স্টাফ রিপোর্টার, শাল্লা
শাল্লা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে অফিস সহায়ক সাদ্দাম হোসেন।
জানা যায়, উপজেলা হবিবপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের মৃত নায়েব আলী মিয়ার এক মাত্র ছেলে (২৮) বছরের সাদ্দাম হোসেন। সে ৬ বোনের একমাত্র ভাই ছিল। সাদ্দাম প্রতিদিনের ন্যায় বুধবারও অফিসে আসে। বিকালে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অমিতা রানী দাসের অফিস কক্ষে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। অফিস শেষে চেয়ারম্যানের কক্ষের দরজা খোলা দেখে সহকর্মীরা দরজা বন্ধ করতে গিয়ে এ দৃশ্য দেখে চিৎকার দিলে লোকজন এসে ইউএনও এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে খবর দেন। খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেন এবং থানায় খবর দেন।
শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানালার সঙ্গে গালায় ফাঁস লাগা অবস্থায় সাদ্দাম হোসেনের লাশ দেখতে পাই। লাশের সুরতহাল শেষ করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করা হয়।
সাদ্দামের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাল্যবন্ধু কাশিপুর গ্রামের সুরঞ্জিত দাস কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, দাদা জীবনে বহু বন্ধু পাব, কিন্তু সাদ্দামের মতো এত ভাল মনের বন্ধু আর পাবো না। সে জীবন কারো সঙ্গে কোন খারাপ ব্যবহার করেনি। তার মৃত্যুতে হিন্দু মুসলিম সকলেই চোখের জল ফেলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অমিতা রানী জানান, আজ আমার শরীরটা ভাল ছিল না বলে অফিসে যাওয়া হয়নি। তবে তিনি সাদ্দামের মৃত্যুতে খুবই ব্যথিত। তিনি বলেন, বহু ছেলে দেখেছি কিন্তু সাদ্দামের মত একটি ভাল ছেলে আজ পর্যন্ত দেখেনি। সে সব সময় হাসি মুখে কথা বলতো। এমন একটি ছেলের মৃত্যু সত্যিই কষ্টকর।
শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল আমিন চৌধুরী বলেন, বিশ্বাস করতে পারছিনা সাদ্দামের মত একটি ভাল ছেলে এমন কাজটি করতে পারে। যতদিন অফিসে কাজ করেছে একদিনও তার ব্যবহার খারাপ দেখিনি। তিনি তার অকাল মৃত্যুতে শোকাভিভূত এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব জানান, সাদ্দামের আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে ঘটনা স্থলে আসি এবং পুলিশ কে আসতে বলি। পুলিশ এসে লাশ নামিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ পাঠানোর জন্য প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।