন করা। সে লক্ষেই আমরা এগুচ্ছি।

  • [১]