- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শাল্লায় টিসিবি’র মাল বিক্রয়ে দুর্নীতি

শাল্লা প্রতিনিধি
প্রশাসনের উদাসীনতায় টিসিবি’র মালামাল বিক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে শাল্লা উপজেলায়। উপজেলায় আনন্দপুর গ্রামের রঞ্জিত রায়ের শ্রীপালি ভান্ডার নামে গোদাম সহ একটি মাত্র টিসিবি অনুমোদিত ডিলার রয়েছে। ডিলার মালিক রঞ্জিত রায় ট্যাগ অফিসার মৎস্য কর্মকর্তা মামুনুর রহমানের সহযোগিতায় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ইচ্ছে মাফিক টিসিবি’র মালামাল বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। ডিলারের গোদামের স্থান হবিবপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর বাজারে। অথচ এক কেজি মাল ও গোদামে আসেনি। ডিলার তার পছন্দের বিভিন্ন জায়গায় মাল রাখেন।
টিসিবি আইনে উল্লেখ রয়েছে, যেখানে গোদাম সেখানেই মাল সংগ্রহ করে তদন্তকারী অফিসার গোদাম পরিদর্শন পূর্বক মাল বিক্রির অনুমোদন দেবেন। কিন্তু সেটি একেবারেই হচ্ছে না বরং তাদের মতো করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে নামমাত্র মাল বিক্রি করছে। সরজমিনে সোমবার বেলা দেড়টায় আটগাঁও ইউনিয়নের দাউদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন দৃশ্য লক্ষ করা যায়। নেই নিরাপত্তার দায়িত্বে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, নেই তদন্তকারী অফিসার, ডিলার নিজেও অনুপস্থিত। বহু মানুষ করোনা আতংকের মধ্যেও লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন ।
এলাকাবাসী বলছেন, এখানে সরকারি অফিসার কেউ আসেইনি। কত আকাম যে হচ্ছে তার হদিস নেই। মাল ক্রয় করতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, আমাদের নাম পত্রিকায় লিখবেন না, লিখলে পরে আমাদের মাল দিবে না। তারা বলেন, কি পরিমান মালামাল তারা আনে কেউ জানে না। নামেমাত্র কিছু মালামাল দিয়ে বলে জিনিস নাই। তখন আর কিছু করার থাকে না। তাদের অভিযোগ সরকারি লোকজন থাকলে ক্রেতারা উপকৃত হতো।
ডিলার রঞ্জিত রায় বলেন, এখন সপ্তাহের ৭ দিন ৫ প্রকার মাল উত্তোলন করেন। প্রত্যেক দিন ১ হাজার কেজি চিনি, ১ হাজার লিটার তৈল, ২০০ কেজি ডাল, ৫০০ কেজি ছোলা ও ১০০ কেজি খেজুর। এসব মালামাল সঠিক ভাবে বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এসবই হচ্ছে প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে। দুর্নীতি অনিয়মের মাধ্যমে এসব মালামাল বিক্রির খোঁজ খবর নিতে এসে প্রশাসনের কাউকে চোখে পরেনি।
সামনে গিয়ে দেখা যায় লাইনের সামনে সাদা পাঞ্জাবী পরিহিত একজন লোক মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে আর গেইটের বিতর থেকে কমরুজ্জামান নামে একজন মাল দিচ্ছে। লাইনের সামনের তিনি কে জানতে চাইলে পাশের লোকজন জানালেন উনার নাম আব্দুল হেকিম।
এসময় লোকজন বলাবলি করছিল প্রশাসনের লোকজন না থাকায় ব্যপক অনিয়ম হচ্ছে। এসময় কয়েকজন জানান, তাদেরকে ১১টায় আসার কথা বলেছে ডিলারের লোকজন। কিন্তু মাল বিক্রি শুরু করেছে ১ টায়। মানুষের লাইন দেখে ভয় হচ্ছে, করোনা ভাইরাসে কখন যে কে আক্রান্ত হয় বলা কঠিন। তার উপর কিছু মাল বিক্রি করেই বলবে মাল নাই। পরে অধিকাংশ মালামাল ডিলার কালো বাজারে বিক্রি করে বলে তারা অভিযোগ করেন ।
এ বিষয়ে তদন্তকারী অফিসার মামুনুর রহমানের ফোনে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেন জানান, ডিলারকে মৌখিক ভাবে উপজেলার ৭ টি স্থানে মালামাল বিক্রি জন্য বলেছি। সেখানে সপ্তাহে ১ দিন করে মাল বিক্রি করবে তদন্তকারী অফিসারের উপস্থিতিতে। যদি এমন না হয় তাহলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • [১]