- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শাল্লায় ধান সংগ্রহ কমিটির সভায় অনুপস্থিত চেয়ারম্যানরা

শাল্লা প্রতিনিধি
শাল্লা ধান সংগ্রহ কমিটির সভায় কোন চেয়ারম্যান অংশগ্রহণ করেননি। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ৪ ইউপি চেয়ারম্যানসহ কমিটির অধিকাংশ সদস্য সভায় উপস্থিত ছিলেন না।
বুধবার বেলা ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেনের সভাপতিত্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আগামী মে মাসের ৫ তারিখ কৃষিকার্ড সংগ্রহের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এছাড়াও ৭ মে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা এবং একজন কৃষক সর্বোচ্চ দুই টন ধান দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
জানা যায়, সভায় নামে মাত্র সরকারি ৪ থেকে ৫ জন অফিসার ব্যাতিত কমিটির অন্য কোন সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এ নিয়ে উপজেলায় আলোচনার ঝড় উঠেছে।
সচেতন মহল বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ সভায় জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে কোন সিদ্ধান্ত নেয়াও শুভ নয়। যেখানে জনতার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় জড়িত রয়েছে সেই সভায় জনপ্রতিনিধি অনুপস্থিত সত্যি দুঃখজনক। তবে জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ধান দেওয়া হয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। আমরা মিটিংয়ে যে সিন্ধান্ত নেই পরে এটা ঠিক থাকে না। আমাদের কথার মূল্যায়ন করা হয় না। কেউ আবার বলেন আমি সভার চিঠি পাইনি।
তবে একটি সূত্রে নিশ্চিত করেছে, গত বছরের ধান ক্রয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কৃষক তালিকা তৈরির হলে ও পরে নয়ছয় হয়েছিল। এ জন্যই তারা সভা বয়কট করেছেন।
এ বিষয়ে ১ নং আটগাঁও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, মিটিংয়ে গিয়ে কি হবে। ধান দেওয়া হয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। লটারির মাধ্যমে যে তালিকা করা হয় এর পরেও ধান দিতে আরেক জনের অনুমতি লাগে। আমরা মিটিংয়ে যে সিন্ধান্ত নেই পরে এটা ঠিক থাকে না। এখানে অনেক বড় সিন্ডিকেট আছে।
২নং হবিবপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল অবশ্য বলেছেন শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি সভায় যেতে পারিনি।
৩নং বাহাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিধান চৌধুরী বলেন, আমি সভার চিঠি পাইনি। আমাকে সভার আধাঘন্টা আগে ফোনে জানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সভায় গিয়ে কি লাভ, আমাদের কথার যথাযত মূল্যায়ন করা হয় না।
৪ নং শাল্লা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জামান চৌধুরী ফুল মিয়া বলেন, ফোনে সব কথা বলা যাবে না বলে লাইন কেটে দেন।
ভাইস চেয়ারম্যান দীপু রঞ্জন দাস ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অমিতা রানী দাস বলেন, এই সভা সংক্রান্ত বিষয়ে তারা কোন চিঠি পাননি ।
উপজেলা চেয়ারম্যান আল আমিন চৌধুরী বলেন, আমি বাহিরে ছিলাম। আমাকে সভার সিদ্ধান্তের বিষয় ফোনে জানানো হয়। আমি সভার সিদ্ধান্তে সহমত প্রকাশ করেছি। পরে জানতে পারি সভায় কোন চেয়ারম্যান যাননি। যেখানে চেয়ারম্যানবৃন্দ অনুপস্থিত রয়েছেন সেখানে সহমতের প্রশ্নই আসে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ধান ক্রয় কমিটির সভাপতি আল মুক্তাদির হোসেন বলেন, সবাইকে জানানো হয়েছে। কৃষি কাজের জন্য হয়তো উনারা সভায় আসতে পারেন নি। জেলার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের সভার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।

  • [১]