হাটবাজারের আওতায় থাকা সরকারি মালিকানাধীন জায়গায় অবস্থিত দোকানকোঠা থেকে ২৮ কিংবা ৪১ বছরের সেলামী আদায় না হওয়া রাজস্ব খাতে অব্যবস্থাপনার পরিচায়ক। অথচ এরকম কা-ই ঘটেছে জেলার শাল্লা উপজেলায়। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় শাল্লা উপজেলা সদরের (ঘুঙ্গিয়ারগাঁও) বাজারের সরকারি জমিতে অবস্থিত ১০৫টি ভিটের সরকারি রাজস্ব বিগত ২৮ থেকে ৪১ বছর পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি। সম্প্রতি বকেয়া সেলামী একাকালীন গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিলম্বে হলেও সরকারি রাজস্ব আদায়ের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এজন্য উপজেলা ভূমি প্রশাসনকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। সমস্যা অন্য জায়গায়। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তুলেছেন সেলামীর টাকা যা বছর প্রতি শতকে ২ হাজার টাকা হারে নির্ধারণ করা হয়েছে, তার অতিরিক্ত জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত দাবি করা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের নিকট। সরকারি সেলামীর টাকা দিতে ব্যবসায়ীদের কোনো আপত্তি নেই। তাদের আপত্তি সেলামীর অতিরিক্ত টাকা প্রদানে। আমাদের প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দুর্নীতির ভূত রয়েছে এটি তার প্রমাণ। এরকম অনৈতিক লেনদেন থেকে ব্যবসায়ীদের মুক্তি দেয়া উচিৎ।
উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে সেলামীর অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও ওই কর্মচারী সংবাদ মাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগটি মিথ্যা দাবি করেছেন। কেউই নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্বীকার করেন না। তবে যা রটে তা কিছু না কিছু বটে অবশ্যই। এই জায়গায় আরও সমস্যা হলো- বন্দোবস্ত গ্রহীতা ব্যবসায়ীরাও প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারাও গণমাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করছেন না। তাদের ভয় এই কারণে যদি ব্যবসায়ীদের ভিটার বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়, যেরকম হুমকি তারা পেয়ে আসছেন, তাহলে তলেমূলে তাদের ক্ষতি। আমাদের প্রশাসনের প্রচলিত সংস্কৃতিতে এরকম ত্রিশঙ্কু অবস্থা অবাস্তব নয়। কেউ স্বীকার করুক চাই না করুক ডালমে কুচ কালা হ্যায়, এটি বেশ বুঝা যায়। শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেছেন, তিনিও এরকম কিছু কথা শুনেছেন। বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে তিনি বসবেন বলে গণমাধ্যমকে বলেছেন।
আমরা মনে করি সরকারি ভূমির উপর স্থাপিত ভিটের বার্ষিক সেলামীর টাকা বহু বছর ধরে বকেয়া থাকার কারণেই এ ধরনের অবস্থার উদ্ভব ঘটেছে। বছর বছর সেলামীর টাকা নিয়ে নিলে কোনো সমস্যা তৈরি হত না। উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর পদ শূন্য থাকার জন্য সেলামী বকেয়া থাকার এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের জনৈক ব্যক্তি। এটি গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ হতে পারে না। কারণ সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর পদে সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা না থাকলেও ওই পদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সবসময়ই ছিলেন। উপজেলায় ভূমি রাজস্ব প্রশাসনের সমস্ত কাজ যদি চলতে পারে তাহলে সেলামী আদায়ের কাজটিও চলতে পারত। মূলত এই দিকে নজরদারির অভাবেই এরকমটি ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত যে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার বকেয়া সেলামী আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছেন সেটিই প্রশংসাযোগ্য।
বন্দোবস্ত গ্রহীতা ব্যবসায়ীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে সরকারি রাজস্ব পরিশোধে আপনারা অহেতুক কোনো অজুহাত তৈরি করবেন না। রাজস্ব পরিশোধে কোনো অনৈতিক প্রস্তাব পেলে সুনির্দিষ্টভাবে কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করুন। মনে রাখবেন কথাও বলবেন না আবার প্রতিকারও চাইবেন এই ধরনের সুবিধাবাদী মনোভাব কখনও ভাল ফল বয়ে আনে না। ভূমি প্রশাসনের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে ব্যবসায়ীদের আস্থার মধ্যে নিয়ে তাদের নিকট থেকে সরকারি রাজস্ব আদায় করুন। যে বা যারা রাজস্ব আদায় কালে কথিত ঘুষ দাবি করেন সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। ভবিষ্যতে যাতে সেলামী বা সরকারি রাজস্ব নিয়মিত আদায় হয় তাও নিশ্চিত করা একইসাথে জরুরি।